আকলিমা আঁখির তিনটি কবিতা
এক আটি দুঃখ আর কয়েক ফোঁটা অশ্রু
পেছনে ফিরে তাকানো চোখ দুটো থমকে যায়
কিছু পরিত্যক্ত সময়ের মুহূর্ত থকথকে রক্ত
কাদা জলে মাছের সজীব ডিম।
কিশোরীর খোলস পাল্টানো সদ্য যৌবন—
কোলে নিয়ে হেঁটে যায় দীর্ঘ বিশ্বাসের
প্রথম নিঃশ্বাসের চোরাপথ।
অতপর নরসুন্দার জল!
অবিশ্বাস্য কিছু মুহূর্ত ঢেউ তোলা লাজুক
ঘোরলাগা সময়ের জানালা খুলে
পড়ন্ত বিকেলের রাঙা গোধূলি ফেরে ঘরে।
অতপর ব্রহ্মপুত্রের চোরাবালি!
এখন শুধু পেছনে ফিরে তাকিয়ে থাকা
বিশ্বাসের কাগজে মোড়ানো লাল গোলাপ
সহজ হৃদয়ে সাদা রজনীগন্ধার সুবাস।
পুনশ্চ:
এক আটি দুঃখ আর কয়েক ফোঁটা অশ্রু…
নির্জনতার কাতরতা
আমরা আমাদের থেকে দূরে
কাছে থাকার মন্ত্রণায় দূরে বহু দূরে ।
তরঙ্গে ভাসা শব্দের ছোঁয়া
বিদ্যুৎ চমকে ছবির মায়া
ভুলিয়ে রাখে
না হয় ভুলে থাকি
আজ নির্জনতা ভেঙে চুরমার
ভীষণ হাহাকার—
ছড়িয়ে থাকে হৃদপিণ্ড
তড়পাতে থাকে যন্ত্রণায়
দূরে যায় দূরে রয়
সুখের সন্ধানে কাতরায়।
আহা! কাতরায়, নিষ্টুর যন্ত্রণায়
কাতরায় আর কাতরায়।
ভিড়ের নিঃসঙ্গতায়
নির্জনতায় কাতরায়
কাতরায় আর কাতরায়।
যে যার মতো আছি
যে যার মতো আছি
রোদ বৃষ্টির মতো একাকী বাঁচি।
হ্যাঁ, ভাই আছি, আছি বেঁচে আছি।
কচুপাতায় কি আড্ডা জমে বৃষ্টির?
না কি ভেজা উঠোনে আড্ডা জমে রোদের?
কেয়া পাতার নৌকা নিয়ে
হারিয়ে গেছে স্বপ্নচারী নাজমুল মাঝি
পদ্মার বুকে
লোনাপানির নেশায় উত্তাল সাগরের বুকে ঢেউ ভেঙে
তার ব্যস্ত সময় কাটে প্রেসের ছাপানো পৃষ্ঠা গোনে।
সদাচারী শামীম আজ নিশিপোকার দলে
নদী পাখি ভোরের সূর্য দেখেন পত্রিকার পাতায়।
তারেক সযতনে ভবিষ্যতের গল্প বোনে স্মৃতির পাতায়
লাস্যময়ী সাকিনার কবিতার খাতা ওড়ে হাওয়ায় হাওয়ায়
বড় ব্যস্ত সময় কাটায় মনপুরাদ্বীপ
কলেজের অলিতে-গলিতে বাজে তার মিষ্টি সুর।
গাঙুরের কূল ঘেসে পাহাড়ের পাদদেশে
মিষ্টি বাতাসের অপরূপ জ্যোস্নায়
হাতেহাত ধরে পথ হাঁটে আঁখি-নিলয়।
এভাবে সময় আর অসময়ের গল্প বলে
পায়ে পা ফেলে এগিয়ে চলে কাল
মহাকালের পথে।
নিলয় রফিকের কবিতা
যুদ্ধবাজ
মানবতার অর্থ কী? মৃত্যুর মিছিল!
কোমল গোলাপ ঝরে যায় নিয়তির
দরজায়। কৃষ্ণচূড়ায় লাল মানচিত্র।
মধ্যযুগ গহ্বরে, আদিযুগের বর্বরতা
রক্তপিপাসু দানবের তাণ্ডবে পৃথিবী
আজ দুই দিকে, মানব খেলার মাঠে দর্শক।
এক শ্রেণীর মনুষ্যত্ব স্বপ্নজীবীর প্রতিবাদে
মুখরিত, শান্তি চাই, বিচ্ছেদের যন্ত্রণা
থামাও! ফিরুক শান্তি।
লুটেরা ঠাণ্ডা মাথায় খুন করে, আনন্দের
উল্লাসে মদের পেয়ালায় স্বপ্ন আঁকে
আগুনেই পুড়ে যাক, রক্তস্নানে ডুবে যাক
চারিদিকে যুদ্ধ ছড়িয়ে যাক…
সাম্রাজ্যের জানালা মুচকি হাসে!
সমুদ্রের ভেতর সমুদ্র
কাছে থেকেও দূরে সমুদ্র
আর্তনাদ শুনে মনটা নাচে
চোখের ভেতর চোখ, হৃদয়ের
ভেতর হৃদয়, দূরে থেকেও কাছে।
কাছে থেকেও দূরে আদিনাথ
বুকের গহিনে অলঙ্কার
শব্দকুমারী ঢেউ খেলে যায়
বাতাসের সঙ্গে বারংবার।
সাম্পানের মাঝি শীতের গরম—
শার্ট কোথায়? তসলিমার দেশে
শৈত্যপ্রবাহ গান শোনায় ঝরাপতার
দূরে থেকেও কাছে ভাসে।
সমুদ্রের ভেতর সমুদ্র, স্নানে
পরিপূর্ণ পূর্ণিমার রাত
দূরে থেকেও আরও কাছে
সমকামী নদী, মানে না কোনো জাত।
রুচিশীল
বড় হচ্ছে, জানালার ফাঁকে অমৃতবৃক্ষ
চোখের কোণে আড়ালের গুপ্তকথা
সুন্দরের নৃত্য, আচ্ছন্ন জমির বৃষ্টি-প্রার্থনা
মেঘের ভেতর রাজশাহীর আম
সুরভিত মার্বেল ঘোরে উঠোনে
পরানে আকুল তৃপ্তি ভালোবাসার
বর্ষার জলে কবিতার ডানা।
ঠোঁটের পাতায় গোলাপের চিহ্ন
রুচিশীল নদী আঁকে অমরত্বের সড়ক
শুরু করি আঁকা-আঁকি
বিরহ দিও, সুখের অঞ্জলি নিও।

