আমার সব আছে
আমি জানি, আমার সব আছে
বিশাল একটা আকাশ আছে
যার বুকে রঙ ছিটানো জমি আছে
দাউ-দাউ করে জ্বলে ওঠা
সরষে রঙের আগুন আছে।
ফাগুন ভোরে কোকিল ডাকা
সাজ ছড়ানো রোদ আছে।
আমার সব আছে—
একটা বিরাট পাহাড় আছে
সেই পাহাড়ে নির্ভার এক সিঁড়ি আছে
মানুষ রঙের পুতুল আছে
হাজার রকম আলো আছে
গণিত সংখ্যায় কেনা।
আমি জানি, আমার সব আছে
ধূসর একটা হৃদয় আছে
লক্ষ্য নামে চেনা
সফেদগুচ্ছ প্লাবন নামে
মন খারাপের আর্তনাদে
একটা আলো হাসে।
আমি জানি, আমার সব আছে
পরানের পৈতা তবু প্রজাপতির মতো উড়ে
আমি জানি, আমার সব আছে
তবু নিজেকে রাখার মতো
একটা কিছু নেই।
বীজ
হাসি-খেলার ভেতর
আমাকে কেউ ফেলে দেয়—
অন্তঃসারশূন্য এক উচ্চারণ।
মুখের লালা, জিহ্বার উষ্ণ আলিঙ্গন
আমার ভেতর কম্পন তোলে
আমি পড়ে যাই এক টুকরো পৃথিবীতে
যার শরীরজুড়ে
মানুষের মল-মূত্রের ইতিহাস।
এখানে কেঁচো আর কেউটে
গিজগিজে জীবনের মানচিত্র
তাদের নীরব হালচাষে
আমার নগ্ন দেহ ঢেকে যায়।
মৃতপ্রায় আমাকে
কেউ ওম মেখে আগলে রাখে—
অদৃশ্য প্রার্থনার মতো।
অবাঞ্ছিত হয়েও আমি চেপে আছি
মানুষে –মানুষে, মাটির উপর
তবু জল আর মাটি
শরণার্থীর মতো আমাকে নিরাপত্তা দেয়।
আমার দু’চোখে তখনো
বেঁচে থাকার সবুজ।
পত্রপল্লবে আমি প্রতিবেশী হয়ে উঠি
আবার বড় হই।
ভাবি—
কোন কালের অভ্যাসে দাঁড়িয়ে
প্রজন্ম ধ্বংসের মহড়া দিচ্ছি—
আমি ও আমরা।
অপাঠ্য সিলেবাসে
কাঁটাতারের গিঁটে টান টান ব্যথা—
বিষয়টা বড্ড অদ্ভুত!
বেদনার্ত মুখগুলো খোঁজে শুধু রাত্রি,
যাপনে অভ্যস্ত মানুষেরা-পলায়ন করে
রাজনীতি, পদার্থ আর রসায়নের আটকে ধরা পাঠে।
যাপন শেষ হয় এখানে
আধখানা চাঁদ অন্ধকার ঠেলে
বেরিয়ে আসতে চায়
অথচ আকাশজুড়ে মেঘেদের নীরব যুদ্ধ।
শুনেছি, জোৎস্নার রাতে
সাপেদের সঙ্গম-সুর বাজে দূরে কোথাও-
তবু সাপুড়ে ফিরে আসে বিষ নিয়ে
শ্বাসকষ্টে নুয়ে পড়া শরীরে
সব ভুল ঠিক রেখে ফেরে না কেউ
কাঁটাতারে গেঁথে থাকা
ঝলসে যাওয়া মাংসের মতো।
মাদ্রাসা-পড়ুয়া পবিত্র মুখগুলো আজ কালিমালিপ্ত
সমাজের নিবন্ধসমূহ হয়ে পড়ে নীরব-
প্রতিচ্ছবি নয়, শুধুই নিস্তব্ধতা।
রাস্তায় চলে চাঁদাবাজির মহড়া
তপোবনের উত্তেজিত বাতাসে
ভেসে বেড়ায় লাশের গন্ধ।
আর আমরা?
নিজেদের বাঁচিয়ে রাখি—প্রতিনিয়ত
এক অপাঠ্য সিলেবাসে।
কবিকণ্ঠে শুনুন: তিনটি কবিতা

