
আজ কোনো কল্পনাকে প্রশ্রয় দিয়ে কবিতা নয়,
ভাবনায় ডুবে গিয়ে গল্প লেখা নয়,
আজ অচল দেহের সচল মনের ক্রুদ্ধতা প্রকাশ,
নিভু নিভু করে মনে জ্বলে সর্বদা—
কখনো কোনো ঘটনায় দপ করে জ্বলে ওঠে,
পোড়াতে না পারার অক্ষমতায় ক্ষীণ হয়ে পড়ে।
নারী—
তুমি রাধিকা, তুমি সেবিকা
তুমি গায়িকা, তুমি লেখিকা
তুমি সুহাসিনী, তুমি মিষ্টভাষিনী
তুমি নন্দিনী—
তর্ক-বিতর্কে শুনি তোমার অকাট্য বাণী
তুমি শিক্ষিতা—
সত্যি তুমি বহুগুণে গুণান্বিতা।
কিন্তু—
পুরুষদের শক্তির কাছে অতি দুর্বল
সে পুরুষ—
নয় তোমার পিতা
নয় তোমার ভ্রাতা
নয় তোমার বন্ধু
নয় তোমার প্রেমিক।
ওরা নরাধম, নরাপিশাচ, ওরা হায়েনা
ওদের লোলুপ চোখে লালায়িত জিভে
তুমি তরতাজা মাংসপিণ্ড ।
নারী—
রুদ্ধ রেখো না নিজেকে, প্রকাশ করো ক্রুদ্ধতা
তুমি আর একা নও, পাশে রয়েছে বিশাল জনতা।
স্বাধীনতার যুদ্ধে তোমার অগ্রজ অতি সাধারণ
অসাধারণের পাশে দাঁড়িয়েছিল
লাঠি, বটি, কাঁচি, দা নিয়ে।
তোমার স্বাধীনতা তোমাকে আনতে হবে।
রুখে দাঁড়াও—
ফাঁসি—চিরবিদায়, যাবৎজীবন কারাদণ্ড
বেঁচে থাকে নিয়ে পাপিষ্ঠ অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ।
আইন বদলাও, নতুন আইন প্রণয়ন করো
এমন শাস্তি—
মৃত্যুর শেষমুহূর্ত পর্যন্ত করে উপলব্ধি
যুবা বৃদ্ধ ধর্ষকদের মনে জাগে ভীতি।
যে লোলুপ দৃষ্টি তোমাতে পড়েছিল
তা উপড়ে ফেলো—
যত বল-প্রয়োগ করা হয়েছিল
তার একটা হাত কেটে ফেলো—
যে অঙ্গ তোমাকে কলুষিত করেছে
তোমার সতীত্ব নিয়েছে
তোমাতে ভয় ও লজ্জার সঞ্চার ঘটিয়েছে
সে অঙ্গকে কেটে বিনষ্ট করো ।

