পাথরে ফুটুক ফুল
তুমি সেই প্রত্ন পাথর!
মরমি সান্নিধ্যের সাধন ভজন
‘সুপ্রভাত’ বলার সাধুবাদ, শেখোনি কস্মিন।
তুমি এক অচিন পাথর
দেখো আজ অনামিকায় ওপাল ঝলক
খোঁপায় তারার ফুল!
তুমি সেই অন্ধ পাথর
দেখো আজ জোড়াচোখ বিহ্বল বিজন
অপার মায়ার জলে বেদনাবিধুর।
তুমি সেই নির্বোধ পাথর,
শুনলে না কলকণ্ঠ পাখির গোপন!
তুমি এক পাইথন শীতনিদ্রা স্বভাব
সেই তুমি প্রত্নপাথর
খোলস খসাও—
দেখাও ফণার সার্কাস।
ঢের বেশি জানো তুমি
ঢের বেশি জানো তুমি আমার খামার নেই
নেই দীপাবলি দয়ালু দহলিজ। নেই জানো
স্বপ্নের অধিক একফালি বিভোর বাগিচা!
বেকুব আহ্লাদের নাটাই ঝুলে থাকে কার্নিশে
ত্রিভঙ্গ মুরারি।
জানি বড়শি পেতে বসে থাকে মৎস্যশিকারি
ফাতনার চারুকলা কুহক ফেরারি,
ঢের বেশি জানো তুমি
বেলা ডুবে যায়—অস্তরাগ রেখা।
পুবের আকাশ জানে নতুন ইন্ধন
সেই সূত্র জেনে ফের সলতে সাজাই।
ক্ষিপ্র হরিণ
সাহস তার নীলকান্ত মণি, মুঠোয়
বুকপকেটে কিংবা চোখের তারায়
দুর্বার ক্ষিপ্র হরিণ,পানি লাগবে পানি?
তৃষার্ত হে মিছিলের ময়দান—
এক আঁজলা জমজম,পিয়াসের পানি
বন্ধু তুই আপন পথিক তুই প্রিয়।
ধেয়ে আসে রক্তখেকো, পিশাচ আদিম
ভাই আমার অন্তিম পথের কিনারে।
এক আঁজলা জমজম,পানি লাগবে পানি?
শুষে নেবে মিছিলের পাখি, বিন্দু বিন্দু পানি
অযুত তরুণ প্রাণ,মিছিলের নির্ভীক
গাইলি অলীক গান—ভাই পানি লাগবে তোর?
ছিনিয়ে আনতে গেলি আনকোরা ভোর।
মৃত্যুর মোহনা থেকে—
তোর বুকে শতকোটি রক্ত পলাশ!
চরাচর ভেসে যায় পা—নি লাগবে পা—নি?
জখম হে
জখম হে, তুমি ফের ফুপিয়ে কেঁদো না
জটিল জন্ম তার, করোটি কিনারে।
লোনা ঘামে ভেজা শস্যক্ষেত, তছনছ
আমার আমন যায় দুর্জনের ঘরে!
পুষি মনে, দিনগত পাপক্ষয়
জখমের শতেক ফাড়া, কালশিটে নমুনা
এতবেশি ক্ষমাধর্ম এ বিশ্ব বোঝে না।
জখম হে, তুমি আজ ফুপিয়ে কেঁদো না।
পুরনো পথিক খুঁজি পথের ইশারা।
আশ্চর্য মলম এই পাতাবন,আমার অর্জন।
নিশ্চিত আমিই জানি আমাকে সারাতে!
ক্ষমার ক্ষীর আর রাঁধি না নিরবে
জখম আমার, তুমি ফের ফুপিয়ে কেঁদো না
এত বেশি ক্ষমা ধর্ম এ বিশ্ব জানে না।
আমিও শানাতে জানি আমার তুরপুন
করি না পরোয়া ফের জখমের নিয়তি।
কী মালা রচেছ তুমি কালের কারিগর?
নিরাময় হোক সান্নিপাতিক জ্বর।
অচিন গার্হস্থ্য
যেতে চাও যাও—
তবে পিছ ছাড়বো না মাণ্যবর।
ঘুর পথে হাঁটো তুমি,চির যাযাবর
চোরাগলি চেনো জানি পুরনো পথিক।
ঘুরতে জানি আমিও যে বাঁক,
সন্ন্যাস পুষি হয়ত প্রব্রজ্যা অধিক!
ধূসর ধুলোর পথে ফেরারি পদরেখা—
গুণে রাখি নির্ভুল, নাই দিলে দেখা।
তোমার জিদের ঠিক নিচে
আমার বিদেহী জিদ আড়মোড়া ভাঙে।
বানপ্রস্থ আমারও গোপন নিরানন্দ
বৃক্ষের বাকলে আঁকি চিহ্ন, ধবল দ্বন্দ্ব।
নাম,ধাম, সাকিন সবিস্তার।
লোকালয়, লোকচক্ষু সকলি গরলি ভেল।
যেতে চাও যাও—
নিধুয়া পাথার লিলুয়া বাতাস মাণ্যবর,
কোনদিন সূর্যোদয়ের চেয়ে রঙিন ছিল এই ঘর!
পুরনো পথিকবর,নিশি ডাকে অনন্ত অরণ্য,
দিগন্তের কুহক,নিয়তির নাম,ডাকে
মরাগাঙে পাল ছেঁড়া নাও!
আমাকে শেখালে ছল,যদিও?
কসম খোদার মাণ্যবর, অতঃপর
তোমার জামার আস্তিনে পড়বে টান
যদ্যপি মরা গাঙে ঘূর্ণি তোলে বান।

