অতিক্রম করে পঞ্জিকা নিয়ন্ত্রিত কাল
কোনো কোনো দিন নিদারুণ কাকতালে
মেঘশুভ্র ফুলে ফুলে প্রাণবন্ত প্রান্তরের পেয়ে যাই সন্ধান,
পাশ দিয়ে কটিদেশে মোচড় তুলে ছুটছে ছোট্ট একটি নদী—
আলবাঁধা বর্গক্ষেত্রের পরিসরে সবুজে সতেজ কাজলদিঘি ধান,
জুরি নামা অশ্বত্থ…উইপোকারা খাটিয়েছে জোড়া তাঁবু
পাতকুয়ার অতল বৃত্তে ভাসে কলস—নিলিমাভাসা জলধি…
নদীপাড়ের কাশবনে লেগেছে চামরের ঊর্মি
চাইলে বসা যায় নিরিবিলি,
নিরিখ করে তাকাই, একটি ঝোপে ফুটেছে পুষ্পিত শঙ্খ—
ভিন্ন তরুবর থেকে ঝুলে তবক দেওয়া পানের রুপালি খিলি,
ছড়ায় সুরভি—ফল থেকে ফোঁটায় ফোঁটায় ঝরে চন্দন-পঙ্ক;
বেলা যায়— সাঁজগোধূলিতে ফুটে ওঠে কার্তিকের নওল চন্দ্রিমা
দিগন্ত-দর্পণে প্রতিফলিত হচ্ছে উপগ্রহ…একটি নয়, দুটি,
গহন গভীরে কী যেন অতিক্রম করে যায় অভিকর্ষের পরিসীমা
নক্ষত্রের নাটমন্দিরে দেখি কিরণে কাঁপছে নীলিমার যুগল ভ্রূকুটি;
তারকার দিব্য কোরিওগ্রাফিতে মুহুর্মুহু বদলায় কসমিক অবয়ব
নৃত্যের বিলোল মুদ্রায় সৃজন করে অনিকেত ম্যান্ডেলা,
দিবস-রজনী মাস ও বছর অতিক্রম করে সত্তায় সৃজিত হয় শব
ছোট্টনদীটিতে আসে ঢল…ভেসে যায় উড়ুক্কু মাছের কাফেলা;
কোনো কোনো দিন পাই না খুঁজে কোথাও কিছু—
তালাশ করি—কোথায় নিসর্গ-নন্দনের নিরিবিলি দফতর
কোন প্রক্রিয়ায় পাওয়া যাবে কী—মঞ্জুরি,
দরখাস্তের তুলটে নিদারুণ নিষ্টায় বসাই ব্রাহ্মী বিসর্গ…অনুস্বর—
আর কিছু না হোক—
সন্ধান করি একটি অশ্বত্থ—প্রশিক্ষিত পোষা হস্তির মতো
চোখের সামনে যে নামাবে জুরি;
অথবা আলাবোলা একটি তেপান্তর—
উপলব্ধির ভূইফোঁড়ে বিস্ফোরিত হবে বীজ
অতিক্রম করে পঞ্জিকা নিয়ন্ত্রিত কাল,
গ্রহ থেকে গ্রহান্তরে ছুটে যাবে অন্তর—
অমানিশার জঠর থেকে বেরিয়ে আসবে অভ্রচূর্ণে কুসমিত সকাল,
নিমেষে শিশু-চারাটি রূপান্তরিত হবে বয়োবৃদ্ধ বৃক্ষে—
শীতনিদ্রার কাকুন ছেড়ে দেখা দেবে ফের
সোনালি সর্প অন্তরীক্ষে।
সকলই গরল ভেল
কুয়াশা ছড়ানো হিমেল সকালে তপ্ত কফিতে যখন ছড়াবে না
প্রার্থিত উষ্ণতা,
তলপেটে হাঙ্গরের দাঁত হয়ে কেটে বসবে প্রচলিত প্রথা—
লোপ পাবে—
সাবুজিক প্রাঙ্গনে শতরঞ্জি বিছিয়ে পিকনিক বাস্কেট ঘিরে
হার্দিক কথাবার্তার প্রেষণা,
হেঁটে যাবে চোখের সামনে—
ঝুঁটিতে রিবনের ফুল পরা শতেক চিনেহাঁস,
চেনা জনপদ হয়ে ওঠবে মায়াবিভ্রম ছড়ানো ছলনা—
কোনো কিছুতেই পাওয়া যাবে না স্বস্তি কেবলই উঠবে নাভিশ্বাস;
যাপিত জীবন থেকে যখন দূরীভূত হবে
পুস্তকপাঠের আগ্রহ—
মনশ্চক্ষে ভেসে উঠবে ঝিরিঝিরি বৃষ্টিতে স্বজনের লাশ
গোর দেওয়ার দৃশ্যপট,
সপ্তর্ষিমন্ডলের ছত্রছায়ায় দৃশ্যমান হবে শনিগ্রহ—
বাজ পড়ে টুণ্ডামুণ্ডা হবে পাড়ার শতবর্ষী বট;
আর দেহমন থেকে যখন তিরোভাব হবে
সঞ্চালনের উদ্যোম,
বিফল হবে প্রার্থনা,অলভ্য হবে বাঞ্চিত পরম—
জং ধরে খয়েরি হতে থাকবে ঝাউগাছে হেলান দেওয়া
প্রিয় বাইসাইকেল,
মনে হবে—বৃথা প্রত্যাশা পাপপুণ্য
সকলি শূন্য
‘সকলি গরল ভেল’।
উপহার
অর্ধ-যুগের যোগসূত্রে জেনেছি—মাঝেমধ্যে
তোমার ঘাটেও ভেড়ে প্রত্যাশার পালতোলা নাও,
প্রত্যহ পাঠাই শরৎমেঘের যে শুভ্র বার্তা—
তা দেখার সুযোগ কী পাও?
ভাবছি এবার পাঠাবো—মুগ্ধ মনের মসলিনে বোনা
একটি উপহার,
তৈরি করি তালিকা—তসর-রেশম পশমের পশমিনা
সুরভিত রজনীগন্ধার সরোৎসার,
কার্ডে ক্যালিওগ্রাফ করে ফোটাই স্প্যানিশ শব্দ কারিনা;
ভুলে যাইনি— পাঠিয়েছিলে ক্যানভাসে এঁকে
আন্দালুসিয়ার আকাশ-চেরা ভুবনচিল,
শতেক চেষ্টায়ও ডাকযোগে পারি না পাঠাতে
রোহিত ছলকানো চলন বিল;
ভালোবাসো কীটপতঙ্গ—তাই ঘুনপোকা এক
করেছি বন্দি বয়ামে,
ভাবছি নীরবে রেখে আসবো তোমার দোরগোড়ায়—
অনুভব করতে পারবে হয়তো
কিসের আকুতিতে ডানা কুটে রজনীর মধ্যযামে,
কোন কার্যকারণে দাবদাহ কেলিফোর্নিয়ার বনানী পোড়ায়;
ফের ভাবি—পাঠাবো একটি কাঁটা কম্পাসও
হয়তো নিকেশ করতে পারবে কতটা হয়েছি দিশেহারা—
স্বদেশের চেয়ে কখনো প্রিয় হয়ে ওঠে পরবাসও,
আরও পাঠাবো—আকাশের মানচিত্রে আঁকা
ধূসরিম রোগের ধন্বন্তরী দূর গগনের ধ্রুবতারা।

