পাখি
পালকের স্পর্শে ভেঙে গেছে ঘুম—
এখন রাতভর জেগে থাকি পাখির স্বপ্নে
বিমূর্ত প্রেমের জৌলুস রঙ খেলে
জেগে আর ঘুমে শুধুই অঙ্কুরিত ভ্রম
আফ্রোদিতির আত্না ভর করে দেহের গহীনে
একপেগ মদ ঠোঁটে ঢেলে ফাঁদ পেতে থাকি
সোনাপাখির আদি-অন্তে সুখ ছড়াব বলে।
সুখের অফুরন্ত বৃষ্টি আচ্ছন্ন করে ডুবিয়ে
তলিয়ে যায় সমস্ত জনপদ
যেখানে পাখি নেই—কেবলি তার আবেশ
পালকে কাম, পালকে প্রেম-কাহারবা, দাদরা, ঝুমুর…
বিষণ্নতার দিন ভেঙে জ্যোস্নার উজ্জ্বতায় গান হবে
ও পাখি, এসো জেগে আছি মহাকালের রথে—
তোমার ধ্রুপদী রঙে আমাকে সাজাবে বলে!
কাশফুল
এত মসৃণতা বুকের পরতে পরতে
অবলীলায় ঢেউ তোলে প্রত্নতাত্ত্বিক যমুনায়
কত জল কত পুষ্পঘ্রাণ তালুতে তুললাম
কপোলে ছোঁয়ার আগেই মিশে যায় বাতাসে
অথচ সরিষা বিন্দুর মতো কী সব দৃঢ়তা
তেলে জলে মেলানোর বোকামি করেছি কিছুদিন
কাশফুলের মিহি প্রেম ফেরায় প্রগাঢ়তায়
প্রেইরির পারে শুভ্রতা বেয়ে জীবনী ছড়াও
আর যমুনায় শূন্যতা জাগে বিকেল হলেই ;
বারিধারার পথে পথে চাঁদের নাটকীয় আলো
ফ্লৌরসেন্ট খোলে বিরহ ঢেলে…
কাশফুল,ব্যাকুলতার কথা মনে পড়ে?
এত স্নিগ্ধতা দৃষ্টির মাঝে জমা রাখো যে—
অকপটে বিলিয়ে দিতে চাই নিজেকে শুভ্র আগুনে…
মানুষ
জন্ম আর জলের খেলা বেদনাসঙ্গম
তাড়া করে, তন্দ্রাকে ঘুম ছুঁতে দেয় না
ঘাতক বেশে তাড়া করে হরণ তালে
দৌড়ে বাঁচতে চাই কাকতাড়ুয়ার সার্টের কার্নিশে
বনময় শূন্যতা ঘরময় আঁধার
এখানে ছিল না কেউ ওখানেও নেই
শুধু মৃত্যু দ্যূতের পিছু তাণ্ডব
পা আর চলছে না…
বনবনান্তে দৌড়ে—বুকের শব্দ বেড়ে গেলে একটা মানুষ খুঁজি,
মানুষ—যাকে বুকে ধরলে ভয় শব্দ পালায়
স্পর্শ
স্পর্শ—এক পশলা বৃষ্টির জন্ম দিল
আপাদমস্তক একটা জীবন্ত কবিতা
উঠে এসেছিল সিঁড়ি বেয়ে।
অপলক চেয়ে দেখি তার পানিশূন্যতা
গ্রাস করেছে লাল ওড়নার ভাঁজ
ঝরে পড়েছে পাপড়ি, ভিজে গেছি আমি
মৃদুমন্দ হাওয়ায়; ছোঁয়ামাত্র কবিতা
আপন হওয়া যে এত সহজ
আগে জানা ছিল না।

