চিন্তাসূত্র ডেস্ক
না-ফেরার দেশে চলে গেলেন অভিনেতা আব্দুল কাদের। শনিবার (২৬ ডিসেম্বর) সকাল ৮টা ২০ মিনিটে রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে তিনি মৃত্যুবরণ করেন।এই সময় তার বয়স হয়েছিল ৬৯ বছর। আব্দুল কাদেরের পুত্রবধূ জাহিদা ইসলাম গণমাধ্যমকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
এর আগে, বৃহস্পতিবার (২৪ ডিসেম্বর) রাত ১২টার দিকে হঠাৎ আব্দুল কাদেরের শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে করোনা ইউনিট থেকে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র (আইসিইউ) নেওয়া হয়।
ক্যানসারে আক্রান্ত আব্দুল কাদেরকে ভারতের চেন্নাইয়ের ক্রিস্টিয়ান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়েছিল। গত ২০ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় তাকে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়। এয়ারপোর্ট থেকে তাকে এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
সোমবার (২১ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় তার কোভিড-১৯ পরীক্ষার ফল পজিটিভ আসে। এরপর থেকে এই হাসপাতালের করোনা ইউনিটে ভর্তি ছিলেন আব্দুল কাদের। ডা. ফেরদৌস শাহরিয়ার সাঈদের তত্ত্বাবধানে চিকিৎসা নেন এই অভিনেতা। এরপর সেখান থেকে তাকে এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
আবদুল কাদের ১৯৫১ সালে মুন্সীগঞ্জের টঙ্গিবাড়ী উপজেলার সোনারং গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। বাবার নাম আবদুল জলিল, মা আনোয়ারা খাতুন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর। কর্মজীবন শুরু হয় শিক্ষকতা দিয়ে। এরপর ১৯৭৯ সাল থেকে ‘বাটা’ কোম্পানিতে যোগ দেন। সেখানে ছিলেন ৩৫ বছর।
১৯৭২ সাল থেকে টেলিভিশন ও ১৯৭৩ সাল থেকে রেডিও নাটকে অভিনয় শুরু করেন তিনি। টেলিভিশনে তার অভিনীত প্রথম ধারাবাহিক নাটক ‘এসো গল্পের দেশে’। তিনি ২ হাজারেরও বেশি নাটকে অভিনয় করেছেন। তার অভিনীত উল্লেখযোগ্য নাটক—কোথাও কেউ নেই; মাটির কোলে; নক্ষত্রের রাত; শীর্ষবিন্দু; সবুজ সাথী; তিন টেক্কা; যুবরাজ; আগুন লাগা সন্ধ্যা; প্যাকেজ সংবাদ; সবুজ ছায়া; কুসুম কুসুম ভালোবাসা; নীতু তোমাকে ভালোবাসি; আমাদের ছোট নদী; দুলাভাই; অজ্ঞান পার্টি; মোবারকের ঈদ; বহুরূপী; এই মেকআপ; ঢুলিবাড়ি; সাত গোয়েন্দা; এক জনমে; জল পড়ে পাতা নড়ে এবং খান বাহাদুরের তিন ছেলে। এছাড়া অভিনয় করেছেন ‘রং নাম্বার’ নামের একটি সিনেমায়ও।
আবদুল কাদের বাংলাদেশ টেলিভিশনের নাট্যশিল্পী ও নাট্যকারদের সংগঠন ‘টেলিভিশন নাট্যশিল্পী ও নাট্যকার সংসদ’ (টেনাশিনাস)-এর সহ-সভাপতি ছিলেন।
