চিন্তাসূত্র ডেস্ক
না-ফেরার দেশে চলে গেলেন কথাসাহিত্যিক রাবেয়া খাতুন। রবিবার (৩ জানুয়ারি) বিকালে রাজধানীর বনানীতে নিজ বাড়িতেই তিনি মৃত্যুবরণ করেন। এই সময় তার বয়স হয়েছিল ৮৫ বছর। তার পরিবারের সদস্যদের বরাত দিয়ে চ্যানেল আই কর্তৃপক্ষ গণমাধ্যমকে এই তথ্য নিশ্চিত করে।
পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সর্বসাধারণের শ্রদ্ধা নিবেদনের সোমবার দুপুর ১২টা থেকে ১টা পর্যন্ত বাংলা অ্যাকাডেমি প্রাঙ্গণে রাবেয়া খাতুনের লাশ রাখা হবে। দুপুর ২টায় চ্যানেল আই প্রাঙ্গণে জানাজা শেষে বনানী কবরস্থানে তাকে দাফন করা হবে।
রাবেয়া খাতুনের জন্ম ১৯৩৫ সালের ২৭ ডিসেম্বর। ঢাকার বিক্রমপুরে মামার বাড়িতে। তার পৈত্রিক বাড়ি মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগর উপজেলার ষোলঘর গ্রামে।
১৯৫২ সালের ২৩ জুলাই চলচ্চিত্র পরিচালক এ টি এম ফজলুল হকের সঙ্গে তার বিয়ে হয়। তাদের চার সন্তানের মধ্যে ফরিদুর রেজা সাগর (চ্যানেল আইয়ের ব্যবস্থাপনা পরিচালক) ছাড়াও রয়েছেন কেকা ফেরদৌসী, ফরহাদুর রেজা প্রবাল ও ফারহানা কাকলী।
রাবেয়া খাতুনের উপন্যাসের মধ্যে রয়েছে, মধুমতী, সাহেব বাজার, অনন্ত অন্বেষা, রাজারবাগ শালিমারবাগ, মন এক শ্বেত কপোতী, ফেরারী সূর্য, অনেকজনের একজন, দিবস রজনী, সেই এক বসন্তে, মোহর আলী, নীল নিশীথ, বায়ান্ন গলির একগলি, পাখি সব করে রব, সে এবং যাবতীয়, হানিফের ঘোড়া, চাঁদের ফোটা, বাগানের নাম মালনিছড়া, সৌন্দর্যসংবাদ, মেঘের পর মেঘ, যা কিছু অপ্রত্যাশিত, দূরে বৃষ্টি, শুধু তোমার জন্য, কখনো মেঘ কখনো বৃষ্টি, আকাশে এখনো অনেক রাত, মহা প্রলয়ের পর, শহরের শেষ বাড়ি, নষ্ট জ্যোস্নার আলো।
সাহিত্যকর্মের স্বীকৃতিস্বরূপ রাবেয়া খাতুন পেয়েছেন স্বাধীনতা পদক, একুশে পদক, বাংলা অ্যাকাডেমি পুরস্কার, হুমায়ূন কাদির স্মৃতি পুরস্কার, বাংলাদেশ লেখিকা সংঘ পুরস্কার, নাসিরউদ্দিন স্বর্ণপদক, জসিমউদ্দিন পুরস্কার, শেরে বাংলা স্বর্ণপদক, চন্দ্রাবতী স্বর্ণপদক, টেনাশিনাস পুরস্কার, ঋষিজ সাহিত্য পদকসহ বহু পুরস্কার।
