ছড়া | চিন্তাসূত্র
৬ আশ্বিন, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ | ২১ সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ইং | সকাল ৮:২৪

এই শরতে কাশের বনে

শরৎ শ্যামল মায়া ॥ স.ম. শামসুল আলম শরৎ হাসে গাঙের কাশে হাওয়ায় দুলে দুলে ছয়টি ঋতুর এই ঋতুটি স্বপ্ন ছড়ায় মুঠি মুঠি হাজার ফুলে ফুলে। হিমঝুরি আর মিনজিরি ফুল গগনশিরিষ ফোটে শেফালি বা ছাতিম মাতে হালকা সাদা-কুয়াশাতে দুর্বা নেচে ওঠে। আকাশ ভাসায় মেঘের ডিঙি ধানের ক্ষেতে ছায়া বর্ষামেয়ে বিদায় দিয়ে আসে নতুন সুবাস নিয়ে শরৎ-শ্যামল...

মিয়ানমারে গণহত্যাবিরোধী পঙ্‌ক্তিমালা

কেউ বলে না থাম কাজী মোহিনী ইসলাম রক্তখেকো সুচির মুখে করগে কুকুর হিসু ডাইনিটা রোজ হত্যা করে বৃদ্ধ-যুবক-শিশু! তাকিয়ে দেখে বিশ্ব বিবেক কেউ বলে না থাম কোথায় যিশু, মোহাম্মাদ কোথায় বুদ্ধ, রাম? অদ্বৈত মারুত উঠবে কেঁপে নদীটার সাথেও কথা বলা দরকার। যে নদীটা শিশুটিকে নিল বুকে ভাসিয়ে রাখল বাঁধিয়ে জলের হুকে; বাঁচতে দিল...

শিকার ও অন্যান্য ছড়া ॥ স্বপন শর্মা

ঈদ আনন্দ ভাবছে খুকি গরিব-দুঃখি দেশে যত আছে সব খুশির ভাগ পৌঁছে তো যাক প্রতি জনের কাছে। ঈদটা এবার হোকনা সবার সর্বজনীন মেলা উৎসব সবার কারও আবার হয় না যেন খেলা। ঈদের খুশি সবার বুঝি হওয়ার কথা এক! সব ভেদাভেদ কালো সফেদ সবটা সমান দ্যাখ। জনম দুঃখি হোকনা সুখি ঈদের দিনে এসে ঈদ মোবারক জানাই তাদের একটু ভালোবেসে। আসুন না...

কাক ও শিয়াল ॥ রিয়েল আবদুল্লাহ

এক. দহন জ্বালায় পুড়ছে হৃদয় বলছি না তো মুখে ভাঙছে বুকে উথাল নদী বলছি, আছি সুখে। কেউ জানে না কেউ বোঝে না কষ্ট কেন বুকে বুকের দহন মরন-কাহন বলে সকল লোকে। এইতো আছি বেশ আছি হে দাও যতইনা কষ্ট না হয় হব তোমার জন্য একেবারেই নষ্ট। দুই চতুর শিয়াল ফতুর হয়ে মাথায় দিলো হাত, মনের দুঃখে ঘুম আসে না কাটে না তার রাত। কাঁঠাল চুরি আঁঠালো...

নায়ক ও অন্যান্য ছড়া ॥ কাজল রশীদ শাহীন

উচ্চারণ বিধি (খাদিজার কাছে ক্ষমাপ্রার্থনাপূর্বক) বদ্-রুল, বদ্-রুল বোদরুল  বোদরুল নায়ক (তাজউদ্দীন আহমেদ-জ্বরের সুযোগে শার্ট ধুয়ে ফেলা মহান নায়ক, শ্রদ্ধাভাজনেষু) চিকুনগুনিয়া, চিকুনগুনিয়া ঘেননা দেখিয়া, লজজা লইয়া যানাতু পালায়া, চিকুনগুনিয়া গরমানুষ (পশুপাখি সহজেই পশুপাখি, কিন্তু মানুষ?) তুউ ফান তুউ ফান সরকার...

ছড়ায় ছড়ায় সাত ছড়াকার

 স্বপন শর্মার ছড়া বর্ষার কবিতা সারা রাতে বৃষ্টি পড়ে জানলা গেছে ভিজে, ভরে গেছে ডোবা পুকুর বাকি আছে কি যে! জলে ভরা ছপ ছপে ওই উঠোনের পাশটা, হেলে দুলে প্যাঁক প্যাঁকিয়ে চলছে পাতি হাঁসটা। গোমরা মুখো সূর্যি মামা মুখেতে নেই আলো, ঘরের কোণে, ছাতার তলে দিন কাটে না ভালো। ঝোপে ঝাড়ে উঠোন দোরে ভরে আছে জলে, গাঁয়ের বধূ পিচলা পথে...

ছন্নছাড়া ও অন্যান্য ॥ কামাল মুস্তাফা

বর্ষা এলে বর্ষা এলে খোকা খুকি দল বেঁধে যায় দূরে ছন্নছাড়া পাখির মতো বেড়ায় ঘুরে ঘুরে। টাপুর টুপুর ছন্দ তুলে বৃষ্টি পড়ে চালে বৃষ্টি পড়ে বর্ষাকালে বৃষ্টি পড়ে খালে। বৃষ্টি পড়ে উঠানজুড়ে হাঁটু সমান জল বৃষ্টি পড়ে ফুল বাগানে ভেজে ফুলের দল। বর্ষাকালে বৃষ্টি এলে ব্যাঙের বসে মেলা টাপুর টুপুর বৃষ্টি পড়ে যায় যে কেটে...

এক দুপুরের গল্প ॥ শারমিন সুলতানা রীনা

ঝক ঝকে রোদ ওঠা এক দুপুরে হাঁস গুলি ভেসে যায় তাল পুকুরে। ক্লান্তিতে পাখিদের নেই কোলাহল বৃক্ষের নিচে বসে দুষ্টের দল। আম জাম কাঁঠালের মৌ মৌ গন্ধে মন তবু নেচে ওঠে আহা, কি যে ছন্দে! কাঠ ফাটা গরমেতে নিশ্চুপ দিক হঠাৎ বৃষ্টি এসে হাসে ফিক ফিক।

বৃষ্টি মনকাড়া ॥ সুমন মাহমুদ

বৃষ্টি মনকাড়া মেঘ মেঘ খেলা এই আকাশ কালো আকাশের কোনখানে রোদেরা লুকালো! কোনখানে লুকালো রোদের কুটুম খোকনের চোখ থেকে পালিয়েছে ঘুম। ঘুমটাকে হারিয়ে বসে বসে ভাবে আলোকের খোঁজে সে আকাশেই যাবে। আকাশে গিয়ে মেঘ দেবে সরিয়ে বৃষ্টি তো নয়, আলো দেবে ভরিয়ে। ভাবতে না ভাবতেই বৃষ্টি এলো জানালার বাইরে সে দেখতে পেলো। ঝরঝর বৃষ্টিতে ভিজছে...

ঝড় উঠেছে ঝড় ॥ জনি হোসেন কাব্য

মাছ ও আমি রোদ নেভানো শেষ বিকেলের বয়স যখন বাড়ে, তখন আমি ঘর ছেড়ে যাই পদ্মা নদীর পাড়ে। নদীর পেটে মস্ত গোলা- গোলা ভরা মাছে, কে জানে ভাই ঐ গোলাতে কত্ত কী মাছ আছে? আমি শুধু টেংরা, পুটি, বোয়াল, ইলিশ, চিনি- ওদের সাথেই মনের কথা বলি প্রতিদিনই। পড়ার জন্যে ইটশহরে যেতে হবে চলে, শেষ বিকেলে আসব না আর পদ্মা নদীর কোলে। আর হবে না মাছের...