ভবিতব্য
তবে কি যুদ্ধই একমাত্র ভবিতব্য আমাদের?
একটি যুদ্ধ শেষ হতে না হতেই আরেকটি যুদ্ধের দামামা !
নতুন ঘোষণাপত্ৰ হাতে যুদ্ধের যুক্তিনামা–
পুঁজির জাবর কাটা ধর্মের ডোরাকাটা জামা
মানুষের হাতে গড়া মনুষ্য প্রতিভূ,
মানুষেরই শক্তি দিয়ে গড়া যুদ্ধের দেবতা
মানুষকে মারার তার সব আয়োজন–
যে মানুষ গড়ে তোলে যুদ্ধের দেবতা
তাকে ভাঙার কৌশল কি মানুষ কোনোদিন জানবে না?
বসরাই গোলাপের যুদ্ধগাথা
আমি পারস্যকে ভালোবাসি
তার কোথাও ফোটে বসরাই গোলাপ
তার সুগন্ধের গল্প শুনেছি, তাকে চোখে দেখি নি
সুগন্ধি সর্বদা দূরাতীত, আয়ত্তের অতীত
অবশ্য দেখেছি আমি দেশান্তরের পথে পারস্য সুন্দরী
বাঁকানো-তলোয়ার-সুতীক্ষ্ণ-ভ্রূ-পল্লবের নিচে
বড় কালো ঘন চোখের তারা দেখে না শুধু
ছড়ায় অশেষ ইন্দ্রজাল নিঃসীম আকাশে !
আমি বিস্ময়ে, সম্ভ্রমে দূরে দূরে থাকি –
অতীব সুন্দর কখনো কখনো হিমায়িত করে ফেলে।
তাদের ডালিম গাল কোন সূর্যের আলোয় ফোটে
সে রহস্য অভেদ্য আমার কাছে, তাদের কালো চুলের প্রপাত
উড়ন্ত দশায় বাতাস শাসন করে, ঘোর বিলুপ্তি আনে দু’চোখে
আমার চোখ ফেটে আজো কান্না ছোটে মাহশা আমিনির কথা ভেবে
চুল তার কালো কাপড়ের বন্দিদশা থেকে একচুল বেরিয়েছিল বলে
ধরে নিয়ে গেলো নীতিপুলিশ আর প্রহারে প্রহারে তার মাথা ফেটে
মেঝেতে লুটিয়ে পড়েছিল রক্তজবা, পারস্যের আকাশে-বাতাসে
শত সহস্র নারীর চুলের পতাকা তখন বারুদের মতো ফোটে –
তাদের বন্দিদশা থেকে মুক্তি চাই তাদের নিজেদের জোরে
যেভাবে সুফী দরবেশ নৃত্য করে ঘুরে ঘুরে দুহাত ছড়িয়ে –
আরো শত সহস্র পারস্য পুরুষের সবল প্রতিরোধের তোড়ে
রাজতন্ত্রের উৎখাতে যেভাবে একদিন নেমেছিল মানুষ নির্বিশেষে
কোন ভুলে, ঈগলের পক্ষ বিস্তারে নেতৃত্ব গিয়েছিল চলে
ধর্ম জল্লাদের হাতে–সভ্যতার রঙ ঢাকা নিকষ অন্ধকারে!
যুগান্তর অতিবাহিত হওয়ার পরে চমকায় ফের কোন আলো?
ঈগলের প্রত্যাবর্তনে যুদ্ধের দুন্দুভি বাজে রেজিম পতনের নামে
যে-পতন উত্থান রহিত তা কি গভীরতর পতন-সম্ভাবনা ডেকে আনে?
বসরাই গোলাপ ফুটুক চিরকাল নিজেদের জোরে !

