তিস্তা: পর্ব-১৩ ॥ হারুন পাশা | চিন্তাসূত্র
৫ আশ্বিন, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ | ২০ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ | সকাল ১১:৫৩

তিস্তা: পর্ব-১৩ ॥ হারুন পাশা

॥ পর্ব-১৩ ॥
৩৮

সম্মানিত সুধীমণ্ডলী, আজ ১৩ মার্চ। আমরা এখানে কেন একত্রিত হয়েছি? এর উদ্দেশ্য আছে। সেটা হলো তিস্তার পানি। তিস্তা নদী একসময় পানিতে ভরপুর ছিল। তিস্তার পলি এবং পানিতে আশেপাশের ফসল খুব সুন্দর হয়েছে। এখন তিস্তার বুকে ধূ ধূ বালুচর। কোথাও পানি নাই। নাই কোনো উর্বর জমি। ভারত সরকার তিস্তা নদীর উপর বাঁধ দিয়ে নদীর পানি অন্য জায়গায় সরিয়ে নিচ্ছে। আর আমাদের কৃষকের প্রাণ চলে যাচ্ছে। আমরা তো অনেক লং মার্চ করেছি, কিন্তু ফল আসছে না। বাংলাদেশ সরকার যদি ভালো উদ্যোগ নেন। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে যারা আছেন তারা যদি তাদেরকে তাগাদা দেন, তাহলে আমাদের সংকট দ্রুত শেষ হতে পারে। আর তিস্তায় যখন পানি চলে আসবে তখন আমাদের প্রাণবন্ত পরিবেশ ফিরে আসবে। আমরা আন্দোলনে নেমেছি, আন্দোলন করবো, করতে থাকবো দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত। ইনশাল্লাহ্। আপনারা সবাই আছেন তো?

হয়, হামরা আছি চেরমেন সাব। (উপস্থিত জনতার সম্মিলিত স্বর)

আজ আমরা দাবি-দাওয়ার লিপি জমা দিবো। তাদের সময় দিবো পাঁচদিন। এর ভেতর দাবি পূরণ না করলে পাঁচদিন পর, অর্থাৎ ১৮ মার্চ আমরা কঠোর আন্দোলনে আসবো। আপনারা প্রস্তুত হন। চলেন আমরা পানি উন্নয়ন বোর্ডের দিকে এগিয়ে যাই দাবি-দাওয়ার লিপি নিয়ে।

চেয়ারম্যান সাব পাচদিন পর নোক আনতে তো আবার যাতায়াত খরচ দেওয়া নাগবে। ভাবছেন কিছু?

হয় আইনুদ্দিন চা, তা তো ঠিক। তোমরা কিছু সামাল দেন। বাকিটা মুই দেইখপার নাগছং।

হ, সামাল তো হামাক দেওয়াই নাগবে। এতোগুইলা ভুই আবাদ করং। মাচায় তুলং দুইশো-তিনশো মণ ধান। এইবার যদি আবাদ মাইর যায় তাইলে তো নছে পড়ি যাইম। ব্যাটাটা বিশ্ববিদ্যালয় পড়ে মাসত মাসত ট্যাকা দেওয়া নাগে। আবাদে সম্বল। বাড়ির পাশত জমি বেচপে, না কিনলে বাড়িটা অ্যালফ্যাডাং করা যাবার নাগছে না। আবাদ বন্ধ হইলে মাঠে মরা নাগবে।

কি বাহে, তোমরা বিড় বিড় কইরবার নাগছেন ক্যা?

না, চেরমেন সাব কিছু নোয়ায়। মুই কয়েকজনের ব্যবস্থা কইরবার নাগছং। তোমরা ওইপাকে সামাল দেন।

মহিউদ্দিন, সুলতান এদিক আসো?

দোস্ত, চাচা ডাকতাছে।

তোমরা ক্যামন আছো?

বাঁইচা আছি।

শোনো, তোমাগোর নগে সেদিন ওই আচরণ করা ঠিক হয় নাই। মাফ করো আমাক।

চাচা, আপনে অইলাইন আঙ্গোর মুরুব্বি, মাপ চায়া শরম দিতাছুইন হ্যা।

তোমাগোরে যে ট্যাকা কম দিছিলাম, আজ সেই ট্যাকা ফিরত দিবার চাই। যদি ট্যাকা ন্যাও তাইলে বুঝবো তোমরা আমাক মাফ করছো।

বিপদো ফালাইলাইন। আচ্ছা, দেইন।

তোমরা ১৮ তারিখ আবার আইসো।

ঠিক আছে চাচা, আয়াম। এইডা তো আঙ্গোর অদিকার আদায়ের আন্দোলন। আমরা তো আয়ামই।

আচ্ছা, যাই।

এই বাদশা, তুইও আসছিস?

হয় চাচা, আসছং। পানি না পাইলে আবাদ করি ক্যামন করি।

ঠিকয়ে কছিস। শোন, তোক আবাদের যে অর্ধেক ভাগ দিবার কছনু, ওইটা দেওয়া নাইগবার নয়। তুই আরো দুইক্ষণ নিজে আবাদ করি খা।

চাচা, তাইলে তো ভালোই হইল।

ভালো থাক। বাড়িত তোর চাচি একলা, মুই যাং।

ঠিক আছে চাচা, তোমরা আগান।

৩৯

উপস্থিত সকলে জানেন আমরা ১৩ মার্চ পাঁচদিনের আল্টিমেটাম দিয়েছিলাম, তা শেষ হয়েছে। কিন্তু আমরা কোনো ফল পেলাম না। তাই আজ আমাদের আবার পথে নামতে হলো। আমরা বিশৃঙ্খলা চাইনি, চেয়েছিলাম শৃঙ্খলার মধ্য দিয়ে আমাদের পানির দাবি আদায় হবে। কিন্তু হলো না। তাই বাধ্য হয়ে রাস্তায় আসতে হলো। আমরা পাগলাপীর-জলঢাকা সড়ক অবরোধ করে অনির্দিষ্টকালের জন্য আমাদের কর্মসূচি পালন করবো। আপনারা সঙ্গে আছেন তো?

হ, চেরমেন সাব হামরা আছি। (উপস্থিত জনতার সম্মিলিত স্বর)

যতক্ষণ পর্যন্ত না তিস্তায় পানি পাচ্ছি ততক্ষণ পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যেতে হবে। কেবল আমরা নই, সারা বাংলাদেশে যারা বুদ্ধিজীবী আছেন, রাজনৈতিক ব্যক্তিরা আছেন, আমি সকলকে বিনীত আহ্বান করছি, আপনারা আসেন এবং দেখেন আমাদের তিস্তার কি করুণ দশা। আপনারা দ্রুত এ সংকট থেকে কৃষক সমাজকে উদ্ধার করেন। কৃষকরা যাতে বেশি করে ফসল উৎপাদন করতে পারে, সেজন্য ক্যানেল করেছেন, এখন ক্যানেলগুলো শুকিয়ে গেছে। ছাগলের দল ক্যানেলের মাঝ দিয়ে চলাচল করে। বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সেচ প্রকল্প তিস্তায় এক সময় প্রচুর ফসল উৎপাদিত হয়েছে। তিস্তা নদীতে পানি না থাকায় এখন এ সেচ প্রকল্প বন্ধ হয়ে যাবার উপক্রম। পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে, চরবাসী ও মাঝিরা, কৃষকরা তাদের পেশার বদল করছে। গরিব মানুষের আরো অসহায়ত্ব বেড়ে যাচ্ছে। আমরা এর একটা সুষ্ঠু সমাধান চাই।

হয়, হামরা এর সমাধান চাই। (সম্মিলিত স্বর)

আমন্ত্রণ সকাল ১১টার সংবাদে। খবর পড়ছি ফারহানা ন্যান্সি। এখনকার সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য সংবাদ হলো, রংপুরে পানির দাবিতে আবারো কৃষকরা আন্দোলন শুরু করেছে। আমরা এ বিষয়ে বিস্তারিত জানতে সরাসরি আমাদের প্রতিনিধির কাছে যাবো। জমির, গঞ্জিপুরের পরিস্থিতি এখন কেমন?

ন্যান্সি, আপনি হয়তো অবগত আছেন, ১৩ মার্চ রংপুর সদর উপজেলার পাগলাপীরের গঞ্জিপুরে পানির দাবিতে কৃষকরা অবরোধ করে ৫ দিনের আল্টিমেটাম দিয়েছিলো। আল্টিমেটাম শেষে ফল সুখকর না হলে ১৮ মার্চ পাগলাপীর-জলঢাকা সড়কের গঞ্জিপুরে বিক্ষুব্ধ কৃষকরা ১১টা থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য অবরোধ কর্মসূচি শুরু করেছে। পরিস্থিতি ভালো নয়। ন্যান্সি, এখনকার মতো আপডেট এ পর্যন্তই।

ধন্যবাদ জমির। আমরা আবার আপনার কাছে ফিরবো। আমরা স্টুডিওয়েতে একজন ভুক্তভোগী কৃষককে আমন্ত্রণ জানিয়েছি। তার নাম ওয়াহেদুর রহমান। এখন তার মুখ থেকেই আমরা শুনবো চলমান সংকট প্রসঙ্গে।

প্রথমেই চাষাবাদ প্রসঙ্গে জানতে চাই।

যখন আবাদ শুরু হয় তখন ক্যানেলত পানি থাকে না। স্কিম শ্যাষ হয়া গেইলে ক্যানেলত পানি ভরি থাকে, এই হইল হামার আবাদ। স্কিমের সময় ভুইয়ত পানি দেওয়া নাগে, নাই ইপাকে ক্যানেলখান গেইল ভাঙ্গি। ওই পর্যন্ত ইতি।

কতদিন থেকে এরকম চলছে?

চৈত মাস থাকি এইরকমই চলছে।

কত বছর থেকে আবাদ করেন?

ম্যালা বছর। ক্যানেল হওয়া থাকি এই পর্যন্তত আবাদেই আছি। সেজনওয়ারি সীমিত পানি। পানি অ্যাকনা আইসে। বাধ ভাঙি যায়। বাধ বান্দিতে, এইটা-ওইটা করতে হামার আবাদ উঠি যায়। স্যালো নাগাই। মডার নাগাই। ভুইটা তো গারছি। তোলা তো নাগবে। এইটা ছাড়া তো পথ নাই। ক্যানেলের পানির গ্যারান্টি নাই। হইলে হইল, না হইলে নাই। পানি পাইলে পাইনো, না পাইলে নাই। যখন আবাদের সময় তখন ক্যানেল শুক্যান। ক্যানেলের পানি দিয়া হামরা ভুই নাগাইছি ঠিক আছে। নাগায়া দুই একটিপ পানি দিছি ভুইয়ত। পরে ক্যানেল ভাঙি গেইছে, আইজ পর্যন্ত পানি আইসে নাই ক্যানেলত। এইদোন প্রত্যেক বছরে বছরে হয়। একদিন আইসে বিশ দিন নাই। এক মাস পর অ্যাকনা পানি দেয়।

এখানে কমিটি নেই?

না, খোলায়েশায় কমিটি নাই। কমিটি থাকে ক্যামন করি? অ্যাটে গায়রস্থ তো বদমাসই বেশি। দুনিয়াত ট্যাকা ছাড়া আর কোনো মামু নাই। ট্যাকাই হইল একমাত্র মামু। মোর একটা ভুই আছে। পানি দিলে। মোরটে ট্যাকা চাইছে। একশর জাগাত বিশ ট্যাকা দিনু, এই হিসাব এট্টে শ্যাষ। যায় কনটাক্ট নেইল অয় পানি উন্নয়ন বোডত ক্যাশ ট্যাকা দিয়া পানি কিনি আনে। অ্যাটে কায়ো একশ ট্যাকার জাগাত বিশ ট্যাকা দিয়া ক্ষ্যাত উঠি নিয়া গেইলে উইয়ার গ্রাম কুত্তি, বাড়ি কুত্তি, কার সাথে চিল্লাচিল্লি করবে? এই জন্যে অ্যালা আর কমিটি নাই। আগত আছলো। একজন সাইড ক্যানেল ডাকি নেইল। পঞ্চাশ হাজার ট্যাকা পানি উন্নয়ন বোডত দিয়া আসিল। পঞ্চাশ হাজার ট্যাকা তো তোলা নাগবে? ইয়ার সাথে কিছু নাভও তো থাকা নাগবে? তামরা পরিশ্রম দিছে, পানি উন্নয়ন বোডত গেইছে, যাতায়াত খরচ আছে, সোগমিলি ট্যাকা ওঠে না।

যে যার মতো ক্যানেল ছেড়ে পানি নেয়?

সুইচগেটত কপাট-টপাট নাই। এমনিতে পানি আসলে ঢুকি যায়। গেট-মেট কিচ্ছু নাই। ওই পাকে মেইন গেট আছে। বাঙালির তো বুদ্ধি বেশি,  অসার নাগায়া চাকা ঘুরি পানি নেয়। গেট নাগায়া যাওয়ার সময় যে হেন্ডেল দিছিল ওই হেন্ডেল যে কায় কুত্তি থুইছে, কায়ো কবার পায় না।

ভাটিত ভাঙে কেন?

ভাটির অবস্থা মাটি। এদি পানি উঠাইতে যায়া ভাটিত পানি লোড হয় বেশি। ওই জাগাত বালু বেশি। পানি ভরাট হয়া গেইলে কাছার নরম হয়া যায়। পরে ভাঙি যায়। তলে যায়া কত আবাদ নষ্ট হইল।

প্রত্যেকবার সমস্যা হয় কেমন?

ভুইটা নাগাইলাম। নাগার পর আর পানি নাই। আবার স্যালো দিয়া নাগাইতে হয়। ফির অ্যাকনা পানি আইসে, ভুইয়ত দেই। আবার স্যালো নাগা নাগে। গেলোবার ফাস্ট টু লাস্ট স্যালো হামার স্টাট আছিল।

খরচ কেমন হয়?

ক্যানেল তো পুরা পাইসা নেয়। ক্যানেলের পানি একবার ঢুকলে ফুল পাইসা দেওয়াই নাগবে। অ্যাকদিন পানি ঢুকলে ছয়শ’ দেওয়া নাগবে। স্যালোত তো ম্যালা খরচ। দোনকরা অ্যাকঘণ্টা পানি দিলে একশ’ থাকি একশ’ পঞ্চাশ ট্যাকা। আবার ভ্যানত করি নেওয়া নাগে। কামলা খরচ। ম্যালা ঝামেলা। হামার মেইন হইল ইরির আবাদ। আউসের আবাদ তো দোনত দশ মণ করি ধান হয়। আর ইরির আবাদত দোনে বিশ-পচিশ মণ ধান হয়। ভালো করি কর্ম কইরবার পাইলে ত্রিশ মণ ধান হইবে।

মুই একটা জমি কনটাক নিবার চানু, স্যালোত চাইল আড়াই হাজার ট্যাকা। জমি হইল তিন হাজার ট্যাকা। তাইলে হামার লাভয়ে বা হইবে কয় ট্যাকা। ক্যানলত আবাদ করতে নাগে ছয় শ’ ট্যাকা। আর কোটে আড়াই হাজার ট্যাকা। তাইলে ক্যানলের পানিটা কত ভালো। বুঝেন। মুই না থাকলে, মোর ব্যাটা গেইল, ব্যাটা না থাকলে মোর বউও কোনো সময় যায়া নাইনটা ছাড়ি আসিল। পানি হয়া গেইল। হামার সোগেরই ক্যানেলের উপরত বাড়ি। পানি দরকার, হাঁটতে হাঁটতে যায়া পানি ছাড়ি দিনো। আর এপাকে কর্মও কইরবার পাবার নাগছি। পানি না থাকলে বহুত টেনসন। এপাকে কর্মের চিন্তা, ছাওয়ার সাথে, ওপাকে বউয়ের সাথে আরেক চিইল্লাচিল্লি, স্যালোত যাইস নাই ক্যা? মাইনষের ভুইয়ত পানি চলি যাইবে। সংসারত ম্যালা ক্যাওয়াজ নাগি যায়। ক্যানেলত পানি থাকলে কোনো চিল্লাচিল্লি থাকে না। যার যার মতো পানি নেওয়া। ইরি আবাদের নিয়ম হইল অ্যাকনা করি শুকি তারপর পানি দেওয়া। মাঘ-ফাল্গুন মাসত পানি দরকার, তখন পানি নাই। হামরা ফকাস ফকাস করি, কি হইবে, কি হইবে। ক্যানেল নইনাঙা। ক্যানেলের পানি যদি পাইনো হয়, স্যালোত আবাদ কইরবার যায়া যে খরচ হয়, ওইটা নাগিল না হয়। সুবিধা হইল হয়। সংসারত অত অনটন পড়িল না হয়। যার ফলে হামরা হাবুডুবুত পড়ি গেইছি।

শুরু থেকে আবাদ তোলা পর্যন্ত সমস্যাগুলো কি?

ইরি আবাদ কইরবার গেইলে সপ্তাহে নি¤েœ অ্যাকদিন পানি দেওয়া নাগবে। নাইলে ধানটা নষ্ট হয়া যাইবে। ক্যানেলের পানি তো সপ্তাহে একদিনো পাই না। স্যালো দিয়া নাগাইলে একশ টাকা ঘণ্টা নিছে। হামার তো স্যালো নাই। হামাক তো ধান বাঁচা নাগবে। ইমারটে স্যালো আছে। অ্যালা আমি ইমারটে একশ ট্যাকা ঘণ্টা নিলাম। আর ইমারটে তো পয়তাল্লিশ মিনিটে ঘণ্টা। স্যালোটা ঠিকভাবে চালাইলে ম্যালা পানি হয়। ওমরা তো সেইভাবে চালাবার নয়। এক ঘণ্টার জাগাত দুই ঘণ্টা পানি খায়।

আন্দোলনে যান?

যাই। এইটা হামার অধিকার, আদায় করা নাইগবার নয়।

প্রথম দফায় আন্দোলনের পর পানি পেয়েছিলেন?

কুটে পানি পামো? ওমরা কইল গোড়ত পানি নাই। হামরা ক্যামন করি পানি পাই।

স্লোগান কি?

পানি চাই, পানি চাই, পানি দিয়া রোড ক্লিয়ার নিয়া যাও।

ধন্যবাদ ওয়াহেদুর রহমান। আমরা এতক্ষণ কথা বলছিলাম ভুক্তভোগি কৃষক ওয়াহেদুরের সঙ্গে।

পানি সংকটে বিপর্যস্ত জীবনযাপন করছেন এমন কয়েকজনের মতামত নেওয়া যাক।

ক.
আগে নদী বর্তি পানি আছিন। নদীত ডেউ আছিন। নাউ বাওয়া রিস্ক আছিন। নাউ পাহো পড়লে আর খুইজ্যা পাওয়া গেছে না। যা জিনিস-পাতি আছিন সবি লইয়া গেছে। পিন্দনের কাপড় লইয়া বাড়িত আইছি। শইল্লো খালি হাফপ্যান্ট আর গেঞ্জি আছিন। তাও দেইহ্যা শান্তি আছিন। নাউ চালায়া বালা লাগছে। অ্যাহন তো নদী নাই। পানি নাই। ইনকাম নাই। বাড়িওয়ালির অসুখ। জয়েন্ডো জয়েন্ডো ব্যথা। অষুধ খাওয়াইলে ব্যথা বালা অয়। না খাওয়াইলে ব্যথা আবার শুরু অয়। অ্যাহন ট্যাহা নাই বইল্যা চিকিৎসা বন্দ রাখছি।

আগে বাঁশপাতারি, পাবদা, ফলি, স্যারন পুডি, গোয়ালি শিং এইতা মারছি। অ্যাহন খালি বৈরাতি মাছটা দেহা যায়। নদীত ¯্রুতও নাই, পানিও নাই, মাছও নাই। কয়দিন আগেও দিনে অ্যাকপোয়া, হাফকেজি, এককেজি যাই অইছে মারবার পাইছি। অ্যাহন তো জাল ফালাইবার বুদ্দিই নাই। বালুর উপর বালু। অ্যাহন মাছুয়াগর যায় যায় অবস্তা। সহালে গুম বাজা, পান্তা বাত খাইলাম। দুহুরো বাত জুটলে জুটলে না জুটলো তো নাই। আইতো না খায়াই গেলো।

নদীরপাড়ো অ্যাকটা গর তুলছিলাম বিশজুনে মিইল্লা। ওইনো সহালে মাছ বেচতাম। আমরা তিন মুণ থাইক্যা পাচ মুণ মাছ দরছি। অ্যাহন নাই বাইঙা গেছে। কেউই অ্যাক লগে নাই; মাছ দরা না পড়লে থাহি কিদুন হইরা?

[ মো. আলেফ, মাঝি]

খ.
ভুইট্টা আবাদের নাইগ্যা ম্যালা পানি নাগে। হামরা ক্যানেলের পানির আশায় থাকি। ক্যানেলত পানি না পাইলে মাইনষের বডিংঅত আবাদ করা নাগে। ট্যাকা না হইলে পানি দেয়ে না। ভালো করি পানি পাওয়াও যায় না। হামরা য়িন করি আবাদ করি। পানিটা ভালো করি দিবার পাইলে আবাদটাও ভালো হয়। ট্যাকাও বেশি পাওয়া যায়। য়িনটাও শোধ করা যায়। পানি ছাড়া বড় বিপদত আছি।

 [মো. ফজল, কৃষক]

গ.
চিইন্তায় পড়ি গেইছোং, আগেরবার যে য়িনগুইলা করছোং দেইম ক্যামন করি। আবাদ যদি না কইরবার পাং তাইলে মুই খাইম কি? নোন শোধ করিম কি দিয়া? বৌয়ের কাপড় কিনিম কি দিয়া? বেটিটার স্কুলের জামা কিনি দেইম কি দিয়া? আর মোর নুঙ্গিখানে বা কিনং কি দিয়া? মোর কথা না হয় বাদ দিনু, প্যাচে-পুচে থাইকপার পাইম। বৌটাক তো খালি গাত আইখপার পাং না। বেটিটাক তো স্কুলত পাঠা নাগবে। উইয়াক অ্যাকনা শিক্ষিত বানাং। হামার জীবন তো গেইছে। ওমাক নেখাপড়া না শিখাইলে হইবে?

[সিরাজ মণ্ডল, কৃষক]

ঘ.
কাপড়ের দোকানত, চাউলের দোকানত অ্যালা হাত পাতি খাওয়া নাগে। কওয়া নাগছে, বাকি-টাকি দ্যাও বাহে। আগত জীবন বাঁচাই। ট্যাকা পাইমেন, মাইর যাবার নয়। এইবার আবাদটা হইলে শোধ করি দিমো। আসলে আবাদ কইরবার পামোতো?

[ সাজাহান, কৃষক]

ঘ.
আমি গাট দিছিলাম। ওই গাট বন্দ অইয়া গেছে। পানি না থাহায় নাউগুলা বালুর লগে গাইত্যা আছে ।
[ সুরুজ মণ্ডল, ঘাট ব্যবসায়ী]

ঙ.
তিস্তার বর্তমান অবস্থা নিয়ে সুমিত পরশের কবিতা পড়া যাক:

বলেছিলে ‘নদী কি আমি বলতে পারবো না।’

বলতে না পারাই ভালো

বলতে পারলে জানাতে

‘আজ নদীতে গেছিলাম, কিন্তু পানি দেখতে পাইনি

আমি বইয়ে পড়েছিলাম নদীর থাকে কানায় কানায় ভরা পানি

কত স্রাত! স্রোতের শ শ শব্দ!

কচুরিপানা দল বেঁধে এক স্থান থেকে আরেক স্থানে ভেসে যায়

পানিতে মানুষের ঘর সরানোর ব্যস্ততা থাকে

জানো, এসবের কিছুই দেখতে পাইনি

দেখেছি কেবল চর। চরের পর চর

নদীর ওপারে নদী নেই, আছে চর

হাঁটু পরিমাণ পানিতে দুচারটি নৌকা চলছে

কেউ চটকা জাল ফেলে বৈরালি মাছ ধরছে

নদীর জল না ছুঁয়ে, ছুঁয়েছি বালু।’

নদী কি তুমি জানো না। না জানাই ভালো।

অর্থাৎ পানি প্রাপ্তিতেই এ সমস্যাগুলোর সমাধান সম্ভব। আমরা আমাদের প্রতিনিধির কাছে ফিরছি। জানার চেষ্টা করছি আন্দোলনের বর্তমান পরিস্থিতি প্রসঙ্গে।

জমির সর্বশেষ কি পেলেন?

ন্যান্সি, আন্দোলনরত কৃষকদের উপর হামলা চালানো হয়েছে। আন্দোলনকারী কৃষক মোতালেব হোসেন জানান, অবরোধের কারণে এই সড়ক দিয়ে বেসরকারি বিনোদন স্পট ভিন্ন জগৎমুখী গাড়ি আটকা পড়ে। ভিন্ন জগতের মালিক এসএম কামাল নিজের ব্যবসা টিকিয়ে রাখার স্বার্থে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক করতে র‌্যাবকে বিষয়টি জানায়। বিকেল তিনটায় র‌্যাব গিয়ে আন্দোলনরত কৃষকদের বেধড়ক পিটুনি দেওয়া শুরু করে। এতে অষ্টমশ্রেণির ছাত্র রিয়াদসহ ১৫ জন আহত হয়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হামলার কারণে বিক্ষুব্ধ কৃষকরা ছোটাছুটি করে পালিয়ে যেতে থাকে। এর মধ্যে সন্ধ্যায় কামাল গাড়ি নিয়ে গঞ্জিপুরে আসলে সেখানে বিক্ষুব্ধ কৃষকরা তার গাড়িতে ঢিল ছুঁড়ে।

জমির, কামালের গাড়িতে কেন ঢিল ছুঁড়ে?

এ আন্দোলনে তার অংশগ্রহণ নেই এবং সে ক্ষতিগ্রস্তদের বিরুদ্ধে অবস্থান নিচ্ছে বলে এ হামলা করে। ন্যান্সি, অনুসন্ধানে দেখা গেছে কৃষকদের আন্দোলন দাবিয়ে রাখার জন্যেই পানি উন্নয়ন বোর্ড এবং সরকারি দলীয় লোকজন এসএম কামালকে ব্যবহার করছে। তারা একটি ফাঁক খুঁজছিলো। কামালের গাড়ি ভাঙাকে ফাঁক হিসেবে দেখে স্বস্তি পায়। কামালের গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনাকে ইস্যু হিসেবে ব্যবহার করে গঙ্গাচড়া থানায় পরের দিন ১৯ মার্চ ৭টা ৩৫ মিনিটে ভিন্ন জগতের এজিএম সেদরাতুল মুশতাহার বাদি হয়ে আন্দোলনকারী কৃষকদের নামে একটি মামলা করেন। ওই মামলায় ২৮ ও ২৯ ফেব্রুয়ারি এবং ১১ মার্চে উন্নয়ন কাজের টাইলস, সিমেন্ট, বালু, ইট, পাথর, মাছ, চাল, ডালসহ বিভিন্ন উন্নত জাতের ফুলের চারার উপর চাঁদা দাবি এবং ছিনতায়ের অভিযোগ আনা হয়। এছাড়াও একই দিনে কামাল আন্দোলনরত কৃষকদের নামে আরেকটি মামলা করেন গাড়ি ভাঙচুরের অভিযোগ এনে। এরপর শুরু হয় দমন পীড়ন। এই মামলা দায়েরের পর পুলিশ অতি উৎসাহী হয়ে শুরু করে গ্রেফতার অভিযান। এরই মধ্যে গ্রেফতার করা হয়েছে এইচএসসি পরীক্ষার্থী শরিফুল ইসলাম এবং কৃষক মমিদুল ইসলামকে। শুধু তাই নয়, পুলিশ এখন রাতে এবং দিনে গ্রামে হানা দিচ্ছে। গ্রেফতারের ভয়ে খলেয়া গঞ্জিপুরের ওসিপাড়া, মল্লপাড়া, মাহাপাড়া, জুম্মাপাড়া, মধ্যপাড়া এলাকার পুরুষ বিকেল থেকে অন্য গ্রামে আশ্রয় নেয়। সকালে জমির কাজ করে গ্রেফতার আতঙ্ক নিয়ে। ভুক্তভোগীরা বলছেন, পানির জন্য যাতে আন্দোলন না করতে পারি সেজন্যেই পরিকল্পিতভাবে ভিন্নজগতের মালিককে দিয়ে আমাদের উপর মামলা করানো হয়েছে। অথচ তার সাথে আমাদের কোনো বিরোধ নাই।

ন্যান্সি, তাদের কথা ফেলে দেওয়া যায় না। এ মামলা যদি কৃষকদের আন্দোলন দমানোর কৌশলই না হতো তাহলে ২৮ ও ২৯ ফেব্রুয়ারি এবং ১১ মার্চের চাঁদাবাজির ঘটনার মামলা হয় কেমন করে সড়ক অবরোধের পরের দিন। এটাকে কৃষকরা দুঃখজনক হিসেবে মনে করছে। ন্যান্সি।

অনেক ধন্যবাদ জমির।

আমরা শুনছিলাম পানির দাবিতে আন্দোলনরত কৃষকদের ওপর হামলার খবর। এবার আমরা যাচ্ছি আন্তর্জাতিক সংবাদে।

চেরমেন সাব ঠিক আছেন তো?

চাচা, ডাংটা জোরেই নাগছে। পাও তো নড়াবারে পাবার নাগছোং না।

কাদির, ধরেক ক্যানে, হাসপাতালত নিয়া যাই।

চাচা, তোমার নামেও শুননো কেইস দিছে। সবার শ্যাষত দিছে মোর নাম।

আর কার কার কথা শুইনবার পাছিস?

বাদশা, মহিউদ্দিন, সুলতান, তবারক, ইব্রাহিম, কপিল আরো ম্যালা মাইনষের নাম।

শালারঘরের পুংডামি দেখছিস। হামরা পানির জন্যে আন্দোলন করি, কেস খাওয়া নাগে চাঁদাবাজি আর ছিনতাইয়ের। বুঝলু কিছু?

বুঝনোয়েতে। হামাক কুটে কইবে আপনারা পানি পাইমেন, আইজক্যার মতো অবরোধ তুলি ন্যান। তা না কয়া দিধারছে ডাং শুরু করিল। এইটা কোনো হিসাবত আইসে? আইয়ে পরীক্ষা দিবে চেংরাটা, উইয়াক ধরি নিয়া গেইছে। এইটা কোনো বিচার হইল?

ধরেক, ইমাক নিয়া যাই হাসপাতালত।

 ৪০
তারপর সাইতুন বললো, শোন শিল্পী, একদিন আসমানে ধবধবা একখান চান উঠলো। আলো কি তার! আলোয় আলোয় মন গইলা গেলো। অয় আমারে ডাকলো তার রুমো। আমি গেলাম। কইলাম, আমরা যে এই কাজ করবার চাই তাইলে তো আমাগোর বিয়া করা লাগবো। মিরাজ কয়, ঠিক আছে বিয়া হইবো। কাজি আনে। সাক্ষি আনে। আমাগোর বিয়া হয় ওই চান্নি রাইতেই। আমার সাধ আছিলো লাইট বন্ধ কইরা চান্নির আলোয় মিলন করবো। অমনেই মিলিত হই। জানলা দিয়া বংকি পাইরা চান্দের আলো আসতে থাকে। পড়তে থাকে আমাগোর শরীলে। আমরা আমার পাইতে থাকি। ওই রাইতে আমরা কয়েকবার মজা নিলাম। ফজরের আযান দেওয়ার পর পরই আমি আমার রুমে চইলা আসি, যাতে অন্য কেউ টের না পায়। সেদিন আর কাজে বাইর হইলাম না। পরেরদিন আবার দুইজনে দেখা হয়। সাভার পিআরডিসির সামনে গাছ-গাছড়ায় ভরা একটা জাগা আছে না? কি জানি নাম?

বললাম ওইটার নাম অরণ্যালয়?

সাইতুন বলে, হ। হ। মনে পড়ছে। আমরা অইখানে বোডে চইরা ম্যালাক্ষণ পানির উপরে ভাসলাম। গেলো রাইতে যে অয় ম্যালা সুখ পাইছে সেই কথা কইলো। আমরা গাছতলায় বসি। বইসা থাইকা আবার হাটি। গিনপিক দেখি। খরগোশের বাচ্চা দেখি। দোলনাত বসি। অয় আমার গাল টিইপ্পা দেয়। সইন্ধ্যা হইলে রুমে ফিরি।

আমাদের আলাপের মধ্যে কাজের মেয়ে আদুরী বলে যায় মা খাইতে ডাকছে। আমি সাইতুনকে সঙ্গে নিয়ে খাইতে বসি। বাবার সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেই। বলি, বাবা, তুমি তো দেশের বাইরে ছিলে তাই তোমাকে আমার বান্ধবী আসার খবর দিতে পারি নাই। সাইতুন, আমার স্কুলের বান্ধবী। ওর বাপের নাম নিয়ামত আলী।

ও। চিনছি। তুমি নিয়ামতের মেয়ে। ভালো। অনেক বড় হয়ে

গেছো। তুমি তখন কত ছোট আছিলা। কি করো এখন?

বাবার প্রশ্নের উত্তর আমি দেই। বলি, ও শহরে ছোট একটা পোস্টে কাজ করে। আমি তারে বলেছি এখন থেকে যাতে আমাদের বাসাতেই থাকে। তুমি কি কও? বাবার কাছ থেকে পজিটিভ উত্তর পাই। বলে, থাকবে। তুমি তো বাসায় একলাই থাকো। একজন মানুষ পাইলে তো তোমারি ভালো। থাকুক। রুমও তো খালি আছে। সাইতুন না হয় তোমার পাশের রুমে ঘুমাবে। শিল্পীর মা, তুমি কি কও। বাবার প্রশ্নের উত্তরে মা বলে, আমি আর কি বলবো। শিল্পী যখন রাখতে চায়, রাখুক। বাবা আর মায়ের কাছ থেকে অনুমতি পেলে সাইতুন আমাদের বাসাতেই থাকা শুরু করে। তার একাউন্টে জমানো টাকা ছিল সেখান থেকেই গ্রামে মা’কে পাঠাতে থাকে। আমাকে বলে,

শিল্পী, তোর গল্প বলিস না তো।

আমি বলি, আমার এমন কোনো গল্প নেই।

তোক বুঝি কেউ লাইন দিবার চায় নাই?

দিছে, অনেকজন। পাত্তা দেই না।

কারণ জানতে চাইলে বলি, এইচএসসিতে সময় কম। আমি বিশ্ববিদ্যালয় পড়তে চাই। এই সময় এসবে জড়াইলে অনেক সময় খরচ হইবো, কিন্তু এখন তো অতো সময় হাতে নাই। এক বছর শেষ। আর মাত্র এক বছর আছে। ভালো রেজাল্ট দরকারি। পড়তে হবে মন দিয়ে। সময় খরচ করার সুযোগ একদমই নাই। আর প্রেম করা ছাড়াও দুনিয়াত আরো অনেক কিছু করার আছে। যদি বলিস কার কার জন্য করার আছে, তাহলে বলবো পরিবারের লাইগা, সমাজের লাইগা, দেশের লাইগা অনেক কিছু করার আছে। একথা শোনার পর সাইতুন বলে, ভালো চিন্তা মাথায় রাখছস বান্ধবী। তুই অনেক বড় হ! সেদিন আমি তাড়াতাড়ি ঘুমিয়ে পড়ি সকালে কক্সবাজারে আমাদের স্ট্যাডি ট্যুরে যেতে হবে সেজন্যে। যাবার আগে বলে যাই, আসতে দুইদিন লাগবে। মা’কে সব বলে যাবো। তুই ঠিকঠাক মতো থাকিস। আদরী তোর সঙ্গে থাকবে। সাইতুন বলে, তুই ভালোমতে ফিইরা আয়, আমাক নিয়া এতো চিন্তা করা লাগবে না।

চলবে..

তিস্তা: পর্ব-১২ ॥ হারুন পাশা

চিন্তাসূত্রে প্রকাশিত কোনও লেখা পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ।


One Response to “তিস্তা: পর্ব-১৩ ॥ হারুন পাশা”

  1. আনোয়ার রশীদ সাগর
    মার্চ ৯, ২০১৮ at ১১:২৯ অপরাহ্ণ #

    হারুন পাশা ভাল লেখেন।স্রোতের শান্ত বহমান জল তার শব্দগুলো।ঝরঝরে বক্তব্য, বেশ ভাল লাগে পড়তে।ধন্যবাদ সম্পাদক চিন্তাসুত্র কে এবং লেখক হারুন পাশার জন্য শুভ কামনা।

লেখাটি সম্পর্কে আপনার মন্তব্য লিখুন