বাংলাদেশের উত্তর পশ্চিমাঞ্চলীয় সীমান্তবর্তী বিভাগীয় শহর রাজশাহী। রাজশাহী শব্দটি বিশ্লেষণ করলে দুটি ভিন্ন ভাষার একই অর্থবোধক দুটি শব্দের সংযোজন পরিলক্ষিত হয়। সংস্কৃত রাজ ও ফারসি শাহ-র বিশেষণ শাহী শব্দযোগে রাজশাহী শব্দের উদ্ভব যার অর্থ একই। অর্থাৎ রাজা বা রাজা-রাজকীয় বা বাদশাহ বা বাদশাহী। ইতিহাসবিদরা বলে থাকেন এই জেলায় অনেক রাজা-জমিদারের বসবাস ছিল যার কারণে নামকরণ করা হয় রাজশাহী যা সেই প্রাচীন আমল থেকেই শিক্ষা, সংস্কৃতি ও সাহিত্যচর্চার অন্যতম চারণভূমি হিসেবে সমধিক পরিচিত। সাহিত্যকর্মের অনেক ঐতিহ্য বহন ও ধারণ করে আসছে পদ্মা বিধৌত বরেন্দ্র অঞ্চল এই রাজশাহী। উনিশ শতকের শেষ দশকে রাজশাহীতে রাজশাহী এসোসিয়েশন আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রবন্ধ পাঠ, বিশ শতকের দ্বিতীয় দশকে রাজশাহীতে উত্তরবঙ্গ সাহিত্য সম্মেলনে প্রমথ চৌধুরীর অভিভাষণ, তৃতীয় দশকে মুসলিম ক্লাবের উদ্যোগে কাজী নজরুলের রাজশাহীতে আগমন ইত্যাদি সবকিছুই গর্বিত রাজশাহীর স্মারক বহন করে। মধ্যযুগের প্রখ্যাত কবি নরোত্তম দাস ঠাকুর, অষ্টাদশ শতকে গুপিচন্দ্রের সন্ন্যাস প্রণেতা কবি শুকুর মামুদ, ঐতিহাসিক অক্ষয় কুমার মৈত্রেয়, কান্তকবি রজনীকান্ত সেন, রাজা কৃষ্ণেন্দু রায়, প্রখ্যাত চলচ্চিত্রকার ঋত্নিক ঘটক এবং পরবর্তীতে বিশিষ্ট শিশুসাহিত্যিক বন্দে আলী মিয়া, উপমহাদেশের প্রখ্যাত কথাসাহিত্যিক হাসান আজিজুল হক, প্রাবন্ধিক ও গবেষক সনৎকুমার সাহা, কথাসাহিত্যিক সেলিনা হোসেন, কবি জুলফিকার মতিন প্রমুখ খ্যাতিমানদের রাজশাহীতে অবস্থান রাজশাহীর সাহিত্যাঙ্গনকে করেছে অনেক সমৃদ্ধ, অনেক আলোচিত।
শিশুসাহিত্য নিয়ে কথা বলতে গেলে বলতে হয় রাজশাহীর শিশুসাহিত্যকে বিশেষ মাত্রায় নিয়ে গেছেন এমন শিশুসাহিত্যিক্যের সংখ্যা কম নয়। উত্তরের অন্যতম বিদ্যাপীঠ এই রাজশাহীতে অনেক উল্লেখযোগ্য শিশুসাহিত্যিক জন্মগ্রহণ করেছেন আবার অনেকেই এখানে জন্ম না নিলেও বিভিন্ন স্থান থেকে এসে এই মাটিতে পরবর্তীতে স্থায়ী বাসিন্দা হয়েছেন। অর্থাৎ তাদেরকে এখন রাজশাহীর মানুষই বলা যায়। আবার অনেকেই রয়েছেন যারা পড়াশোনা বা কর্মসূত্রে রাজশাহীতে বেশ কিছুদিন অবস্থান করে রাজশাহীর শিশুসাহিত্য চর্চার ধারাকে বেগবান করেছেন। অনেকেই রয়েছেন যারা পেশাগত কারণে রাজশাহীর বাইরে চলে গেলেও সেখানে থেকে চর্চা অব্যাহত রেখেছেন। কেউ শুধু শিশুসাহিত্যকে বুকে লালন করে শুধু শিশুদের জন্যই লিখে গেছেন বা লিখছেন আবার অনেকেই রয়েছেন যারা বড়দের সাহিত্যের পাশাপাশি শিশুসাহিত্যকেও ধারণ ও লালন করেছেন। আবার এমন লেখকের সংখ্যা কম নয় যারা একসময় প্রচুর লিখতেন কিন্তু পরবর্তীতে বিভিন্ন কারণে এই ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে পারেননি। এই প্রবন্ধে তাদের সবাইকেই পর্যায়ক্রমে আলোচনায় নিয়ে আসার চেষ্টা করা হয়েছে।
রাজশাহীর উল্লেখযোগ্য শিশুসাহিত্যিক, যাদের জন্ম রাজশাহীতে কিংবা অন্য জেলা থেকে এসে পরবর্তীতে রাজশাহীর স্থায়ী বাসিন্দা হয়েছেন তাদের তথ্য নিম্নে উল্লেখ করছি-
হাসান আজিজুল হক (১৯৩৯:২০২১)
উপমহাদেশের প্রখ্যাত কথাসাহিত্যিক হাসান আজিজুল হকের নামের সাথে পরিচিত নন কিন্তু লেখালেখির সাথে যুক্ত এমন মানুষ খুব কমই রয়েছেন। ষাটের দশকে আবির্ভূত এই কথাসাহিত্যিক তার সুঠাম গদ্য এবং মর্মস্পর্শী বর্ণনাভঙ্গির জন্য দুই বাংলাতেই সমান জনপ্রিয়। তিনি ১৯৭০ সালে বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার লাভ করেন। বাংলাদেশ সরকার তাকে ১৯৯৯ সালে একুশে পদকে ও ২০১৯ সালে স্বাধীনতা পুরস্কারে ভূষিত করে। এই অসামান্য গদ্যশিল্পী তার সার্বজৈবনিক সাহিত্যচর্চার স্বীকৃতি স্বরূপ ২০১৮ সালের সেপ্টেম্বরে ‘সাহিত্যরত্ন’ উপাধি লাভ করেন। পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার যবগ্রামে এক সম্ভ্রান্ত এবং একান্নবর্তী পরিবারে জন্মগ্রহণ করলেও জীবনের অধিকাংশ সময় তিনি রাজশাহীতে কাটিয়েছেন, পড়াশোনা করেছেন, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে দীর্ঘদিন শিক্ষকতা করেছেন। সবশেষে রাজশাহীতে তার নিজস্ব বাসভবন ‘উজান’ এ মৃত্যুবরণ করেছেন। বড়দের সাহিত্যের সাথে বেশি যুক্ততা থাকলেও তিনি শিশুকিশোরদের জন্য রচনা করেছেন তার অনবদ্য উপন্যাস- লালঘোড়া আমি। এছাড়া, রচনা করেছেন শিশুতোষ গল্প:ফুটবল থেকে সাবধান।
আশফাকুল আশেকীন (১৯৪৪- )
চিত্রশিল্পী এবং শিশুসাহিত্যিক। শিক্ষকতা করেন। প্রকাশিত গ্রন্থ:ক্লাসে মিষ্টি একটা পরি, ছড়াপাত। সম্পাদিত ছড়াগ্রন্থ:রাজশাহীর ছড়া (যৌথ সম্পাদনা)।
আনোয়ারুল আবেদীন (১৯৪৪-২০০৪)
বড়দের লেখালেখির পাশাপাশি ছোটদের জন্যও লিখেছেন। রম্যরচনায় বিশেষ পারদর্শী ছিলেন। প্রকাশিত গ্রন্থ:যঃপলায়তি।
জুলফিকার মতিন (১৯৪৬-)
জন্ম সিরাজগঞ্জে হলেও এখন রাজশাহীর স্থায়ী বাসিন্দা। কবি ও প্রাবন্ধিক। পেয়েছেন বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার। বড়দের লেখালেখির পাশাপাশি ছোটদের জন্যও লিখেছেন। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ছিলেন। প্রকাশিত ছোটদের গ্রন্থ:টেলিমেকাস।
এম এ কাইউম (১৯৪৮-)
চিত্রশিল্পী ও শিশুসাহিত্যিক। সম্পাদিত ছড়াগ্রন্থ:গাঙপাড়ের ছড়া, রাজশাহীর ছড়া (যৌথ সম্পাদনা)
রুহুল আমিন প্রামাণিক (১৯৪৮-)
রাজশাহীর অন্যতম সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব। সরকারি কলেজে শিক্ষকতা করতেন। এখন অবসরে রয়েছেন। বড়দের লেখালেখির পাশাপাশি ছোটদের জন্য লিখেন। প্রকাশিত গ্রন্থ:চির শিশু চির কিশোর।
সুখেন মুখোপাধ্যায় (১৯৪৮-)
সরকারি চাকুরি করতেন। এখন অবসরে আছেন। প্রকাশিত শিশুতোষ গ্রন্থ- লাল মোরগের বিয়ে।
শামসুল হক কোরায়শী (প্রয়াত)
প্রকাশিত গ্রন্থ:ভয়ের শেষে বীরের বেশে, পান্তাবুড়ি শান্তাবুড়ি, ভূবনডাঙ্গার ভূত।
অধ্যাপক ফজলুল হক (প্রয়াত)
প্রকাশিত গ্রন্থ:শিশুর পড়া মজার ছড়া, অক্ষয়কুমার মৈত্রেয়, চলো যাই মুর্শিদাবাদ ইত্যাদি।
পূরবী জাফর (১৯৫২- )
প্রকাশিত গ্রন্থ:আরেক আকাশ, যখন খুলেছ মেঘের জানালা, রং ও রেখা ইত্যাদি।
দীপক দাস (১৯৫৫- )
ছোটদের জন্য গল্প, প্রবন্ধ লিখে থাকেন। পেশাগত জীবনে শিক্ষকতা পরবর্তীতে রাজশাহী শিক্ষাবোর্ডের চেয়ারম্যান ছিলেন। প্রকাশিতব্য কিশোর গল্পগ্রন্থ:হীরামতি।
সরদার আব্দুর রহমান (১৯৫৫-)
পেশায় সাংবাদিক। প্রকাশিত ছড়াগ্রন্থ- শব্দ শুনে জব্দ।
সরদার আবুল হাসান (১৯৫৬-)
জন্ম সাতক্ষীরা হলেও রাজশাহীতে স্থায়ীভাবে বসবাস করছেন। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ডেপুটি রেজিস্ট্রার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। এখন অবসরে রয়েছেন। প্রকাশিত ছড়াগ্রন্থ:৮টি । দাদু ডাকে নাতি কই, আকুম বাকুম, মন উড়ে যায়, এক যে ছিল দুষ্টু ছেলে, ভূতের ছেলে ভূতুম, পুতুল নাচে তা ধিন ধিন,ঝুমুর ঝুমুর, হাওয়ায় ওড়ে মন।
অনীক মাহমুদ (১৯৫৮-)
কবি, প্রাবন্ধিক ও গবেষক। বড়দের পাশাপাশি ছোটদের জন্যও লিখে থাকেন। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ছিলেন। মোট প্রকাশিত গ্রন্থ ১০০টির অধিক তন্মধ্যে শিশুকিশোর উপযোগী গ্রন্থ প্রায় ৩০টি। ছড়াগ্রন্থ:ভরদুপুরে আমার মাকে, দুলকি ঘোড়া চাবুক কড়া, শেয়াল মামার খেয়াল, নানুর বাড়ি কানুপুরে, আকাশ গাঙে তারার ভেলা, জন্মভ’মি জননী তুমি ইত্যাদি। কিশোর গল্পগ্রন্থ:বিড়ালবতী রাজকন্যে, গাজীমামার গল্পসল্প, গাজীমামার বৈঠকী গল্প, গাজীমামার সরস গল্প, গাজীমামার আষাঢ়ে গল্প, গাজীমামার ঐতিহাসিক গল্প, গাজীমামার খোশগল্প, গাজীমামার আদর্শ গল্প, গাজীমামার নীতিগল্প, গাজীমামার একুশের গল্প, গাজীমামার বিচিত্র গল্প, গাজীমামার ভ্রমণের গল্প, দোলনের একদিন, প্রজাপতি, তেপান্তরের গল্প,তিন ফুলের পাপড়ি ইত্যাদি। কিশোরজীবনী:ছোটদের কাজী নজরুল। কিশোর প্রবন্ধগ্রন্থ:ছোটদের কবিতা লেখার নিয়মকানুন।
জাইদুর রহমান (১৯৫৯-)
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ডেপুটি রেজিস্ট্রার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। প্রকাশিত গ্রন্থ:ফুটুস ফাটুস (ছড়া), তেঁতুলগাছের ভূত (গল্প), পদ্মাপাড়ের ছড়া (যৌথ ছড়াগ্রন্থ)। একসময় ইসলামিক ফাউন্ডেশন রাজশাহী থেকে প্রকাশিত ছোটদের মাসিক পত্রিকা ময়ূরপঙ্খি সম্পাদনা করতেন।
হাসনাত আমজাদ (১৯৬০-)
হাসনাত আমজাদ মূলত একজন ছড়াকবি ও শিশুসাহিত্যিক। জন্ম রাজশাহীতে। পাঁচ দশকেরও কাছাকাছি সময় থেকে লেখালেখির সঙ্গে যুক্ত আছেন তিনি। বাংলাদেশের বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় তার লেখা ছড়া, কিশোর কবিতা, সমকালীন ছড়া, গল্প, প্রবন্ধ প্রতিনিয়তই চোখে পড়ে। বড়দের জন্যও লেখেন তিনি, তবে তা খুব অল্প। লেখালেখির শুরু সত্তর দশকের শেষার্ধে। এ পর্যন্ত তার মোট প্রকাশিত গ্রন্থ ১৫টি। শিশু ও কিশোর উপযোগী ছড়া-কবিতাগ্রন্থ ১১টি যথাক্রমে মাঠের ছবি ঘাটের ছবি, যাই হারিয়ে ছেলেবেলোয়, ভূত এসেছে বইমেলাতে, স্মৃতির ডানায় কিশোরবেলায়, যখন আমার একলা দুপুর, নির্বাচিত কিশোরকবিতা, একদিন সারাদিন, এক বিল্ডিংয়ে থাকে সব ওরা, এখানে এই টুঙ্গিপাড়ায়, একখানা বই রঙিন মলাট, পর্যটকের বেশে ঘুরব সারা দেশে। সমকালীন ছড়াগ্রন্থ ২টি যথাক্রমে দেখছি এমন কেন, তেলাপোকা হবে তেলাপাখি। কিশোর গল্পগ্রন্থ একটা লিচু ও অন্যান্য গল্প। প্রবন্ধগ্রন্থ:ছড়ানো গদ্য। ছাত্রজীবনে লেখালেখির পাশাপাশি বিভিন্ন সাহিত্য-সাংস্কৃতিক সংগঠনের সাথে যুক্ত ছিলেন। আশির দশকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র থাকাকালীন সময়ে রাজশাহীর অন্যতম সাহিত্য সংগঠন রবিবাসরীয় সাহিত্য সংসদ এর প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক ছিলেন তিনি। সাহিত্যকর্মে অবদানের জন্য পেয়েছেন ‘অগ্রণী ব্যাংক- শিশু একাডেমি শিশুসাহিত্য পুরস্কার’ ২০১৩, ‘অধ্যাপক মোহাম্মদ খালেদ শিশুসাহিত্য পুরস্কার’ ২০১৩, ‘দৈনিক বাঙালির কণ্ঠ লেখক পুরস্কার’ ২০১৮, বাংলাদেশ শিশুসাহিত্য একাডেমি প্রদত্ত ‘শিশুসাহিত্য সম্মাননা’ ২০২২, ‘মীর মশাররফ হোসেন সাহিত্য পদক’ ২০২২, ‘চর্যাপদ সাহিত্য একাডেমি শিশুসাহিত্য পুরস্কার’ ২০২৪, ‘ফিরে দেখা সাহিত্য পুরস্কার’ ২০২৫, ‘বগুড়া লেখক চক্র পুরস্কার’ ২০২৫, ‘এসবিএসপি সাহিত্য পুরস্কার’ ২০২৫ ইত্যাদি। এছাড়াও পশ্চিমবঙ্গ থেকে পেয়েছেন নিখিল ভারত শিশুসাহিত্য সংসদ প্রদত্ত ‘চর্যাপদ সম্মাননা’, ২০১৭ এবং ‘আলোর ফুলকি সম্মাননা’ ২০২৩, সোনারপুর কাব্যমঞ্চ, কোলকাতা প্রদত্ত ‘শিউলী স্মৃতি স্মারক সম্মাননা’, ২০১৭ ইং সহ বিভিন্ন পুরস্কার। কর্মজীবনে তিনি বিভিন্ন বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থায় মাইক্রোফিন্যান্স প্রোগ্রামে কাজ করেছেন। সবশেষে একটি প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ছিলেন। রাজশাহী লেখক পরিষদের সহ-সভাপতি। সম্পাদনা করেন মনন উৎকর্ষী সাহিত্য কাগজ- ডাকঘর।
আসাদুজ্জামান খোকন (১৯৬০-)
চিত্রশিল্পী ও শিশুসাহিত্যিক। প্রকাশিত কিশোর কবিতাগ্রন্থ:পা বাড়িয়ে পথ হারিয়ে।
মনিরা কায়েস (১৯৬১-)
মূলত কথাসাহিত্যিক। বড়দের পাশাপাশি ছোটদের জন্যও লিখে থাকেন। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলা বিভাগের অধ্যাপক।
প্রকাশিত কিশোর গল্পগ্রন্থ:বদলে যাওয়ার দিন, সত্যি ভূতের গল্প, ভূতের আমি ভূতের তুমি।
নাজিব ওয়াদুদ (১৯৬১-)
কথাসাহিত্যিক, প্রাবন্ধিক ও শিশুসাহিত্যিক। পেশায় চিকিৎসক। বড়দের পাশাপাশি ছোটদের জন্যও লিখে থাকেন। প্রকাশিত শিশুতোষ গ্রন্থ:ফুলকুড়ুনি ধানকুড়ুনি (ছড়া), ফুল্লরা (উপন্যাস), স্বর্ণনদীর রাজা (অনুবাদ উপন্যাস)।
মালেক মেহমুদ (প্রয়াত)
বড়দের লেখার পাশাপাশি ছোটদের জন্যও সাহিত্য রচনা করেছেন। প্রকাশিত ছড়াগ্রন্থ:দিন ফুরালো রাত ফুরালো, সূর্য ওঠে গোলাপ ফোটে।
মনোরঞ্জন নন্দী
প্রকাশিত গল্পগ্রন্থ:সবুজ দ্বীপের উপকথা।
আশরাফুল আলম পিনটু (১৯৬৪:২০২৪)
বাংলাদেশের শিশুসাহিত্যাঙ্গনে আশরাফুল আলম পিনটু এক অতি পরিচিত নাম। মূলত কথাসাহিত্যিক। ছোটদের উপযোগী গল্প-উপন্যাস লিখেছেন প্রায় ৩০টি। পাশাপাশি ছড়াও লিখেছেন প্রচুর। প্রকাশিত গ্রন্থ:শ্মশানতলির সার্কাস, পরি আমার বোন, আনন্দবনের পাখিরা, দাদুর বেড়াল, ধলপহরের আগে, ছোট পাখি আর মেঘ, কুয়োব্যাঙের একদিন, ছোট নদী আর ছোট মাছ, টুপিন ভাই জিন্দাবাদ, বড়ভাই ছোটভাই, ছোটদের গল্প, লেজওলা ঘুড়ি ইত্যাদি। ছোটদের জন্য অনুবাদগ্রন্থ:শেবার রাণী ও হুদহুদ পাখি, সাহসী বালক । এছাড়া তার শৈশব বিষয়ক আখ্যান- রুপকথা নয় চুপকথা সাড়া জাগিয়েছিল। বড়দের জন্য ও তার বেশ কিছু উপন্যাস রয়েছে। লেখালেখির জন্য পেয়েছেন এম নুরুল কাদের শিশুসাহিত্য পুরস্কার ২০০৮, মীনা মিডিয়া এ্যাওয়ার্ড ২০০৯ ও ২০১০, এম নুরুল ইমান খান সম্মাননা ২০০৯ সহ অনেক উল্লেখযোগ্য পুরস্কার। ছড়া একাডেমির প্রতিষ্ঠাতা মহাপরিচালক ছিলেন। একসময় কিছু পত্রিকার প্রচ্ছদও এঁকেছেন তিনি। দেশের প্রথম টিশার্ট ম্যাগাজিন খাপছড়া সম্পাদনা করেছেন। পেশায় সাংবাদিক ছিলেন। দৈনিক যুগান্তরে সিনিয়র সাব এডিটর হিসেবে দীর্ঘদিন কর্মরত ছিলেন। যুগান্তরের ছোটদের পাতা আলোর নাচন সম্পাদনা করেছেন দীর্ঘদিন। এছাড়াও সম্পাদনা করতেন ত্রৈমাসিক পত্রিকা:কিশোর, যার মোট ২১টি সংখ্যা প্রকাশিত হয়েছে।
সিরাজুদ্দৌলাহ বাহার (১৯৬৪-)
জন্ম গাইবান্ধা হলেও এখন রাজশাহীর স্থায়ী বাসিন্দা। বড়দের পাশাপাশি ছোটদের জন্যও লিখে থাকেন। প্রকাশিত ছড়াগ্রন্থ:তালপাতার বাঁশি (যৌথ)
মাহবুবুর রহমান বাদশাহ (১৯৬৬-)
জন্ম কুষ্টিয়া হলেও এখন রাজশাহীর স্থায়ী বাসিন্দা। বড়দের পাশাপাশি ছোটদের জন্যও লিখে থাকেন। পেশায় চিকিৎসক। প্রকাশিত শিশুতোষ গ্রন্থ:সোনার গাছে হীরের পাতা।
ডাবলু হাসান (প্রয়াত ২০০১)
প্রকাশিত ছড়াগ্রন্থ- প্রতিকূলে প্রতিঘাত।
মমিনুর রহমান মমিন (প্রয়াত)
প্রকাশিত ছড়াগ্রন্থ:ছুটির ছুটি।
মুকুল কেশরী (প্রয়াত)
প্রকাশিত ছড়াগ্রন্থ:কথায় কথায়।
সরদার সাইফুল ইসলাম (প্রয়াত)
প্রকাশিত গ্রন্থ:ডিগবাজি, মগের মুলুক।
রুবিনা আনিস (১৯৬৭-)
পেশায় সরকারি স্কুলের শিক্ষক। চিত্রশিল্পী ও শিশুসাহিত্যিক। প্রকাশিত গ্রন্থ- ৫টি যৌথ)।
মাহফুজুর রহমান আখন্দ (১৯৭২-)
জন্ম গাইবান্ধা হলেও এখন রাজশাহীতে স্থায়ীভাবে বসবাস করছেন। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগে অধ্যাপনা করেন। কবি, গবেষক ও শিশুসাহিত্যিক। শিশুতোষ ছড়াগ্রন্থ:স্বপ্ন দেখি মানুষ হবার, জ্বীন পরী আর ভূতোং, স্বপ্নফুলে আগুন, মামদো ভূতের ছাও, ধনচে ফুলের নাও। শিশুতোষ গল্পগ্রন্থ:জলজ রাজার দেশে, জ্বীনের বাড়ি ভূতের হাঁড়ি। শিশু-কিশোর প্রবন্ধগ্রন্থ- সংস্কারক শরীয়তুল্লাহ।
এস এম তিতুমীর (১৯৭৫-)
পেশায় স্কুল শিক্ষক। বড়দের পাশাপাশি ছোটদের জন্যও লিখে থাকেন। প্রকাশিত ছড়াগ্রন্থ:যাচ্ছে তাই।
ফজলুল হক তুহিন (১৯৭৮ -)
কবি, গবেষক ও সম্পাদক। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের বাংলা বিভাগে অধ্যাপনা করেন। মূলত বড়দের জন্য লিখেন। পাশাপাশি ছোটদের জন্যও লেখালেখি করেন। প্রকাশিত ছড়াগ্রন্থ ২টি- রঙিন মেঘের ঘুড়ি, নীল নীল রোদ্দুর।
সাজ্জাদ বকুল (১৯৭৮-)
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক। বড়দের পাশাপাশি ছোটদের জন্যও লিখে থাকেন। প্রকাশিত ছড়াগ্রন্থ:এক হাঁড়ি ছড়া।
মঈন শেখ (১৯৭৯-)
মূলত কথাসাহিত্যিক। শিক্ষকতা পেশার সাথে যুক্ত আছেন। বড়দের পাশাপাশি ছোটদের জন্যও লিখে থাকেন। প্রকাশিত কিশোর উপন্যাস -পটলডাঙ্গার পটলা, চেন্টু ভূতের পাঠশালা। গল্পগ্রন্থ- খেজুরে ভূত চশমা ভূত ইত্যাদি।
সাবরিনা ইয়াসমীন বিন্নি (১৯৮০-)
প্রকাশিত গ্রন্থ:ছড়ার ছড়াছড়ি, ছড়িয়ে দিলাম ছড়া।
শামীম হোসেন (১৯৮৩-)
বড়দের পাশাপাশি ছোটদের জন্যও লিখে থাকেন। পেশায় সাংবাদিক। প্রকাশিত শিশুতোষ গ্রন্থ:এক তুড়ি ছয় বুড়ি, নাচভাই গাছভাই।
মাসউদ আহমাদ (১৯৮৫-)
মূলত কথাসাহিত্যিক। বড়দের পাশাপাশি ছোটদের জন্যও লিখে থাকেন। প্রকাশিত ছোটদের গল্পগ্রন্থ:রুশার খাতায় ফুলের গন্ধ, পিংকি ও জীবনানন্দ কাক্কু ইত্যাদি।
আসাদুল্লাহ মামুন (১৯৭১-)
শিশুসাহিত্যিক। প্রকাশিত গল্পগ্রন্থ:নিজের ফাঁদে শেয়াল, টুলুমামার কাণ্ড, টুলুমামার মজার গল্প। কিশোর উপন্যাস- পলাশীতে পলায়ন, টুলু গোয়েন্দা। পেশাগত জীবনে কলেজে অধ্যাপনা করেন।
আলাউদ্দীন আহমেদ
প্রকাশিত গ্রন্থ -সরিষা ইলিশ, ভূতের বাড়ি তেপান্তর, আলাদিনের ছড়া।
মাসুম আওয়াল (১৯৮৬-)
শিশুসাহিত্যিক। ছড়া, কিশোরকবিতা, গল্প ও উপন্যাস লিখেন। প্রকাশিত গ্রন্থ ১৫টি। ছড়াগ্রন্থ:বাকশো ভরা একশো ছড়া, ছুটছে মজার ছড়ার গাড়ি, ভূততাড়ুয়া, আমিও ফড়িং তুমিও ফড়িং, টই টই হই চই, আমার বর্ণমালা, বর্ণমালার ফুল, বর্ণমালার পাখি, বর্ণমালার ফল, ছড়া অর্ধশত। কিশোর কবিতাগ্রন্থ:সবুজ ফড়িং হলুদ ফড়িং। গল্পগ্রন্থ:জটা কবিরাজ ও ভূতুড়ে বটগাছ, বিজ্ঞানী বুলুর মহা আবিষ্কার, আশেকীন স্যারের ক্লাসে মিষ্টি একটা পরি ইত্যাদি। কিশোর উপন্যাস:গোয়েন্দা ডব্লিউ হিস্ টিং ছট। পেশায় প্রকৌশলী। লেখালেখির জন্য পেয়েছেন আর্টলিট সেরা বই পুরস্কার ২০২৩, উত্তরণ শিশুসাহিত্য সম্মাননা ২০২৩ ইত্যাদি। সম্পাদনা করেন ছোটদের পত্রিকা:ছোটবেলা।
হাসান আবাবিল (১৯৮৬ -)
বড়দের পাশাপাশি ছোটদের জন্যও লিখেন। শিশুতোষ গ্রন্থ- ছড়িয়ে দিলাম ছড়া, ফুলফুল তুলতুল, গোঁফ কাহিনি।
সুমন শামস (১৯৮৭-)
বড়দের পাশাপাশি ছোটদের জন্যও লিখে থাকেন। পেশায় পাবনা প্রযুক্তি ও বিজ্ঞান বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক। ছড়ার বই ৪টি- খুকু তোর জন্য, খোকা তোর জন্য, ভোজবাজি ভেলকি, থলের বিড়াল।
মুহসীন মোসাদ্দেক (১৯৮৮-)
কথাসাহিত্যিক। বড়দের পাশাপাশি ছোটদের জন্যও লিখে থাকেন। প্রকাশিত ছোটদের গল্পগ্রন্থ:মগডাল বাহাদুর, রাজুর ভূতুড়ে ম্যাজিক।
চন্দ্রশীলা ছন্দা (১৯৭০ -)
বৃহত্তর রাজশাহীর চাঁপাইনবাবগঞ্জে জন্ম। ঢাকায় বসবাস করেন। বড় ও ছোট উভয়ের জন্যই লেখেন। গ্রন্থ সংখ্যা মোট -১২টি। তন্মধ্যে ছোটদের গ্রন্থ:পরির সাথে এ মন মাতে (কিশোর কবিতা), তিতলির ভালো কাজ (কিশোর গল্প), বাংলাদেশের গল্প (কিশোর গল্প), আমার আছে বিশাল আকাশ (কিশোর কবিতা), সবকিছু গল্প নয় (গল্প) ইত্যাদি। শিশুসাহিত্যে অবদানের জন্য পেয়েছেন অধ্যাপক খালেদ শিশুসাহিত্য পুরস্কার ২০২২।
সুফিয়া ডেইজী (১৯৮১-)
জন্ম চাঁপইনবাবগঞ্জে হলেও রাজশাহীতে স্থায়ীভাবে বসবাস করছেন। শিক্ষকতা পেশার সাথে যুক্ত। শিশুসাহিত্য করেন। প্রকাশিত গল্পগ্রন্থ:তিন মশার গবেষণা, মানহার টিয়া বিজ্ঞান জানে, ছোটদের ওস্তাদগিরি। ছড়ার বই:ছোট পায়ে বড় ধাপ।
পুত্র। ছড়াগ্রন্থ:দাঁত নড়েছে বাঘের। উপন্যাস- কলমভূতের কেরামতি। লেখালেখির জন্য পেয়েছেন:পাপড়ি করামত আলী তরুণ শিশুসাহিত্য পুরস্কার ২০২১।
জহির টিয়া (১৯৯০-)
জন্ম বৃহত্তর রাজশাহীর চাঁপাইনবাবগঞ্জ। শিক্ষকতা পেশার সাথে যুক্ত আছেন। প্রকাশিত গল্পগ্রন্থ: রাজকুমার ও ইগলপাখি,পরীর হাতে ঘুড়ির লাটাই, রাজকন্যা ও জলপরি, এক চুলের রাজপুত্র। ছড়াগ্রন্থ:দাঁত নড়েছে বাঘের। উপন্যাস- কলমভূতের কেরামতি। লেখালেখির জন্য পেয়েছেন:পাপড়ি করামত আলী তরুণ শিশুসাহিত্য পুরস্কার ২০২১।
একসময় শিশুসাহিত্য চর্চার সাথে যুক্ত ছিলেন পরবর্তীতে ধারাবাহিকতা বজায় রাখেননি, কোনো বইও প্রকাশিত হয়নি এমন লেখকের সংখ্যাও রাজশাহীতে নেহায়েত কম নয়। তাঁরা হচ্ছেন- ফজলুল হক (প্রয়াত), ডা. মনিরুজ্জামান (প্রয়াত), এম আমজাদ আলী (প্রয়াত), শামসুল আলম সরদার (প্রয়াত), মাহতাব উদ্দীন (প্রয়াত), ফরিদা সুলতানা (১৯৫৩), নিশীথ সাহা, মীর রবিউল ইসলাম (অস্ট্রেলিয়া প্রবাসী), ওয়ালী কিরণ (প্রয়াত), আহমেদ সীমান্ত, মঞ্জুর রহমান বাবু (প্রয়াত), শফিকুল ইসলাম মন্টু, সোহেলা শাহীন (যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী), সেলিম সাটিয়ার, মোশতাক রহমান, সাঈদ জামান চন্দন, রুখশানা শাহিন পান্না (কানাডা প্রবাসী), কালামউল্লাহ ছানা (প্রয়াত), জিন্নাতুন তোহরা রুপু (১৯৮৪), নজম কাদের তালুকদার (১৯৯২), হাবিবুর রহমান হাবিব, পরাগ সঞ্চিতা কণা, নুর উল আফসার, শফিকুল ইসলাম মন্টু (১৯৬৬), শুকতারা শওকত, সাবিনা সিদ্দিক টিনি, সোনা চৌধুরী, আব্দুল আওয়াল, মনির হোসেন, আল আনোয়ার (১৯৭৪), ইশতিহার আলম (১৯৬৯), সৈয়দ সোহেল (প্রয়াত), হাসান রাজা (১৯৭৩) প্রমুখ।
বড়দের সাহিত্যের পাশাপাশি শিশুসাহিত্য চর্চার সাথেও যুক্ত আছেন কিন্তু কোনো বই প্রকাশিত হয়নি এমন লেখকরা হচ্ছেন তসিকুল ইসলাম রাজা (১৯৫৩). আরিফুল হক কুমার (১৯৫৬), খোকন তালুকদার, আলমগীর মালেক (১৯৬০), নাজনীন সুলতানা নাজ (১৯৬৫), জামাল দ্বীন সুমন, কামরুল বাহার আরিফ, আতাউল্লাহ রুনু, মনিরুল ইসলাম মনি (১৯৬৩), কাবেরী সাহা (১৯৭৮), শামীমা নাইস, এরফান আলী এনাফ, খুরশীদ আলম বাবু, অর্চনা মালাকার, সেলিনা পারভীন, সেলিম রেজা কাজল প্রমুখ।
চাকুরি, পড়াশোনা বা অন্যান্য বিভিন্ন সূত্রে রাজশাহীতে অবস্থানকালে শিশুসাহিত্য চর্চা করে রাজশাহীর সাহিত্যাঙ্গনকে সমৃদ্ধ করেছেন বা করে যাচ্ছেন এমন প্রচুর লেখক রয়েছেন। বিশিষ্ট শিশুসাহিত্যিক বন্দে আলী মিয়া (১৯০৬:১৯৭৯) পাবনার মানুষ হলেও দীর্ঘদিন রাজশাহীতে অবস্থান করেছেন। তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থ:শিয়াল পণ্ডিতের পাঠশালা, চোর জামাই, বাঘের ঘরে ঘোগের বাসা, সাতরাজ্যের গল্প ইত্যাদি আমরা সেই ছাত্রজীবনেই পড়েছি। কথাসাহিত্যিক সেলিনা হোসেন (১৯৪৭ -) রাজশাহীতে জন্মগ্রহণ করেছিলেন। পরবর্তীতে পেশাগত কারণেও অনেকদিন রাজশাহী ছিলেন। তাঁর প্রকাশিত শিশুতোষ গ্রন্থ: সাগর, কাকতাড়ুয়া, বর্ণমালার গল্প, চাঁদের বুড়ির পান্তা ইলিশ, মুক্তিযোদ্ধারা ইত্যাদি। কবি আতাউর রহমান (প্রয়াত), কবি আবুবকর সিদ্দিক (প্রয়াত) দুজনেই রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের শিক্ষক ছিলেন। বড়দের সাহিত্যের পাশাপাশি তারা শিশুদের জন্যও অল্পবিস্তর কিছু লিখেছেন। মেহেরপুরের মানুষ শিশুসাহিত্যে বাংলা একাডেমি পুরস্কারপ্রাপ্ত সাহিত্যিক রফিকুর রশীদ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগে পড়াশোনা করেছেন। মনজু রহমান (১৯৫৬) বগুড়া বাড়ি, গোলাম কিবরিয়া পিনু (১৯৫৬) গাইবান্ধা বাড়ি, কিন্তু দুজনেই এই বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগে অধ্যয়ন করেছেন। স্বদেশবন্ধু সরকার ও তপন দাশ দুজনেই পাবনার মানুষ, শিশুসাহিত্যে বাংলা একাডেমি পুরস্কারপ্রাপ্ত শিশুসাহিত্যিক আনজীর লিটন ময়মনসিংহ বাড়ি, কিন্তু তারাও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ছিলেন।
বাংলা একাডেমি পুরস্কারপ্রাপ্ত কথাসাহিত্যিক জাকির তালুকদার বড়দের পাশাপাশি শিশুদের জন্যও লিখেছেন। তিরি রাজশাহী মেডিকেল কলেজের ছাত্র ছিলেন। ছড়াকার মনজুরুল আলম দিলু রাজশাহী প্রকৌশল মহাবিদ্যালয়ে পড়াশোনা করতেন। বিশিষ্ট শিশুসাহিত্যিক সৈয়দ নাজাত হোসেন (১৯৫৬- ২০১৫) দীর্ঘদিন রাজশাহীতে অবস্থান করে শিশুসাহিত্য চর্চা চালিয়ে গেছেন। রাজশাহীর অন্যতম শিশুকিশোর সংগঠন কিশোরকুঁড়ির মেলার তিনি সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। তার মাধ্যমে অনেক শিশুসাহিত্যিকের হাতে খড়ি হয়েছে রাজশাহীতে। মুস্তাফা মহিউদ্দীন (১৯৫৩) সরকারি চাকুরি সূত্রে রাজশাহী ছিলেন। বগুড়ার মানুষ শিশুসাহিত্যিক জিএম হারুন, কিন্তু রাজশাহীতেই তার অবস্থান ছিল। সেলিনা জামান (১৯৬০) রংপুরে জন্ম হলেও রাজশাহী ছিলেন দীর্ঘদিন। বড়দের পাশাপাশি ছোটদের জন্যও লিখেছেন। তার দুটি ছড়ার বই- কুয়াশায় রোদের চুমুক ও খোলা জানালা। প্রত্যয় হামিদ, কামরুজ্জামান গোপন তারাও রাজশাহী ছিলেন দীর্ঘদিন। যাদের কথা উল্লেখ করা হলো তারা প্রত্যেকেই রাজশাহীতে অবস্থানকালে শিশুসাহিত্যচর্চার সাথে বিভিন্নভাবে যুক্ত ছিলেন। মাহফুল আখতার এর বাড়ি বগুড়া হলেও তিনি বর্তমানে রাজশাহীতে থাকেন এবং বড়দের পাশাপাশি ছোটদের জন্যও লিখেন। তার প্রকাশিত ছড়াগ্রন্থ- ইচিং বিচিং চিচিং চা, কিচিরমিচির।
রাজশাহী থেকে প্রকাশিত শিশুকিশোর উপযোগী পত্র-পত্রিকা ও সংকলনের সংখ্যাও খুব একটা কম নয়। সত্তর দশকের শেষার্ধে ও আশির দশকে সবচেয়ে বেশি প্রকাশিত হয়েছে। দৈনিক বার্তা হতে প্রকাশিত ছোটদের পাতা- কিশোরকুঁড়ির মেলা সেসময় বেশ জনপ্রিয় ছিল। সারা বাংলাদেশের খ্যাতিমান শিশুসাহিত্যিকেরা সেই পাতায় লিখতেন। নতুন লেখক তৈরিতেও পাতাটির ভূমিকা ছিল অনবদ্য। পাতাটি সম্পাদনা করতেন মাহমুদ আনোয়ার হোসেন (বুড়োদাদু)। উড়কি ধানের মুড়কি, রংধনু নামে দুটো পত্রিকারও তিনি সম্পাদক ছিলেন। অলংকরণ করতেন চিত্রশিল্পী ও শিশুসাহিত্যিক এম এ কাইউম। সেসময় ইসলামিক ফাউন্ডেশন রাজশাহী থেকে বের হতো মাসিক পত্রিকা:ময়ূরপঙ্খি যার সম্পাদনার সাথে যুক্ত ছিলেন- জাইদুর রহমান। কাঁচাপাকা এর সম্পাদক ছিলেন- ফিকশন ইসলাম। ভূত ভূত কেচ্ছা সম্পাদক- শেখ আব্দুস সামাদ। শীলন সম্পাদক- মাসুম ওয়াদুদ। অনির্বাণ সম্পাদক- জামালউদ্দীন সুমন। কোরক সম্পাদক- হাসনাত আমজাদ। ইতুল মিতুল সম্পাদনা করতেন পরাগ সঞ্চিতা কণা। আশরাফুল আলম পিনটু সম্পাদনা করতেন- ছড়া দর্পণ ও কিশোর সাহিত্য নামে দুটো পত্রিকা। পরবর্তীতে প্রকাশিত হয়েছে পদ্মাপাড়ের ছড়া, সম্পাদক- নাজিব ওয়াদুদ ও ফজলুল হক তুহিন। রাজশাহীর ছড়া সম্পাদক- এম এ কাইউম ও আশফাকুল আশেকীন। বর্তমানে প্রকাশিত হচ্ছে হাসনাত আমজাদ সম্পাদিত:ডাকঘর। এছাড়া, প্রকাশিত হচ্ছে মাসুম আওয়ালের সম্পাদনায়: ছোটবেলা।

