ভিনদেশি গায়কের ঠোঁটে
ব্যকরণ বেকার এখন
সবকথা মোরব্বার মতো টসটসে
দৈববাণীগুলি রেহেলে ঘুমায়
মিথ্যেরা ফসিল হয় বয়ানের রসে!
বৃষ্টি নামে, ঝরে পড় অগ্নিদানা
কৃষক তাকিয়ে থাকে অজৈব সন্তের দিকে
টিয়েপাখি উড়ে যায়, ফিরে আসে ঈগলের চোখ
মানুষের ঘরদোর হয়ে যায় ফিকে!
পরিযায়ী বার্তা এলে বিচিত্র মূর্ছনা বেজে ওঠে
দেশগান প্রাণ পায় ভিনদেশী গায়কের ঠোঁটে!
জিহ্বা নাচছে অবিরত
সবাই বলছে, শুনছে না কেউ
কথারা ফুটছে বারুদের মতো
ক্রিয়তা হারিয়ে নিরো হয়েছে মগজ
অলীক শরিয়া ধ’রে জিহ্বা নাচছে অবিরত।
দাসত্ব আরাধ্য হলে
বাতাস স্তম্ভিত, মেঘও দাঁড়িয়ে গেছে মধ্য ব্যোমে
দেখছে বদ্বীপ; দেখছে দৃশ্য এবঙ অদৃশ্য প্রদীপ!
দাসত্ব আরাধ্য হলে দেবতাও ব্যর্থহয়
দূর-শিখনের বাচাল তখন প্রণয়ের গান গায়!
দেশবোধ জাতিবোধ সংজ্ঞা পায়নি আজও
গুজবের স্রোতে ভাসে সত্যের মা-ও!
লুকোনো সুতোর টানে শরীর দুলিয়ে নাচে নীরব পুতুল
মৃত্তিকা হারিয়ে ফেলে বগলে আগলে রাখা একূল-ওকূল!
মায়ের স্বপ্নটা, বাবার যুদ্ধটা, দিক ভুলে ডুবে যায় অন্ধকারে
মগেরাই ফিরে আসে, ফিরে আসে ক্লাইভের বংশ বারেবারে!
পলিটিক্স
গণিকা সত্যের পলিটিক্স গিলে
আমাদের নেতারা পবিত্র হন
তাদের বায়াতে শিখি
নিজেকে ভিখিরি করার মুর্শিদি গান।
তাদের পবিত্র নামে
মিছিল করি, স্লোগান দেই
ভুলে যাই ঘরের খবর
তাদের পকেটে রাখি আত্ম-সনদের খেই।
ওনারা রুহানি ছবকের ওলি
জীবনের সব গলি চেনেন, মানুষকে বানান মুরিদ
মানুষকে হরণ করেন, ভাঙেন, গড়েন
মানুষকে নিঃস্ব করে মানুষেরই হয়ে যান সুহৃদ!
কারা ধান ভানে
সময়কে তচনচ ক’রে সময়ের ডিম্ব খুঁজি
সবখানে পেয়ে যাই অশ্বডিম্বের অমিত ঝুড়ি;
ঠোঁটের তরঙ্গে মগজের কোষ ফানাফানা
বাতাসও বুঝে গেছে, এইখানে মুদুস্বর একদম মানা!
তলাহীন গলাবাজ পথের সন্ধান ফরমায়
আমাদের কথাগুলো দূর থেকে আমদানি হয়;
আজও জানিনে আমার আমিটা কোনখানে
জানিনে, মায়ের ঢেঁকিতে এখন কারা ধান ভানে!

