ত্রাস
নীলকুঠি ভরা বিষ!
আমি সব উগরে দিতে চাই
বমিতে ভাসিয়ে দিতে চাই
কুয়াশা মোড়ানো সময়ের সাঁজোয়া জমিন।
অজানা শঙ্কার বেশে রাতদিন আসে
ভোরে ভাসে উল্কাপোড়া ত্রাস
সারাদিন স্নায়ুতে সত্তার রেশ
ধিকি ধিকি বাজে
যেন এক সৌরঝড় অভাবিত অন্ধকারে
বাতিঅলার কাছে আলো ভিক্ষা করে ।
এক ঝাঁক মাছ স্থবির তপস্যা ছেড়ে
কেবলই উর্ধ্বমুখী
ইচ্ছের ঘুড়িতে নদীর সীমানা মাপে ।
পথে পথে সারি সারি উন্মাদনা!
আমি ছড়িয়ে দিতে চাই
ভেঙে দিতে চাই
বজ্র মেশানো স্বাগতিক সম্ভাবনা
নিজেকে ছিন্নভিন্ন করে তুলোয় ভাসিয়ে দিতে চাই
বহুদিন ধরে কাঁধে চেপে থাকা
জয়তু এ জীবনের ভুল।
দূরত্ব
কতদিন দেখা হয় না!
লাল টুকটুকে মোরগের ঝুঁটি বেয়ে
যে আলোর ঝিলিক অন্দর ছেড়ে
উঠোনে ছড়ালো
তার পিছু নেওয়া ছায়ার শরীরে
কত যে সময় গড়ালো
থেমে গেল তারার নূপুর
কতদিন দেখা হয় না!
মতিঝিল থেকে পল্টন
কিছু শব্দগত দূরত্বের মাঝে
একা একা পোড়ে আমাদের
যৌগিক জীবন।
মাঝরাতে জেগে উঠে ভাবি
তুমিও তো পারতে দিগন্ত প্রাচীর থেকে
ভরাট চুম্বনের স্মৃতিগুলো
তুলে নিয়ে যেতে।
তর্জনী, রক্ত আর শরৎবিলাস
আমার ডানহাতের তর্জনীর রক্তে ভিজে গেল
তোমার কপাল, নাক, তোমার দুঠোঁট, বুকের জমিন আর নাভিমূল
তুমি স্থির, অকম্পিত যেন ধূসর গতির এক শব্দলেখা
বসে আছ অসীম উপান্তে
দূর মরীচিকা ছেড়ে সুদূরের কাছে।
আমার নিঃশ্বাসে ওড়ে বিপন্ন ধূলিচিত্রের ঝাঁক
দেখেও দেখোনি,
বোঝনি কতোটা তীক্ষ্মতায় আহত হয়েছি বহুবার
কেঁদেছি, কেঁপেছি,
তর্জনী হারিয়ে ছুটে গেছি রুদ্ধশ্বাস!
অথচ অনড় তুমি!
ছুঁতে চাও মেঘ ঘন শরৎ বিলাস।

