
- চিন্তাসূত্র ডেস্ক
আজ ৪ ডিসেম্বর, আজ একুশে পদকপ্রাপ্ত চারণ কবি বিজয় সরকারের ৩২তম প্রয়াণ দিবস। ১৯৮৫ সালের ৪ ডিসেম্বর ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কেউটিয়ায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন। তার প্রয়ান দিবস উপলক্ষে নড়াইলের জেলা শিল্পকলা একাডেমি প্রাঙ্গণে সকাল ১০টায় শুরু হচ্ছে দুদিনব্যাপী বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠান।
বিজয় সরকার ফাউন্ডেশনের আয়োজনে এসব কর্মসূচি পালন হচ্ছে বলে জানান অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোহাম্মদ কামরুল আরিফ।
প্রয়াণ দিবস উদযাপন পর্ষদ সূত্রে জানা যায়, ৩২তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আজ ৪ ডিসেম্বর ও পরেরদিন ৫ ডিসেম্বর দু’দিনব্যাপী অনুষ্ঠিত হবে চিত্র প্রদর্শনী, বিজয়গীতি পরিবেশন, বিজয় সরকার পদক প্রদান, বিজয় সরকারের জীবন ও কর্ম নিয়ে আলোচনা সভা।
বিজয় সরকার ফাউন্ডেশনের আজীবন সদস্য আকরাম শাহীদ চুন্নু জানান, দুদিনব্যাপী অনুষ্ঠান সফল করতে নানা উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। অনুষ্ঠানে ভারতসহ দেশ-বিদেশের বরেণ্য কবি, সাহিত্যিক, গবেষক ও লোকজ সংস্কৃতির পুরোধারা অংশ নেবেন।
বিজয় সরকার ১৯০৩ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি নড়াইল সদর উপজেলার বাঁশগ্রাম ইউনিয়নের ডুমদি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবার নাম নবকৃষ্ণ অধিকারী। মায়ের নাম হিমালয়া দেবী। তার প্রথম স্ত্রী বীণাপাণি দেবীর মৃত্যুর পর প্রমদা দেবীকে বিয়ে করেন তিনি। পরবর্তী সময়ে প্রমদারও মৃত্যু হয়। দু’ছেলে কাজল অধিকারী ও বাদল অধিকারী এবং মেয়ে বুলবুলি ভারতে বসবাস করেন। তার শৈশবকাল ও জীবনের বেশির ভাগ সময় কেটেছে প্রিয় জন্মভূমি ডুমদিসহ নড়াইলের বিভিন্ন এলাকায়। ছেলেবেলা থেকেই বিজয় সরকার কবিতা, গান রচনা ও সুরের মধ্যে ডুবে থাকতেন। তাই প্রাতিষ্ঠানিক লেখাপড়ায় তিনি আর বেশিদূর এগুতে পারেননি।
মাত্র নবম শ্রেণীতে অধ্যয়নরত অবস্থায়ই তার লেখাপড়ার সমাপ্তি ঘটে। মতান্তরে তিনি ম্যাট্রিক পাস। এরপর তিনি গানের দল নিয়ে বেরিয়ে পড়েন বাংলাদেশ-ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলে। তিনি একাধারে গানের রচয়িতা ও সুরকার।পোষা পাখি উড়ে যাবে সজনী/ একদিন ভাবি নাই মনে…। এই পৃথিবী যেমন আছে/ তেমনি ঠিক রবে/ সুন্দর এই পৃথিবী ছেড়ে/ একদিন চলে যেতে হবে…। তুমি জানো নারে প্রিয়/ তুমি মোর জীবনের সাধনা’; এ ধরনের অসংখ্য জনপ্রিয় গানের স্রষ্টা ছিলেন তিনি। তার রচিত গানের সংখ্যা প্রায় এক হাজার ৮০০। তার প্রকৃত নাম বিজয় অধিকারী হলেও সুর, সঙ্গীত ও অসাধারণ গায়কী ঢঙের জন্য তিনি চারণকবি ও ‘সরকার’ উপাধি লাভ করেন। শিল্পকলায় অবদানের স্বীকৃতি স্বরূপ ২০১৩ সালে একুশে পদকে (মরণোত্তর) ভূষিত করা হয় তাকে। সূত্র: বাসস

