ভয়ঙ্কর এক বোয়ামের পাশ ফিরে শুয়ে আছি। এটা হতে পারে বিষ, মধু কিংবা বাজেয়াপ্ত কোনো মদের কৌটা। হয়তবা ওষুধ, তরল হতে-হতে যা এখন মদের মতো অমৃতের রঙ ছড়াচ্ছে। হাতে আর পুষব না বলেই বোয়ামের দিকে ঠেলে দেই অন্তরাটুকু। সুর-লয়ে মিলেমিশে গান নেমে যাবে বিকেলে। তপ্ত ফোঁটা কয়েক ছিল। শেষটুকু নেব বলে হাত বাড়িয়েছি কেবল!
নাবিকের এমন দূরে সরে যাওয়া, ভালো কি লাগে! রক্তে সাম্পান নেমেছে বলে বিষ ও মদের অসুখ বড় আপন লাগে। বোয়াম ঠিকরে শেষ ফোঁটার আলো দুলে দুলে আসে, আবার ফিরে যায়। আবার আসে! নাপাভ্যালির সেই ঝাপসা নাবিকের গলা ও নাকের পাশে আছড়ে পড়া মাস্তুলের দঁড়িটা! সেই দঁড়িটা টেনে কাছে নেব বলে ভাবছি। আমি শোভিত হই জ্বরে ও খরায়। মুগ্ধতা প্রসবে।
বোয়ামের তলদেশে আখ মাড়াই এতটা দৃশ্যমান কেন? সাম্পানের দিকে তাক করা আমার চোখ আখক্ষেতের মতো তরল হতে থাকে। ধীরে। বোয়ামের উল্টোপিঠে বেড়ে ওঠা লতানো ধুলোমন আমার তৃষ্ণার্ত হতে থাকে। এ মৌসুমের লালিমা কারও জ্বরের ঘোর মুছে নিতে নিতে চিনিকলে ঝরছে কেবল মদ।
মন্তব্য

