গল্প | চিন্তাসূত্র
৩ ভাদ্র, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ | ১৮ আগস্ট, ২০১৮ | রাত ১২:২৭

খসখসে হাত ॥ শেরিফ আল সায়ার

বদরপুর গ্রামে একটাই সাঁকো, আরও সাঁকো ছিল। বাকিগুলো ছোট ছোট ব্রিজে রূপান্তরিত হয়ে গেছে। শুধু আমাদের এদিকে ইউনিয়ন চেয়ারম্যান এখনো মুখ তুলে তাকাননি। আমাদের বেপারি বাড়ির দিকে যেতে সেই সাঁকো পার হতে হয়। সাঁকোটা নড়বড়ে। ওই সাঁকোতে উঠতে আমি ভয় পেতাম। আমি যখন ছোট ছিলাম আব্বা আমাকে কোলে নিয়ে সাঁকো পার হতেন। এক কোমরে...

ঢুলিগঞ্জের দেবতাগণ ॥ মঈনুল হাসান

জায়গাটার নাম ঢুলিগঞ্জ ঠিক কবে হলো, তা কেউ জানে না। অতসব খুঁজতে গেলে পাঁজি-পুঁথি বা ইতিহাস ঘেঁটে বের করতে হবে হয়তো। তারপরও পাঁচ গ্রাম ছাড়িয়ে এর সুখ্যাতি ছড়িয়ে পড়েছিল বহুদিন আগে। দোলাইয়ের তীরঘেঁষে কাঁচা-পাকা ইমারতের ফাঁকে ফাঁকে তখন গড়ে উঠছিল চালের বিশাল বড় মোকাম। মহাজনদের চালকলের গদিঘর ছেড়ে অল্পদূর গেলেই...

গপ ॥ রাকিবুল রকি

অন্ধকার। নির্মল বুঝতে পারে না—সে তাকিয়ে আছে না চোখ বুঁজে আছে। না, তাকিয়েই তো আছে। এত অন্ধকার কেন চারিদিকে? হাত পর্যন্ত দেখা যাচ্ছে না। কে যেন বললো—মশায় উঠে বসুন, উঠে বসুন। দেখবেন, আলো আছে না কবরে! ‘কবর’ শব্দটি কানে যেতেই ঝট করে উঠে বসে নির্মল। নিশ্ছিদ্র অন্ধকার দেখার পরে একশ পাওয়ারের বাল্বের ঘোলাটে আলো চোখে...

হাসির মাংস ॥ আনিফ রুবেদ

আমি ও একটা গল্প: আকাশের ধারে বসেছিলাম আমি। তার কিছুক্ষণ আগে মাত্র বসেছিলাম নদীর ধারে। নদীর ধার থেকে উঠে এসে আকাশের ধারে বসার কিছুক্ষণের মধ্যেই নিচের দিকে চোখ গেলো আর দেখলাম, একটা গল্প মাতালের মতো হাসতে হাসতে চলে যাচ্ছে। গল্পটিকে আমি জিজ্ঞাসা করলাম, এভাবে মানুষের অপমান নিয়ে কিভাবে তুমি হাসতে হাসতে সময়ের...

কোনো এক বরাহের মুখ ॥ শিল্পী নাজনীন

সত্যি বলতে কী, আমি ভীষণ চমকে গেছিলাম। আমার মধ্যে এমন অদ্ভুত এক অনুভূতি তৈরি হয়েছিল যে, মাথা কাজ করছিল না, ভাবনাগুলো কেমন ইয়ারফোনের তারের মতো তালগোল পাকিয়ে গেছিল। অনুভূতিটার সঙ্গে আমার কোনো পূর্বপরিচয় ছিল না। তবে হ্যাঁ, সেটাতে বিস্ময় ছিল, ভয় ছিল, আর ছিল ঘৃণা। এই তিন মিশ্র অনুভূতির ধাক্কা সামলে নিয়ে যখন আমি...

কোথাও একটা ত্রিভূজ আছে ॥ আহমেদ শরীফ শুভ

এই গল্পটি অন্যরকম হতে পারতো। হয়নি। কারণ, আসিফ যেভাবে গল্পটি এগিয়ে নিতে চেয়েছিল, মধুমিতা সেভাবে চায়নি। গল্পটি তাই ‘অতপর তাহারা সুখে শান্তিতে প্রেম করিতে লাগিল’—এই টাইপের হয়নি। তাই বলে মধুমিতা যেভাবে চেয়েছে, গল্পটি সেভাবেও লেখা হয়নি। হয়েছে তৃতীয় একটি ধারায়। এই গল্পে অযাচিতভাবেই নিশা চলে এসেছে। অথচ মধুমিতা...

টানাপড়েন ॥ রঞ্জনা বিশ্বাস

তুমি তো দেখছি মনডারে হাতে লইয়া আইছো আইজ। বলি, একটু বেশি মনযোগ দাও। শাড়িডা যেন্ সেই রকম হয়, আমার ইজ্জতের প্রশ্ন। ধমকটা নুর হোসেনের বুকে একেবারে শেলের মতো বেঁধে। পাশাপাশি আরও দুই কারিগর খটাখট হাতেম টানছে। অপমানটা সে কারণেই একটু বেশি বাজছে। এছাড়া এ তল্লাটের কে না জানে নুর হোসেন মাকুর জুড়ি মেলাভার! দাদীর শিক্ষা,...

ল্যাম্পপোস্ট ॥ মেহেদী সম্রাট

রাস্তা একেবারেই জনশূন্য তখন। মূল সড়কে মৃদু আলো থাকলেও রাস্তার দু’পাশে গাঢ় অন্ধকার। দীর্ঘক্ষণ পরপর দুই-একটা কার্গো কিংবা ট্রাক ছুটে যাচ্ছে সাঁ-সাঁ শব্দে। মাঝে মাঝে অদৃশ্য কোনো জায়গা থেকে ভেসে আসা বেশ কয়েকটা কুকুরের ঝগড়া শোনা যায়। কখনো দুই-একটা সামনেও পড়ে। বড় অদ্ভুত ওরা! মানুষ দেখলে দৌড়ে পালায় না। বরং রাস্তার...

ফেকুর মনের ঘরে ফেরা ॥ সোলায়মান সুমন

ভাদুমিয়ার চায়ের স্টলে গপ্পো মেরে সারাটা বেলা কাটে ফেকুর। দিনে তার কোনো কাম নেই। ফেকু বুক ফুলিয়ে বলে, সাধু আর চোরের ল্যাগা রাইত। তুমাদের মতো সাধারণ মানুষের দিন। বর্ডার পার হয়ে চুরির জন্য এত্ত বড় কোলিজা লাগে মিয়া!  ফেকু তার হাত দুটো দুদিকে ছড়িয়ে দিয়ে বড় কলিজার সাইজ দেখায়। বলে, ঝুক্কি বেশি, লাভ বেশি। আরে  মিয়া...

কালো মাফলার ॥ মাহমুদুল হক

এখন সবচেয়ে বড় সমস্যা হয়ে দেখা দিয়েছে রাত; ঘোরতর দুশ্চিন্তা জটিল অসুখের মতো এই সময় চড়চড় করে বাড়ে। এক একটা আস্ত রাত কোনোমতে কাবার করা নিয়ে কথা। ভোর মানেই স্বস্তি; যতক্ষণ তা না হচ্ছে, কাকের ডাক শোনা না যাচ্ছে…দাঁতাল দুশ্চিন্তা তাকে বেড় দিয়ে রাখে। বিছানায় শুয়ে শুয়ে উসখুস করতে করতে মনোয়ার হাঁপিয়ে...