কবি জিললুর রহমানের ঘুম আর জাগরণ দিয়েছে কাব্যবোধের এক মহাকালের বিস্তার। এমন কাব্যবোধের বিস্তার থেকেই কবি জিললুর রহমানের স্বকীয়সৃষ্টি হচ্ছে ‘এক সে মেরাজের রাত্রে ঘুমিয়েছি’ নামক মনোবৃত্তি। এই কাব্যগ্রন্থের মাহাত্ম্য ও মহিমার কথা পাঠকালে পাঠককে যে ঊর্ধ্বমুখী চিন্তার অনুপ্রেরণা জোগায় তা হচ্ছে— জীবনের অর্থ, জীবনের প্রতীকতাবোধ, জীবনের গ্রীবায় মৃত্যুর আভাস, আত্মার অনন্ত যাত্রা ও বিশ্বাসের সূক্ষ্ম আলোকচ্ছটা। কিন্তু এসব বিষয় নিয়ে প্রচলিত ধর্মীয় ব্যাখ্যার প্রচলে নয়, কবি তা ভাবতে অভ্যস্ত হয়েছেন জিজ্ঞাসা ও দ্বিধার মধ্য দিয়ে।
দ্বিধা আর দ্বন্দ্বের সৌন্দর্যই এই কাব্যগ্রন্থের কবিতাগুলোকে অতল মহিমা গড়ে তুলেছে। জিললুর রহমানের ভাষার কাব্যময় প্রখর ঔজ্জ্বল্যে এই কাব্যগ্রন্থে অন্তর্ভুক্ত কবিতার ভাষা সমসাময়িক, অনুভূতিপ্রবণ এবং কখনো-কখনো প্রশ্নমুখর এবং মনস্তাত্ত্বিক। যা জীবনের মূল্যবোধের আত্মজিজ্ঞাসামূলক অন্ত্যমিলের ধারায় বিস্তৃত। এই কাব্যগ্রন্থে অন্তর্ভুক্ত সব কবিতাই হচ্ছে— সপ্তপদী চরণবিশিষ্ট মাত্রাবৃত্ত ছন্দে রচিত এবং অন্ত্যমিলের বিন্যাসে এর ভাব, প্রশ্ন ও প্রতীক ভিত্তিক এক স্বতন্ত্র কাব্যমালায় বিস্তৃত, যা সমকালীন কাব্য কাঠামোতে অনন্য সৃজনশক্তিতে আলোর আলেয়া হয়ে উঠেছে।
কবির মননের শুদ্ধতায় কবিতাগুলি উপস্থাপিত হয়েছে— সমসাময়িক আত্মজিজ্ঞাসায়, দার্শনিক ব্যাপ্তার্থে ও অভিব্যক্তিময় আধ্যাত্মিক ভাবধারার সন্ধিবন্ধে। যা প্রচলিত রীতি ভেঙে কবির নিজস্ব প্রেরণায় একটি উপলব্ধির ব্যাকরণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই কাব্যগ্রন্থের সব কবিতাকে কবি চৌদ্দটি পর্বে বিভক্ত করেছেন। এখানে প্রতিটি পর্বের প্রতিটি কবিতাই কবির সৃজনশক্তির ৭টি চরণের অতিউজ্জ্বলতায় উদ্ভাসিত হয়েছে। তাই সৃজনশক্তির এমন ঐকিকতায় সপ্ত নকশার এসব কবিতাকে ‘সপ্তপদী’ কবিতা বলা হয়। কবি জিললুর রহমানের আত্মসচেতনতা ও আত্মঅনুভবের রসায়নে সৃজিত হয়েছে এমন ছন্দধর্মী কাঠামোর সপ্তপদী কবিতা। এই সপ্তপদী কবিতাগুলো একটি স্বতন্ত্র কাঠামো ও ছন্দের ধারাকে অনুসরণ করেই ‘এক সে মেরাজের রাত্রে ঘুমিয়েছি’ কাব্যগ্রন্থে সন্নিবেশিত হয়েছে। কাব্যগ্রন্থটি যে ভাবধারা ও পরিসরে বিকশিত হয়েছে, এর সামগ্রিক রূপরেখা হচ্ছে নিম্নরূপ।
গঠন: সপ্তপদী ও মাত্রাবৃত্ত ছন্দ
বিষয়: মৃত্যু, আত্মা, কোভিড, মহাবিশ্ব
ভাষা: সহজ, তীক্ষ্ণ, ব্যঙ্গ, রূপকধর্মী, প্রশ্নাত্মক
ভাবনা: আধ্যাত্মিক ও বিজ্ঞানমনস্ক দর্শন
সময়চেতনা: সমসাময়িক বাস্তবতা ও চিরায়ত প্রশ্ন
আদি পর্ব
১.
কত কী ঘটে যায় মারির খপ্পরে
তোয়াফ থেমে গেল বন্ধ কাবাঘরে
কোভিড যত বাড়ে মানুষ যত মরে
জীবন দামে বাড়ে তীর্থ থামে ধীরে
তবু তো চলে যায় ঘণ্টা বেজে গেলে
কত যে আঁধারের ধাঁধার শোরগোলে
কেন যে চলে যায় কেন যে লোকে মরে
২.
যেভাবে চলে গেলে সেভাবে যেতে নেই
আকাশে ভালোবাসা হারায় শুধু খেই
আকাশে কোটি তারা শুনেছি শুধু জ্বলে
অনেকে এরই মাঝে নিভেও গেছে চলে
তুমি কি সে আকাশ আলোয় ভরে দেবে
তুমি কি সূর্যকে আগুন ধার দেবে
কোটি তো আছে কেন নিয়েছে তোমাকেই
৩.
শুনেছি আসমান সাতটি থরে থরে
সূর্য-তারাগুলো নীরবে রাখে ভরে
মানুষ মরে গেলে আত্মা ভেসে যায়
তৃতীয় আসমানে দাঁড়িয়ে থাকে ঠাঁয়
গতি কি আত্মার আলোর চেয়ে বেশি
আত্মা দেহ ছেড়ে ঘুরতে পারে নাকি
মেরাজে গেলে শুনি স্রষ্টা দেখা করে।
8.
চাঁদের রূপে মজে কত না জোছনায়
কবিরা লুনাটিক হৃদয়ে তড়পায়
মেকাপ ঝরে গেলে চাঁদের গর্তেই
প্রেমিক-প্রেমিকারা পড়েছে মর্তেই
তবুও কিছু আছে চাঁদের রসায়ন
তারাকে ভুলে কেন চাঁদেই মজে মন
চাঁদ তো খাদে ভরা অযথা ঝলকায়
৫.
মরেছে যত লোক সকলে তারা হবে?
কেউ কি মাঝপথে ধরায় রয়ে যাবে?
পৃথিবী যাদেরকে বিদায় জানাবে না
তাদের আত্মা কি ভূতের আনাগোনা?
এমন কোনো ভূত বন্ধু যদি থাকে
আমার চেতনার কলব তারে ডাকে
দুবেলা আড্ডায় বুঝি সে কথা ক’বে।
৬
এনড্রোমিডা-জুড়ে শুনেছি আত্মারা
ভীষণ ভিড় করে কোভিডে মরে যারা
কে যাবে নরকেতে কে পাবে স্বর্গকে
কখন দেবদূত কাউকে নেবে ডেকে
কবে যে শিংগাটা উঠবে বেজে শালা
বছর কত শত অপেক্ষার পালা
কার কী গতি হবে ভেবেই সবে সারা
৭.
বুঝি না কোন পথে বেরোয় আত্মারা
শরীরে চারপাশে ঘিরেছে চামড়াটা
হৃদয় থেমে গেলে মানুষ ছুড়ে ফেলে
কাউকে পুঁতে রাখে কারো বা চিতা জ্বেলে
তবে সে আত্মাটা বেরোল কোন ফাঁকে
বুঝতে পারিনি তো মৃতের হাঁকডাকে
নাকি সে পুরুতের বাঁচার শর্করা?
৮.
পড়েছি এনাটমি পড়েছি আলকেমি
আত্মা খুঁজে সারা করিনি আলসেমি
মরেছে নানিজান ছিলাম হাত ধরে
মরেছে কত লোক পাশেই ঘুরে ঘুরে
কোথাও দেখিনি তো আলোর ছিটেফোঁটা
হঠাৎ ফুস করে আকাশে ভেসে ওঠা
ঠিকুজি আত্মার মেলেনি কোনোদিনই
কবি জিললুর রহমানের ‘এক সে মেরাজের রাত্রে ঘুমিয়েছি’ কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত ‘আদি পর্ব’-এর কবিতাগুলো হচ্ছে সমকালীন বাংলা কবিতার পরিসরে একটি বিশেষ বৌদ্ধিক ও আধ্যাত্মিক অনুসন্ধানের প্রক্রিয়া। এখানে কবি ধর্মীয় আখ্যান, মহাজাগতিক কল্পনা, মৃত্যুচেতনা, বৈজ্ঞানিক যুক্তি এবং ব্যক্তিগত শোককে এমন এক সংলাপময় বিন্যাসে উপস্থাপন করেছেন, যেখানে আকার ও নিরাকারের ‘খ’-মধ্যবিন্দুতে (খ = আকাশ, শূন্য, নভোমণ্ডল) কোনো চূড়ান্ত সত্যের ঘোষণা নেই, আছে প্রশ্নের পর প্রশ্নের মধ্য দিয়ে উপস্থাপিত এক অস্তিত্ববাদী অনিশ্চয়তার কাব্যভাষ্য। কবিতাগুলোর গঠনরীতি মূলত জিজ্ঞাসার ওপর প্রতিষ্ঠিত।
প্রায় প্রতিটি স্তবকেই প্রশ্নবোধক বাক্য বা সংশয়ময় উচ্চারণের আধিক্য অনুভূত হয়েছে। এই প্রশ্নগুলো কাব্যবোধের নিছক অলঙ্কার নয়, উত্থাপিত এমন প্রশ্নের অব্যাহত ধারায় প্রতিফলিত হয়েছে কবিতার জ্ঞানতাত্ত্বিক ভিত্তি। কবি কোনো ধর্মীয় বিশ্বাসকে সরাসরি অস্বীকার করেননি, আবার অন্ধ আনুগত্যও প্রকাশ করেননি। তিনি বিশ্বাসের অন্তর্বৃতে অন্তর্গত ফাঁকগুলোতে প্রবেশ করতে চান চিরন্তনতার প্রশ্নে। ফলে এই পর্বে কবিতার অনুরণন চিহ্নিত হয়ে আছে— জ্ঞান, বিশ্বাস ও অভিজ্ঞতার সমন্বয়সীমা নিয়ে কাব্যিক অনুসন্ধানে। পাশাপাশি ‘আদি পর্ব’-এর কবিতাগুলো একাধারে শোকের কবিতা, জিজ্ঞাসার কবিতা ও মানবচেতনার সীমাবদ্ধতা উপলব্ধির কবিতা।
কবিতার সূচনা স্তবকে কোভিড মহামারির এই প্রসঙ্গ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। ‘তোয়াফ থেমে গেল বন্ধ কাবাঘরে’— এই পঙ্ক্তি শুধু একটি ঐতিহাসিক ঘটনার উল্লেখ নয়, এই বোধ ধর্মীয় সময় ও মানবিক সময়ে নড়েচড়ে ওঠা এক সংঘর্ষের প্রতীক। কাবা হচ্ছে মুসলিম চেতনায় চিরন্তন এক আধ্যাত্মিক কেন্দ্র, সেটিও মহামারির অভিঘাতে সাময়িকভাবে স্থবির হয়ে পড়েছে। অর্থাৎ মানবসভ্যতার নশ্বরতা এমন এক পর্যায়ে পৌঁছিয়ে গেছে যেখানে পবিত্রতার অবিনশ্বর ধারণাও বাস্তবতার কাছে অস্থিতিস্থাপক হয়। এখানে কবি ইতিহাসকে ধর্মতত্ত্বের বিরুদ্ধে দাঁড় করাননি, তিনি চৈতন্যের অতলে আত্মময় অধিকারে দেখিয়েছেন— ইতিহাস ও ধর্মতত্ত্ব উভয়ই মৃত্যুর অনিবার্য সত্যের মুখোমুখি সমানভাবে অসহায়।
দ্বিতীয় স্তবক থেকে কবিতাটি ব্যক্তিগত শোকের দিকে অগ্রসর হয়েছে। ‘যেভাবে চলে গেলে সেভাবে যেতে নেই’— এই প্রতিক্রিয়ায় মৃত প্রিয়জনের প্রতি এক অন্তরঙ্গ সম্বোধন আছে। কিন্তু ব্যক্তিগত বেদনা দ্রুত মহাজাগতিক প্রশ্নে রূপান্তরিত হয়েছে। কোটি কোটি তারার মধ্যে কেন একটি বিশেষ নক্ষত্র নিভে যায়—এই প্রশ্ন প্রকৃতপক্ষে মানুষের মৃত্যুরই রূপক। এখানে ব্যক্তিগত ক্ষতি ও মহাজাগতিক বিন্যাস পরস্পরের প্রতিবিম্ব হয়ে উঠেছে।
তৃতীয় স্তবকে কবি ইসলামী মহাজাগতিক কল্পনা—সাত আসমান, আত্মার যাত্রা, মেরাজ—ইত্যাদি ধারণাকে পুনরায় পরীক্ষা করেছেন। কিন্তু এই পরীক্ষার ভাষা ধর্মোপদেশের নয়, তা নিবিড়ভাবে যুক্তিবাদী পর্যবেক্ষণে। “গতি কি আত্মার আলোর চেয়ে বেশি”— এই প্রশ্নে আধুনিক পদার্থবিজ্ঞানের ধারণা এবং ধর্মীয় কল্পবিশ্ব এক স্থিরসন্ধানের সংলাপে আবদ্ধ হয়েছে। কবি এখানে বিশ্বাসকে খণ্ডন করেননি, তিনি এর কার্যকারণগত যুক্তি জানতে চেয়েছেন। ফলে ধর্মতত্ত্ব ও বিজ্ঞান কবিতার মধ্যে বিরোধী মেরু না হয়ে জিজ্ঞাসার দুটি পরস্পরসংলগ্ন ক্ষেত্র হয়ে উঠেছে।
চতুর্থ স্তবকটি হচ্ছে কবিতার অন্যতম তাৎপর্যপূর্ণ এক বৌদ্ধিক পরিসর। যেখানে কবি বাংলা কাব্যঐতিহ্যে বহুলব্যবহৃত চন্দ্রপ্রতীকের পুনর্মূল্যায়ন ঘটিয়েছেন। বাংলা ও বিশ্বসাহিত্যে চাঁদ দীর্ঘকাল ধরে প্রেম, সৌন্দর্য, মোহ ও রোমান্টিক আকাঙ্ক্ষার এক মহিমান্বিত প্রতিরূপ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। কিন্তু কবি জিললুর রহমান সেই প্রতিষ্ঠিত নান্দনিক মিথকে বিনা সংকোচে প্রশ্নের মুখোমুখি দাঁড় করিয়েছেন। “মেকাপ ঝরে গেলে চাঁদের গর্তেই”— এই পঙ্ক্তিটি কেবল একটি ব্যঙ্গাত্মক উক্তি নয়, উক্তিটি সৌন্দর্যের সাংস্কৃতিক নির্মাণকে ভেঙে ফেলার এক কাব্যিক কৌশল। মানবকল্পনা যে চাঁদের ওপর যুগে যুগে মোহ, মাধুর্য ও রহস্যের অলংকার আরোপ করেছে, কবি সেই অলঙ্কারমণ্ডিত আবরণ সরিয়ে এর অন্তর্গত ভূতাত্ত্বিক বাস্তবতাকে উন্মোচন করেছেন। ফলে চাঁদ আর প্রেমিক-প্রেমিকার মোহাবিষ্ট দূরান্তের প্রতীক হয়ে থাকেনি, চাঁদের অস্তিত্ব পরিণত হয়েছে গহ্বর, খাদ ও নিষ্প্রাণ পাথুরে প্রকৃতির এক জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক বস্তুরূপে। এই উন্মোচনের লক্ষ্য কেবল চাঁদের রোমান্টিক ভাবমূর্তি ভেঙে দেওয়া নয়, চাঁদের অনুষঙ্গ নিয়ে অতি মানবচেতনায় যে মিথ নির্মাণের প্রবণতা, কবি এরই সমালোচনা করেছেন।
পঞ্চম ও ষষ্ঠ স্তবকে কবি ভূত, আত্মা, স্বর্গ, নরক, দেবদূত এবং কিয়ামতের শিঙ্গা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তবে এই প্রশ্নগুলোর ভেতরে এক ধরনের রসিকতা ও লোকভাষিক ব্যঞ্জনা কাজ করেছে। “কবে যে শিংগাটা উঠবে বেজে শালা”— এখানে মহাপ্রলয়ের মতো গম্ভীর ধর্মীয় ধারণাও কথ্য ভাষার সংস্পর্শে এসে এক ধরনের মানবিক মাত্রা অর্জন করেছে। কবি ধর্মীয় আখ্যানকে অবমাননা করেননি, এই বিষয়টিকে দৈনন্দিন জীবনের আলোচ্য দ্রষ্টব্যে পরিণত করেছেন। এখানে মহাজাগতিক রহস্য এবং পাড়ার আড্ডা একই কাব্যিক পরিসরে এসে এক অন্তর্বাহী বোধে মিলিত হয়েছে।
সপ্তম ও অষ্টম স্তবকের কবিতায় যুক্তিবাদের প্রতি অতলান্তিক আত্মানুরাগ সবচেয়ে বেশি স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। “পড়েছি এনাটমি পড়েছি আলকেমি”— এই ঘোষণা কেবল শিক্ষাগত অভিজ্ঞতার বিবরণ নয়, এই প্রতিধ্বনিতে প্রতিফলিত হয়েছে আধুনিক জ্ঞানব্যবস্থার প্রতি কবির অন্তহীন আস্থার ইঙ্গিত। তিনি মৃত্যুকে প্রত্যক্ষ করেছেন, মৃতদেহের পাশে থেকেছেন, মানুষের দেহতত্ত্ব সম্পর্কে জেনেছেন, কিন্তু কোথাও আত্মার দৃশ্যমান প্রমাণ পাননি। ফলে আত্মা এখানে ধর্মীয় বিশ্বাসের বিষয় হয়ে উঠেছে, কোনো অভিজ্ঞতালব্ধ সত্য থেকে উদ্ভাসিত হয়নি। কবি যে সংশয় প্রকাশ করেছেন, তা কোনো নাস্তিক্যবাদী প্রত্যাখ্যান নয়, এই বিষয়টি হচ্ছে এক অভিজ্ঞতাবাদী সংশয়। তিনি বলেননি যে আত্মা নেই, তিনি বলেছেন এর কোনো প্রত্যক্ষ সাক্ষ্য তিনি পাননি। সপ্তম ও অষ্টম স্তবকের কবিতা হচ্ছে অস্তিত্বের সন্ধিময় প্রতিবিম্ব।
চলবে…

