ভালোবাসার ভূত
ধরে যদি ভালোবাসার ভূতে
সারবে না তা সেনাদলের ‘ক্যু’তে
সব বিষয়ে বিগড়ে যাবে মাথা
ভাবতে হবে আজগুবি সব যা তা
ধরে যদি ভালোবাসার ভূতে
ভূত যাবে না কোনো ঝাড় ও ফুঁতে
মনটা হবে হঠাৎ উড়ু-উড়ু
বালক হবে বৃদ্ধ লোকের গুরু
ধরে যদি ভালোবাসার ভূতে
জীবন যাবে জীবনটাকে ছুঁতে
বাড়বে নিজের কাছে নিজের দেনা
বলবে না কেউ একটু কাছে নে না
ধরে যদি ভালোবাসার ভূত
সারাজীবন খেলতে হবে
ছিঃ কুত কুত কুত।
স্বপ্নময়ী
স্বপ্নময়ীর ইচ্ছে হলে স্বপ্ন কিছু দিও
ইচ্ছে হলে আমার থেকেও স্বপ্ন চেয়ে নিও
স্বপ্ন দিও স্বপ্ন নিও স্বপ্নতে নিঃশ্বাস
জানো-ইতো স্বপ্নে আমার—তোমার বসবাস
স্বপ্ন দেওয়ার স্বপ্ন নেওয়ার এই যে অভিলাষ
কেমন করে করবে তুমি তাকেই উপহাস
স্বপ্ন গড়ার জন্য আজই ভাঙো অবিশ্বাস
মিথ্যে মিথের সব কিছুকে দাও করে দাও নাশ
স্বপ্ন ধরো স্বপ্ন গড়ো স্বপ্নে খোঁজ সুখ
স্বপ্ন দিয়ে স্বপ্ন নিয়ে নাও সাজিয়ে বুক।
জলজট ও যানজট
জলজটে যানজটে নাকাল নগর
পথে পথে থেমে থাকে পথের বহর
থেমে থাকে জীবনের যাবতীয় গতি
অকারণে বাড়ে যত অনাহুত ক্ষতি।
আকাশের বুক জুড়ে মেঘেদের খেলা
বর্ষণে বর্ষণে কেটে যায় বেলা
রিনিঝিনি রিনিঝিনি বৃষ্টির সুর
জীবনকে করে নাতো একটু মধুর।
সড়কের সরোবরে থমকে থাকি
যানজটে জীবনের স্বপ্নকে আঁকি।
অহং
তোমার অহং তোমারি থাক আমারটা থাক আমার
আমার ঘরে উঠুক বেড়ে জান খোয়াবার খামার
তুমি—থাকতে পারো কল্পলোকের উচ্চতর ওই ধাপে
আমি—পুড়ে যাবার পরেও আবার পুড়বো প্রেমের তাপে
তোমার দিকে যাক তেড়ে সব শরত বেলার মেঘ
আমার ওপর উড়তে থাক আজ অনন্ত উদ্বেগ
অহং দিয়ে অহং নিয়ে করব অহং চাষ
নিজের অহং দিয়েই নিজের করব সবই নাশ
পারলে এসে ধরো কিংবা দূরে সরো
সরতে গিয়ে মরতে হলে গল্প করার ছলে
ওই যমুনায় ঝাঁপ দিয়ে আজ আমার সাথেই মরো।
কম্পন
আকাশ যখন উঠবে কেঁপে
উঠব কেঁপে আমিও
তখন তুমি আমার জন্য
একটু হলেও থামিও
একটু থেমে একটু নেমে
আমার এদিক তাকিও
আমার কথা ভুলে গেলেও
ভুলগুলোকেই আঁকিয়ো
আঁকা-আঁকির ক্যানভাসে ওই
আমার ছবি রাখিও
ওই ছবিটায় সঙ্গোপনে
আমার হয়ে থাকিও
তোমার যদি কম্প ওঠে
বুকের মাঝে দুঃখ ফোটে
ওষ্ঠে ফাগুন মাখিও
ইচ্ছে হলে দিতে পারো
এই আমাকে ফাঁকিও।

