[বিনোদ কুমার শুক্লা ১৯৩৭ সালের ১ জানুয়ারি ভারতের ছত্তিশগড়ের রাজনন্দগাঁও গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ছিলেন একাধারে কবি, ঔপন্যাসিক, ছোটগল্পকার। কাব্য ‘লাগভগ জয় হিন্দ’ ও উপন্যাস ‘নৌকর কি কামিজ’ তাকে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে নিয়ে আসে। ১৯৯৯ সালে ‘দিওয়ার মেঁ এক খিড়কি রাহি থি’ উপন্যাসের জন্য তিনি সাহিত্য আকাদেমি পুরস্কার লাভ করেন। ২০২৫ সালের মার্চ মাসে তিনি জ্ঞানপীঠ পুরস্কার পান। ভারতীয় সাহিত্যিকদের মধ্যে তিনিই প্রথম ‘পেন-নবোকোভ অ্যাওয়ার্ড ফর এচিভমেন্ট ইন ইন্টারন্যাশনাল লিটারেচর’ গ্রহণ করেন। বিনোদ কুমার শুক্লা ২৩ ডিসেম্বর, ২০২৫ সালে ৮৮ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেন। কবিতাগুলো চিন্তাসূত্রের জন্য হিন্দি থেকে অনুবাদ করা হলো। —অনুবাদক]
মানুষ নিজের ভাগের আকাশ দেখে
মানুষ নিজের ভাগের আকাশ দেখে
আর দেখতে গিয়ে পুরোটা আকাশ দেখে ফেলে,
সবার ভাগের আকাশ নিয়েই
সম্পূর্ণ আকাশ।
নিজের ভাগের চাঁদ দেখতে গিয়ে
দেখে ফেলে পুরো চাঁদ
সবাই ভাগের চাঁদ নিয়েই হয় পুরোটা চাঁদ।
এভাবে সেভাবে যেভাবেই হোক নিজের ভাগের শ্বাস
সবাই নেয়—
যে বাড়ির সামনে বাগানে বসে
পত্রিকা পড়ছে
আবার দুর্গন্ধ আর নোংরা যাকে ঘিরে
আছে, সেও শ্বাস নিচ্ছে।
এই বাতাস সবার ভাগের বাতাস নয়।
নিজের ভাগের ক্ষুধার সঙ্গে সঙ্গে
সবাই পায় না নিজের ভাগের পুরো ভাত।
বাজারে তন্দুরে যে রুটি বানাতে দেখা যায়
ওই রুটি সকলের জন্য নয়।
সবার ঘড়িতে যে সময় বাজে
তা সবার সময় নয়।
এই সময়।
ধনীদের মুখের পরে
ধনীদের মুখের পরে
দাঁড়িয়ে থাকে উঁচু নাক
আর বহুমূল্যের সুগন্ধি!
আমি সুঘ্রাণ চিনি না
কেবল দুঃখকে চিনি।
হতাশায় এক ব্যক্তি বসে পড়েছিল
হতাশায় এক ব্যক্তি বসে পড়েছিল
ওই ব্যক্তিকে আমি জানতাম না
হতাশাকে জানতাম
এইজন্য আমি ওই ব্যক্তির কাছে গেলাম
হাত বাড়ালাম
আমার হাত ধরে সে দাঁড়ালো
আমাকে সে জানতো না
আমার হাত বাড়িয়ে দেওয়াকে জানতো
আমরা দুজন একসঙ্গে চলতে লাগলাম
কেউ কাউকে জানতাম না
একসঙ্গে চলাকে জানতাম।
যা আমার ঘরে কখনো আসবে না
যা আমার ঘরে কখনো আসবে না
তার সঙ্গে দেখা করার জন্য
আমি তার কাছেই চলে যাবো।
এক উত্তাল নদী কখনো আসবে না আমার ঘরে
নদীর মতো লোকদের সঙ্গে দেখা করতে
নদীর পাড়ে চলে যাব।
কিছুটা সাঁতার কাটবো আর ডুবে যাবো।
পাহাড়, টিলা, পাথর, পুকুর
অসংখ্য গাছ, ক্ষেত
কখনো আসবে না আমার ঘরে
ক্ষেত এবং গোলাঘরের মতো মানুষের সঙ্গে দেখা করার জন্য
গ্রামে গ্রামে, গহীন অরণ্যের গলিতে চলে যাবো।
যে সবসময় কাজে ডুবে আছে
অবসরে নয়
জরুরি কাজ ভেবেই তার সঙ্গে দেখা করব।
এটাকেই একমাত্র শেষ ইচ্ছার মতো
সবচেয়ে প্রথম ইচ্ছা হিসেবে রাখতে চাই।
রাত দশ মিনিটের হলে
রাত দশ মিনিটের হলে
পাঁচ মিনিটেই অর্ধেক রাত কেটে যেত
এভাবেই কেটে যেত রাতগুলো।
দিন দশ মিনিটের হলে
পাঁচ মিনিটেই অর্ধেক দিন বয়ে যেত
এভাবেই কেটে যেত দিনগুলো।
দুই দিনের পরমায়ু নিয়ে এসেছি
একদিন আমি তোমার কাছে থাকবো
দ্বিতীয় দিন তুমি আমার কাছে থেকো।

