কার্তিকের চিঠি
পূজার ঢোল কিংবা অফিসে বৈদ্যুতিক পাখার
বিরামহীন শব্দ একবারও বলেনি কার্তিক এসেছে;
কারণ, রাজপথে ঠ্যালাওয়ালার ঘর্মাক্ত মুখ
আর কিচেন মার্কেটের একঘেয়ে ছবি
রয়ে গেছে আগের মতোই,
খোদার ওপর খোদকারী করা গ্রীষ্মকালীন টমেটো
প্রাণহীন পড়ে আছে সেখানে।
আর ফরমালিন মেশানো শিম পাইলিং হয়ে আছে
চতুর ব্যবসায়ীর গোডাউনে;
ধনেপাতার চাটনী কিংবা গাজর শশার সালাদ
ফাস্টফুড রেস্টুরেন্টের শোভা প্রতিদিন—সারাবছর।
তাছাড়া বর্ষায়—ফুলকপির ডালনা অথবা মটরশুঁটির বড়া
সেও তো স্মাট গৃহিনীর রেসিপির অহঙ্কার।
তাই কার্তিক এসে গেছে বলেনি কেউ;
বলেছে কেবল ড্রেনের পাশে অনাদরে বেড়ে ওঠা
সকালের শিউলি;
সজনে ডালে খুনসুটিতে মেতে ওঠা টোনা দম্পতি—
আর বন্ধুকে খুঁজে ফেরা বাদামি ঘুঘু!
স্বপ্নের খোঁজে
তরুণ চোখ পড়েছে অমিয় সে বাণী—
উই অর লিমিটলেস, ফর…. উই বিলিভ ইন আওয়ার ড্রিমস!
বিলিভ ইট আর নট, চালসে পড়া চোখ আজ দেখে—
সড়ক-মহাসড়কে লাশের মিছিল;
নাসির মাস্টারের ক্ষয়ে যাওয়া জুতার তলা,
রিভাইজড পেনসন কেসের তিরিশ হাজারের
আঠারো হাজার যে খুইয়ে এসেছে টেবিলে-টেবিলে!
দেখে শিশু নির্যাতনের বিভৎস ভিডিও ক্লিপ,
অথবা শিক্ষকের হাতে লাঞ্ছিত কিশোরীর দীর্ঘশ্বাস;
ল্যান্ডগ্র্যাভারের হাতে মৃতপ্রায় নদীর ক্ষীণ স্রোতধারা,
অথবা বকধার্মিকের ধর্মাচারের আতিশয্য—
দেখে-দেখে যখন দুচোখে ক্লান্তি নামে,
বিষাক্ত ঘনচিনির আইসক্রিম কেক
মাটি করে দেয় যখন সোনামনির জন্মদিনের
সমস্ত আয়োজন—তখনো চালসে পড়া চোখ খোঁজে স্বপ্ন।

