সাত সাগরের ওপার থেকে ॥ রওশন হাসান | চিন্তাসূত্র
৫ আশ্বিন, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ | ২০ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ | সকাল ১১:১৯

সাত সাগরের ওপার থেকে ॥ রওশন হাসান

সারাদিন আমি জলধারার শব্দ শুনি ॥ জেমস্ জয়েস
সারাদিন আমি জলধারার শব্দ শুনি
আমি ক্রন্দনরত থাকি
যেমন একাকি সামুদ্রিক পাখি
সম্মুখপানে ধাবিত
একঘেয়েমি জলের বয়ে চলায়
বাতাসের কান্না শুনতে পায়।
সেই ধূসর বাতাস, সেই শীতল বাতাস
যেখানেই আমি যাই সেখানেই বয়ে চলে
আমি বহমান বহুসংখ্যক অন্তঃস্হ
জলের শব্দ শুনতে পাই
সারাদিন, সারারাত আমি ইতস্তত
জলের বয়ে চলার শব্দ শুনতে পাই।

জীবনের উদ্দেশ্য কী ॥ স্যামুয়েল টেইলর কোলরিজ
এক ঝলক আলোর সঙ্গে
জীবনকে তুলনা করা যায়
স্পর্শাতীত এই চৈতন্যকে কি
অবাধ দৃষ্টিতে দেখা যায়?
এ বোধ পুরোপুরি স্বকীয়
এক অধরা সূত্র
আমরা যতটুকু দেখি, তা শুধু
নানা রঙের ছায়া মাত্র।

অনধিকারে আঁধারের প্রতিবিম্বের
এক মায়ার সমাহার?
তবে কি এই জীবন
অপরিসীম উপলব্ধির আকার?
এবং সমস্ত কল্পনা, দুঃখ-আনন্দ,
নশ্বর নিঃশ্বাস নিতান্তই অর্থহীন?
আমৃত্যু যুদ্ধ বন্ধনের এই ব্রত
নিছক উদ্দেশ্যহীন?

তীর ও গানটি ॥ হেনরি ওয়ার্ডসওয়ার্থ লংফেলো
আমি একটি তীর ছুড়েছিলাম
ঊর্ধ্বেকাশে
উমুক্ত শূন্যতার উদ্দেশে
মাটিতে পতিত হলো
কোথায় যেন অদৃশ্য হলো
দ্রুতগতিতে দৃষ্টির আড়াল হলো।
আমি বাতাসে একটি গান
অনুধাবন করেছিলাম
সুরের ধ্বনিতে শ্বাস নিয়েছিলাম
সেটি মাটিতে পতিত হলো
কিন্তু কোথায় যেন মিলিয়ে গেলো
যে অক্ষীণ ও অতীন্দ্রিয় দৃষ্টি দিয়ে উপলব্ধি করে
সেই-ই এ গানটি উপলব্ধি করতে পারে।
অবশেষে, একটি ওক বৃক্ষের অভ্যন্তরে
অখন্ড তীরটি দেখতে পেলাম
বহুদিন পরে
আর শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত পুরো গানটি
আবিষ্কার করলাম
একজন হৃদয়বান বন্ধুর অন্তরে
অবশেষে গানটি অক্ষত খুঁজে পেলাম।

অনুজ্জ্বল কক্ষ ॥ ওয়ালেস ইস্টিভেনস
যদিও তুমি একটি অনুজ্জ্বল কক্ষে বসে আছ
খড়নির্মিত কাগজ ব্যতীত রুপালি রঙে রাঙানো।
এবং মনোনিবেশ করো তোমার শুভ্র পরিচ্ছেদের বিবর্ণতাকে
অথবা ছিঁড়ে যেতে দাও তোমার কণ্ঠহারের একটি সবুজ পুঁথিকে
মাটিতে ছড়িয়ে পড়তে দাও।
অথবা তোমার সবুজ হাতপাখায় খচিত লাল উইলো গাছের
লাল ডালপালার দিকে একদৃষ্টে তাকিয়ে থাকো।
অথবা ফরসিথিয়া বৃক্ষ থেকে যে পাতাটি ঝরে পড়েছে পানিপাত্রে
তোমার একটি আঙুল দিয়ে পাতাটিকে দোলাও।
কেন তোমার এমন পরিস্থিতি হচ্ছে?
আমি জানি তোমার হৃদয় কতটা বিচলিতভাবে স্পন্দিত হচ্ছে।

হেমন্তের এলিজি ॥ রেইনার মারিয়া রিলকে
পাতা ঝরছে, যেন ঊর্ধ্ব থেকে নিম্নে ঝরে পড়ছে ক্রমাগত
যেন মহাশূন্যের আকাশে কোন উদ্যান মৃত্যুমুখী।
প্রতিটি পাতা ঝরছে, যেন প্রকৃতি প্রত্যাখাত, প্রতিশ্রুতিহীন।
এবং আজ রাতে ওজনদার পৃথিবী কক্ষচ্যুত
তারাহীন নিঃসঙ্গতায় অধঃপতনশীল।
আমরাও স্খলনশীল। আমাদের এই হাত পতিত
সবাইকে দ্যাখো, অন্যরাও একইভাবে পতনোম্মুখ।
এবং এমন একজন এখনো বিদ্যমান, যার হাত অনন্তকালের
অকাতরে এইসব পতনের গতিরোধ করে চলেছে।

চিন্তাসূত্রে প্রকাশিত কোনও লেখা পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ।


কোন মন্তব্য নাই.

লেখাটি সম্পর্কে আপনার মন্তব্য লিখুন