বিস্ময়
হারানো শহর জাগে তোমার স্তনের বিন্যাসে; সমুন্নত এখনো আছে যেমন
কোনো কোনো প্রত্ননগরী মহির আড়ালে মহিমান্বিত। (নিজেকে প্রণয়লব্ধ
জীবনের হরিৎ উদ্যানে কেবলি ধূসর লাগে) ওষ্ঠের রেখা প্রাচীন
নৃত্যকলায় দক্ষ আর বঙ্কিম গড়নে, মহাকাল মহানিদ্রা ভেঙ্গে সেই ওষ্ঠে
রেখেছেন চুম্বন। চিত্রকল্পে বুনেছি কবি ও কবিতার স্বাদ;
রসায়ন জানা নেই কোষ আর কোমলের;
তোমার গৌর-বর্ণাঢ্য অতীতময় শরীরের বিধিরহিত ছন্দরতির
আকাঙ্ক্ষা তুমুল বিস্ময় জাগায়।
তুমি সমুদ্র হও—তোমাকে ভাসাই ডিঙি যন্ত্রণাকাতর;
তুমি ত্রিনদী সঙ্গম হও- তোমাতে নোঙর করি রতিছন্দের;
মাছি
সবুজ ওড়নায় হাত মুছে ফেলে পৃথিবীর দিকে ফিরে আস।
কিছু আহত পাখির স্বর তোমার প্রতীক্ষা করেছিল;
তুমি, তোমার মধ্যে বিষয়ের যে অঙ্কুরোদগম
তুমি, তোমার বাহুতে যে পয়ারের ঢং
তুমি, তোমার আলিঙ্গনে মাতৃভাষার মতো যে আন্দোলন
তার জন্য সর্বক্ষণ আমি অপরাধী হয়ে থাকি। আর
অপরাধীর চোখ দিয়ে তোমার গায়েবী আনন্দ দেখি;
এবং আমার অপরাধের মধ্য থেকে জন্ম নেয় এক নারী;
তোমার সবুজ ওড়নার থেকে নিকট অধিক গ্রহনযোগ্য
এই রমনীর গোলাপী লিপস্টিক রঙ।
ঐ রঙ আমার দিকে প্রশ্নের মতো তাকায়
আমি তৎক্ষনাত ধন্য হই। উপচে পড়া মৌচাক
থেকে মধু পান করে তাই লিলিয়ান, আমি আর
কবিতা লিখি না। বরং কবিতার মধ্যে নীল রঙের
মাছি ওড়া দেখে নিজেকে চিনে নেই।
নিদ্রাযাপন
দূরবর্তী রূমে তোমার সমূল অবয়ব;
পৃথিবী তার কৌলীণ্যে মুগ্ধ;
কাঁচের বয়ামে সেই মুগ্ধতাবোধ
ওড়াওড়ি করে; পার্শ্ববর্তী জারে
পরবর্তি লিঙ্গের বেড়াল ভাবে:
এখানেই শেষ নয়; মনে রেখো,
কোন খেলারই চুড়ান্ত সমাপ্তি ঘটে না;
নিকটবর্তী কক্ষে তোমার স্বভাবজাত শরীর- ঘ্রানের দূরত্বে;
তার ঠিক মাঝখানে শীতল কাঁচের দেওয়াল;
আমার শিয়রের কাছে পৃথিবীর পূর্নাঙ্গ মানচিত্র
পায়ের কাছে স্বদেশ; উভয়ের বুকে
পেরেক বিঁধে নিদ্রাযাপন উপভোগ্যই বটে;
নিদ্রায়োজন শেষ হলে পর নিদ্রিত চোখ
পরম মুগ্ধতায় দেখে চলে কাঁচের বয়ামে
উড়ন্ত পাখনার শব্দে তোমারও নিদ্রাযাপন!
ক্রমশ দূরবর্তী
দূরবর্তী বাসিন্দারা শীঘ্র জন্মাবে বলে
ধাত্রীর খোঁজে রেবিয়ে গেছে
আমি নিকটবর্তী ইচ্ছার সঙ্গে বারংবার
প্রবসেচ্ছুক সঙ্গমের উপায়ে লিপ্ত।
যারা বলে গেছে নৈর্বেক্তিক নিয়মে
আঙুরের ফলন বেশ ভালো হয়
যারা শুনে গেছে আঙুর বাগানের
কীটগুলোর সংলাপপ্রিয়তা
যারা নিয়ে গেছে হাঁপড়ের মতো
এই অনিঃশেষ বাতাস
তাদের সৌজন্যে
কালো রঙের বেড়াল চারপায়ে জমিয়ে রাখে
সতর্ক নৈঃশব্দ্য;
জন্ম, তুমি মৃত্যুর সহনামে প্রায়োগিক হতে পারোনি তবুও;
মনোকষ্টে
(ঈশ্বর তাঁর পুত্রের হাতে পেরেক বিঁধিয়ে
মানুষকে শেখান বহুবিধ বিভ্রান্তির নৃত্য-কৌশল)
ফিরে আসার মতো দাঁড়িয়ে থাকি;
বৃক্ষের মতো প্রতিশ্রুত হও-
কেশের বিন্যাসে
তবু অজগর বেড়ে ওঠে
(মানুষ অঙ্কিত হয় দেবতার নামে
প্রেরিত প্রেরণার ভ্রান্ত আয়োজনে)
আমাদের জলজ প্রেমেও বিশ্বাসের মতো শ্যাওলা ভাসে;

