এবারের বইমেলায় আপনার বই প্রকাশিত হচ্ছে? প্রকাশক কে? প্রচ্ছদ কে করেছেন? প্রকাশিত বই সম্পর্কে কিছু বলুন।
হ্যাঁ। এবার বইমেলায় আমার একটি কাব্যগ্রন্থ প্রকাশিত হচ্ছে। বইটি প্রকাশ করছে মিজানুর শামীমের ‘শব্দশিল্প প্রকাশন’। প্রচ্ছদ করেছেন শিল্পী নির্ঝর নৈঃশব্দ্য। এই বইয়ে মোট ৩৩টি কবিতা অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। বেশিরভাগ কবিতাই প্রেমবিষয়ক। বইটিতে স্থান পেয়েছে প্রকৃতি, দেশ, নারী, সর্বোপরি বিশেষ কারও প্রতি মিনতি।
সারাবছর লেখক প্রকাশক বই প্রকাশ না করে এই একুশে বইমেলা এলেই বই প্রকাশের প্রতিযোগিতায় নামেন। মেলাকেন্দ্রিক বই প্রকাশকে আপনি কিভাবে দেখেন?
বাংলাভাষার ঐতিহ্য ধারণ করে আছে এই বইমেলা। এই মেলাকে কেন্দ্র করে প্রতিটি বাঙালির মনে আবেগ সঞ্চারিত হয়। এই আবেগকে পুঁজি করে লেখক-প্রকাশকরা বই প্রকাশের কাজে নেমে পড়েন। এটা ভালো দিক। তাছাড়া লেখক-প্রকাশক-পাঠক সম্পর্ক জোরালো হয়। তবে, বইমেলাকে কেন্দ্র অতিবাণিজ্য বা প্রতারণার আশ্রয় নিচ্ছে কিছুকিছু প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান। বিশেষ করে তরুণ লেখকেরা পড়েন চরম বিড়ম্বনায়।
একুশে বইমেলা বাংলাদেশের সাহিত্যে কী ধরনের প্রভাব ফেলছে?
ফেব্রুয়ারির একুশ তারিখ ভাষার জন্য যারা প্রাণ দিয়েছেন, তাদের স্মরণ করে এই বইমেলা নিঃসন্দেহে বাংলা সাহিত্যে সুদূরপ্রসারী প্রভাব ফেলছে। যেমন—বইমেলা ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সর্বস্তরে বাংলাভাষা চর্চার বিষয়টিও সামনে চলে আসে। যদিও বাস্তবে তা দেখা যায় না। দেশ-জাতির ইতিহাস সমৃদ্ধ বই, অর্থনীতি, রাজনীতি, বিজ্ঞান, ফিকশন, কবিতা, গল্প ইত্যাদি বিষয়ের বই পাঠক সহজে মেলায় এসে নিতে পারে। তাছাড়া, দেশের মানুষকে বই পাঠের দিকে আকৃষ্ট করা যায় এর মাধ্যমে।
একুশে বইমেলা প্রকাশনা শিল্পে তরুণদের অনুপ্রাণিত করার ব্যাপারে কী ধরনের ভূমিকা রাখছে বলে আপনি মনে করেন?
তরুণ লেখক উঠে আসে এই মেলাকে কেন্দ্র করে; বাংলাদেশের আনাচে-কানাচে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা তরুণ লেখকদের বই সম্পর্কে সম্যক ধারণা নেওয়া যায়। একুশে বইমেলায় বই প্রকাশকে উপলক্ষ করে তরুণ লেখকদের মাঝে বেশ তৎপরতা দেখা যায়। তবে, প্রকাশকের অনীহা, প্রতারণা, ব্যবসায়ের অধিক মানসিকতা তরুণদের কিছুটা হলেও নিরুৎসাহিত করছে।
প্রকাশনা-উপকরণের সহজলভ্যতার কারণে যে কেউ ইচ্ছা করলেই বই প্রকাশ করতে পারেন। এতে বছর বছর বাড়ছে বইয়ের সংখ্যা। বইয়ের সংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে মান বৃদ্ধি ঘটছে না বলে অনেকেরই অভিযোগ; বিষয়টাকে আপনি কী ভাবে দেখেন। বই প্রকাশের ক্ষেত্রে কোন নির্দিষ্ট নীতিমালা প্রয়োজন আছে কি?
বইয়ের সংখ্যার তুলনায় মান বাড়ছে না। এর প্রধান কারণ তিনটি।
১। প্রকাশনা উপকরণের সহজলভ্যতা।
২। প্রকাশকের অদক্ষতা ও ব্যবসালোভী মানসিকতা। এর ফলে প্রকাশক টাকা পেলেই যেনতেনভাবে বই প্রকাশ করেন। প্রয়োজন মানসিকতার পরিবর্তন।
৩। ভাষাজ্ঞান ও দক্ষতার অভাব। অনেক লেখকের দেখা যায় ভাষাজ্ঞানের অভাব। প্রমিত বানান, উপযুক্ত শব্দচয়ন, বাক্যতত্ত্ব না জেনেই অনেকে বই প্রকাশ করেন। বিষয়টি খুব আত্মঘাতী। এতে লেখার মান কমে যায়।
তবে, আমি নীতিমালা করার পক্ষপাতী নই। কারণ, নীতিমালা বইপ্রকাশকে নিরুৎসাহিত করবে বলে মনে করি। আমার মনে হয়, লেখকসমাজ সচেতন হলে, বিশেষ করে বানান, বাক্যগঠন ও শব্দচয়নে সচেতন হলে বিষয়টি থেকে উত্তরণ সম্ভব।
আমার মতে, প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানের জন্য কিছু নিতিমালা থাকা প্রয়োজন। এতে, প্রকাশক-প্রতারণা হতে লেখকরা নিরাপদ থাকবে বলে মনে হয়। এ ব্যাপারে বাংলা একাডেমি এগিয়ে আসতে পারে।

