বিষাদের আঙুলগুলো
তখনো তুমি ঘুমোচ্ছ
অথচ জাগরণে শিথিল হলো ঘুমের বালিশ।
কোথাও কোনো প্রাণের সাড়া নেই
না ছিল নাইটগার্ডের বাঁশি;
ওরা কি তবে চোলাই মদে চূর!
জানালার কাচ সরিয়ে দেখি—দুর্ধর্ষ
ডাকাতের পায়ের ছাপে শীতরাত্রির
মাটি কাঁপে। ভাঙা দেয়ালের পাশে
জননীর উচ্চকিত বেহুঁশ রাত্রি,
জনকের উড়ন্ত চুলে আমারই পাঁচালি—
এভাবেই নেমে গেছে ঘুমের শহর
ঘুমের ভেতরে তুমিও ক্রমেই হয়ে গেছ অন্ধকার,
ওই আঁধারের পাশে উঁকি দেয় আমারই পরাজয় স্তম্ভ
ও ধূসর, ও রাত্রির ক্যাম্প,
এখন কিভাবে মেলে ধরব বিষাদের আঙুলগুলো?
আঙুল
কতদিন আমি বয়ে নিয়ে গেছি তাকে
ওই আঙুলের ডগায় ধরেছি শৈশব,
হিসেবের নোটবুক—হারানো তোমার
প্রগাঢ় চিবুক।
আজ এই চল্লিশোত্তীর্ণ সময়ে
তাকে বলেছি বিদায়—ওই
নখের পতিত সাম্রাজ্য ধুলোয় মেশে
পরিণত সংসারযাত্রায়!
জগতের বিভীষিকা এখন এ অঙ্গে,
আঙুলের ডগা থেকে নিভে গেছে
ভোরের আলো, মসির কালিমা। সে
আজ কতদিন?
সমাধির কবন্ধ উঠে আসে
আজ এই কর্তিত আঙুলে।
বিদ্যুৎ, শব্দহীন
ব্ল্যাক-আউটের পূর্ণিমায় গুলিবিদ্ধ নিজেরই কায়া
বর্তমানে পুড়ে পুড়ে আজ শুধু ভবিষ্যতে হাঁটা;
কোন্ আশা নিয়ে জেগে থাকে মাটি?
তোমরা খুঁড়ে তোলো জীবনপ্রণালী।
জানা নেই প্রবহমান রক্তনদী।
তাকে ভারী করে জীবনের ক্লেদাক্ত ঘূর্ণি.
বাতাসে ও কিসের আলাপ?
নুনে ধরে আসা সময় কথা বলে:
ময়ূরপুচ্ছ কিংবা জাতকের স্বর— উভয়ই বধির
আজ কেবলি ডানায় বেঁধে বিদ্যুৎ, শব্দহীন।
রক্তলাল গোল চাঁদ
যদিও সন্তাপ—কোদাল ও গাঁইতির গান
একটু একটু করে খুন ঝরে,
সকালবেলাকার পাখি—
ডানায় বয়ে নিয়ে ফেরে পরাক্রান্ত জীবন।
সন্ধ্যার মনস্তাপে ভেঙে পড়ে যাবতীয় উঠোন।
আকাশে রক্তলাল গোল চাঁদ,
ভেসে ওঠে মানুষের জলটুঙি সংসারে।

