আধিপত্যবাদী আয়না
মুখোশগুলোর রঙ অপরিবর্তিত থেকে যায়।
শুধু পরিবর্তন হয় মুখের, মনস্তত্ত্বের, মননের–
একটি অন্ধকার সরে গেলে আরও শতাধিক অন্ধকার,
. খাবি খায় নদী ও নন্দনে;
. ক্রমশ দূরের পরিবহনে দেশত্যাগ,
করে শোষকের চোখ!
সেই চোখ, বাজপাখি হয়ে ছোবল দেয়,
অন্যের হাড়ভাঙা সঞ্চয়ে;
মানুষের কান্নায় সাঁতার কাটে দানবের দল।
পাখিরাও কাঁদে, প্রকৃতির পাশাপাশি।
আধিপত্যবাদী আয়নায় নিজেদের মুখ দেখে,
ঘাতকেরা বরং উল্লাসে মাতে,
নবজাত শিশু হারিয়ে, মা
আত্মহননের কাছে সমর্পিত
হতে চাইলেও,
. আরেকটি যুদ্ধমাঠ–
তাকে নতুন জীবনে আহ্বান করে।
মেরুদণ্ডের মানদণ্ড
বাতিদের কোনো ছায়া থাকে না!
বসন দেহকে ঢেকে রাখতে পারলেও,
কিছু কিছু দেহ চির-উলঙ্গ থেকে যায়।
কিছু উল্লাস শবদেহগুলোকে
ভেদ করে, সামনে এগোতে পারে না।
মাকড়শা কিংবা শামুকের মতো
অমেরুদণ্ডী প্রাণীগুলো
দাঁড়াবার মানদণ্ড নিয়ে ভাবিত থাকে না;
কিন্তু যেসব মানুষ, শির ও শিরার তারতম্য
বোঝার কথা ছিল, তারাই
যখন মুখমণ্ডল
সমুদ্রে হারিয়ে আত্মরতিতে মাতে,
. অনেকগুলো গ্রহ তখন ভেঙে পড়ে ওদের মাথায়,
অভিশাপে, মেঘকান্নার রাতে।
শূন্যতার সারস
আমি পৃথক খাতায় লিখে রাখি,
ডানাভাঙা দুপুরের গল্প। এই বনে
কয়েকটি সারসের সংসার ছিল,
কয়েকটি ঝোপ থেকে বেরিয়ে ওরা,
খুঁজে নিতো নিজেদের আহার, ঝড়ের বিপরীতে।
আমি সেই বিপরীত বর্ষণকে বারবার
এঁকে রেখেছি পৃথিবীর প্রান্তপথে,
বারবার থামাতে চেয়েছি, বন্দুকওয়ালা
শিকারির আঙুল,
কারণ আমি জানতাম,
পাখি হত্যার বারুদ–
. অবশেষে মানুষের জন্যেই রেখে যায়,
. মারাত্মক পরমাণুর ঝাঁজ।

