লাশ
পাহাড় কেটে সড়ক বানাতে যে যায়
পাদদেশে পড়ে থাকে কেন তার লাশ
কৃষকের স্বপ্ন ঢাকা পড়ে আগাছায়
গোফের আড়ালে হাসে আততায়ী ঘাস
পুরনো ভবন এক শহরের পাশে
তার চারিধারে আছে ফুলের বাগান
নিহত হয়েছে মালি দূষিত বাতাসে
ভ্রমর ভুলেছে তার শেখানো যা গান
নদীর ওয়াদা ছিল পাহাড়ের কাছে
সাগরকে বলে দেবে তার অবদান
বিরক্ত করছে তাকে পিরানহা মাছে
চরকে বলেছে সব—যত অভিমান
চর জাগে শুধু, তার আসে না তো ঘুম
নদীর পাড়ের দিকে চেয়ে চেয়ে থাকে
মেঘের ওপারে ওড়ে শকুনি কুটুম
আকাশে ওড়াবে বলে নাম ধরে ডাকে
আকাশে উড়ব- মনে বড় অভিলাষ
আকাশের পাশে যদি পড়ে থাকে লাশ ?
এক পৃষ্ঠা ব্যবধান
মেয়েটি কবিতা ভালোবাসে
সিনেমার ভক্ত
ছেলেটি করপোরেট প্রতিষ্ঠানে মন ও মগজ বেচে
বাসায় নেওয়া হয় একটি পত্রিকা
মেয়েটি পড়ে বিনোদন ও সাহিত্য পাতা
ছেলেটি পড়ে অর্থনীতির খবর
বিনোদন পাতা পৃষ্ঠা নম্বর ছয়
সাত নম্বর পাতায় বাণিজ্য সংবাদ
দুজন এক ছাদের নিচে থাকে
মাঝখানে এক পৃষ্ঠা ব্যবধান
ব্যবধান ক্রমে ক্রমে
দে
য়া
ল
হয়ে গেলো
মেয়েটি কবিতা পড়ে
সিনেমায় বুঁদ
ছেলেটি খবর পড়
কোন ব্যাংকে কত সুদ
টিকটকে নাচে না ময়ূর
তোমাদের উপেক্ষা শুধু অপেক্ষা বাড়াতে থাকবে
স্বপ্ন বন্ধক রাখিনি কারো কাছে
নিলামে তুলিনি তো আত্মসম্মান
আমাদের হয়ে উপেক্ষার জবাব দেবে সুবিবেচক সময়
মাটি আর আলো থেকে পুষ্টি নিয়ে
নিজের দায়িত্বে ফুটে থাকে ফুল
ফেসবুকে পেজ নেই তার
কারো লাভ রিয়্যাক্টের ধারে না সে ধার
তোমাদের করুণার ড্রেনের পানির আশায় কি
ভিখারির মতো হাত পেতে বসে থাকে নদী?
টিকটকে নাচে না ময়ূর
কোকিলের গানের চ্যানেল নেই ইউটিউবে
ইচ্ছে হলে নাচে-গায় তারা
ভিউ গোনায় ধরে না
তোমাদের উপেক্ষা শুধু অপেক্ষা বাড়াতে থাকবে
আমাদের হয়ে উপেক্ষার জবাব দেবে সুবিবেচক সময়

