নারী-৪
নারী কখনও শুধু শরীর নয়,
সে এক দীর্ঘ নদী—
অন্ধকার পাহাড় ভেঙে
যে নিজেই বানায় নিজের পথ
তার চোখে-মুখে লেগে থাকে
প্রাচীন সভ্যতার ধুলো,
শিশিরভেজা ঘাসের মতো
নরম এক ভোর শে,
স্নিগ্ধ
উজ্জ্বল
পৃথিবীর ভেতরের আরেক পৃথিবী
নারী-৫
পুরুষেরা বহুদিন
তার মুখে লিখতে চেয়েছে আইন,
সমগ্র শরীর জুড়ে এঁটে দিতে চেয়েছে
সংবিধিবদ্ধ সতর্কীকরণ নোটিস,
তবু শে গোপনে
নিজের ভাষায় জন্ম দেয় নিজেকে।
একদিন পৃথিবী বুঝবে—
নারী মানে কেবল রমণী নয়,
নারী
আগুনের ভিতর দাঁড়িয়ে থাকা জল।
নারী-৬
এক নারীর জন্য
তুমি যখন চুল বাঁধো
পৃথিবীতে ধীরে নামে সন্ধ্যা ।
তুমি যখন জানালার পাশে দাঁড়াও
মেঘেরা দিক ভুলে যায়;
আয়নাও তোমাকে দ্যাখে।
আমিও দেখি
তোমার নীরবতার ভিতরেও
একটি সমুদ্র শব্দ করে ঢেউ হয়ে ফিরে আসে,
তুমি কাউকে অভিশাপ দাও না,
তোমার কান্নায়
অনেক নিষ্ঠুর শহর ডুবে যেতে পারে
কেউ ভাবে না এ কথা;
তোমাকে ভালোবাসা মানে
কোনো ফুল ছোঁয়া নয়,
বরং
একটি আহত গ্রহকে
দু’হাতে তুলে নেওয়া।
নারী ও মহাকাল
সভ্যতার প্রতিটি ধ্বংসস্তূপে
একজন নারী বসে ছিল,
কখনও মা হয়ে,
কখনও প্রেমিকা,
কখনও একা অন্ধকারের সহযাত্রী।
যুদ্ধ শেষ হলে
পুরুষেরা ফিরেছে পতাকা নিয়ে,
নারীরা ফিরেছে
মৃত মানুষের নাম মুখস্থ করে,
বিধ্বস্ত করে নিজেকে।
এই পৃথিবী এখনো টিকে আছে
কারণ নারীরা
নিঃশব্দে ভেঙে পড়েও
আবার উঠে দাঁড়ায়।
মন্তব্য

