গত বিশ-বাইশ বছরধরে বৌদ্ধিক চেতনায় অনুপ্রাণিত হয়ে যারা কবিতা চর্চা করছেন, তাঁদের মধ্যে শিবলী মোকতাদির অন্যতম। সমসাময়িক এই মূল্যবোধহীন-নির্বিকার সময়ে কবিতার কাছে নিজেকে এভাবে সমর্পিত করার এই স্পর্ধা শিবলী যে কিভাবে লালন করেন, ভাবলে অবাক লাগে।এ সময়ে জীবিকার্জনের উন্নত বাস্তব সব সোপান এড়িয়ে কবিতার প্রতি এ ধরনের পিছুটান বজায় রাখা কী করে যে সম্ভব, তা অন্যের ধারণাতীত। কবিতার এই বন্ধুরপথ পরিক্রমায় শশব্যস্ত থাকতে দেখি শিবলী মোকতাদিরকে। যেন কবিতা চর্চা ছাড়া অন্য কোনো ক্ষেত্র তাঁর এখতিয়ারবহির্ভূত। প্রতিটি ক্ষণ জীবনকে নানাভাবে প্রত্যক্ষ করার, ছুঁয়ে দেখার উপলব্ধি নিয়ে নির্মিত হতে থাকে তাঁর কবিতা।
শুধু কি কাব্যরচনা? কাব্যরচনার বাইরে কবিদের নিয়ে আড্ডা, কবি সম্মেলন, এ উপলক্ষে দেশের আনাচে-কানাচে ভ্রমণ। দেশের ও বাইরের কবিদের সঙ্গে যোগাযোগ ও সম্পর্ক রাখা, কবি সম্মেলন উপলক্ষে কোনো পুস্তিকা ছাপানো, মুদ্রণ ও পরিকল্পনা—সর্বত্র জড়িয়ে থাকে তাঁর নিষ্ঠা ও শ্রম। বলাবাহুল্য বগুড়া শহর বা বগুড়া জেলার সব ধরনের ঐতিহ্যবাহী সাহিত্য-সমাবেশে সংগঠক হিসেবে বা সংগঠকের সহযোগী হিসেবে যে অল্পকজন সাহিত্যসেবী সর্বদা জড়িত থাকেন, শিবলী মোকতাদির তাঁদেরও মধ্যে অন্যতম।
এত বেশি আড্ডা, বহির্মুখী স্বভাব—সর্বত্র থাকার আন্তর্স্বভাব শিবলীর সৃজনশীলতাকে কি ব্যাহত করে না? এসব কথা মনে হয় আমাদের। কবির স্বতঃপ্রণোদিত জবাবকে যখন এভাবে বুঝতে হয়—প্রতি মুহূর্তে যেভাবে পাল্টে যাচ্ছে জীবনযাপনের ধরন, সম্পর্কের অবস্থা, তা বুঝতে হলে সমাজের সংস্পর্শে থাকা ছাড়া আর উপায়ই বা কী? এসবের জেরও তো এসে পড়ে কবিতায়।
বিশ শতকের শেষ দশকে বগুড়া ছিল সাহিত্যকর্মের ক্ষেত্রে এক উজ্জ্বল পীঠস্থান। কবি ফারুক সিদ্দিকী, কবি-সম্পাদক-কথাকার আন্ওয়ার আহমদ, লেখক-সম্পাদক সরকার আশরাফ, কবি-সম্পাদক কামরুল হুদা পথিক ওই সময়ে স্ব-স্ব সৃজনশীলতার স্বাক্ষর রাখছিলেন। বগুড়া থেকে প্রকাশিত হতো বিপ্রতীক, নিসর্গ, রূপম, কিছুধ্বনি, দ্রষ্টব্যছাড়াও আরও বেশকিছু লিটলম্যাগ। সারাক্ষণ লেগে থাকতো কবিতালাপ, সাহিত্যলোচনা বা নানা ধরনের প্রাসঙ্গিক আলাপ। কবি ও লেখকের কাছে এসব ছিল এস্রাজের সুরের মতো হৃদয়গ্রাহী। কবি ও লেখকদের কাছে অগণিত পত্রপত্রিকার এই মাধ্যম জাঁকালো হয়ে ওঠে দুর্নিবার সৃজনশীলতায় মগ্ন থাকায়। নানা জায়গায় কবিদের আড্ডা হতো। নিয়মিত-অনিয়মিত এই আড্ডায় উল্লেখযোগ্য হিসেবে যাঁরা থাকতেন, তাঁরা হলেন—ফারুক সিদ্দিকী, আন্ওয়ার আহমদ, সরকার আশরাফ, বজলুল করিম বাহার, কাজী রব, শোয়েব শাহরিয়ার, মাসুদ খান, শিবলী মোকতাদির, মাহমুদ হোসেন পিন্টু, বায়েজীদ মাহবুব, ফখরুল আহসান, অমিত রেজা চৌধুরী, জয়ন্ত দেব, মাহমুদ শাওন, ঈশান সামী, ইসলাম রফিক প্রমুখ। কখনো মুহম্মাদ শহীদুল্লাহ্, রেজাউল করিম চৌধুরীও যুক্ত হতেন এইসব আড্ডায়।
সবচেয়ে নিয়মিত আড্ডাটি বসতো কবি মাসুদ খানের বাসায় বা তাঁর সরকারি অফিসে। কখনো পথের পাশে কোনো আধো অন্ধকারে ভরা কোনো চায়ের দোকানে। শুধু আড্ডার কারণেই যাওয়া হতো মহাস্থান গড়ে। ভাসুবিহারের সবুজ মাঠের কোনো এক অচেনা বট গাছের নিচে। মাসুদ খানের ভাষায় যা ছিল কবিতাযাপন করার আড্ডা। এই আড্ডায় নিয়মিতরা ছাড়াও কখনো ঢাকা বা দেশের অন্য প্রান্ত থেকে আসতেন মঈন চৌধুরী, সাজ্জাদ শরীফ, ব্রাত্য রাইসু, কামরুজ্জামান কামু, শাহীন মোমতাজসহ আরো অনেকে। আসতেন অনেক তরুণ কবি ও লেখক। আর এভাবেই কবি শিবলী মোকতাদির কবিতার হাত ধরে নানা ধরনের পর্যবেক্ষণের মধ্য দিয়ে উঠে এসেছেন। আত্মপ্রত্যয়ী হয়েছেন। আবেগে, ক্ষোভে, মমতায় নানা ধরনে সংরাগে নির্মাণ করেছেন তাঁর কবিতার সৌধ।
ক্রমে ক্রমে আমরা পেয়ে যাই এক পরিণত তরুণ কবিকে। এই যাত্রা শুরুর যোগসূত্র ধরেই কবি শিবলী মোকতাদির বিষয়, আঙ্গিক ও ভাষার বদল হয়েছে। লিটলম্যাগ ছাড়া নিজেকে প্রকাশ করেননি। একপর্যায়ে নির্বাচিত সাহিত্য সাময়ীকী ছাড়া অন্য কোথাও নিজেকে মুদ্রিত হতেও দেননি। পরবর্তী সময়ে কিছুটা ঔদার্য তাঁর স্বভাবে বাসা বাঁধে। এবং এরপর থেকে নিজের কবিতা ও গদ্য তিনি প্রকাশ করতে থাকেন দেশ-বিদেশের নামিদামি লিটলম্যাগ ও বিভিন্ন জাতীয় পত্রিকায়। এ নিয়ে একটি ঘটনার কথা মনে পড়ছে— ফারুক সিদ্দিকীর অনুরোধে ‘বিপ্রতীক’ এর একটি সংখ্যায় আধুনিক কবিতায় ছন্দবোধ নিয়ে ‘ছন্দের নান্দনিক পাঠ’ নামক একটি প্রবন্ধ প্রকাশিত হয়। কবিতার ছন্দ ও সমসাময়িক অপেক্ষাকৃত নবীন কবিদের কবিতার ছন্দনির্মাণ ছিল এ প্রবন্ধের বিষয়। ‘বিপ্রতীক’ ওই সংখ্যাটির সব কপি প্রায় এক মাসের মধ্যেই বিক্রি হয়ে গিয়েছিল। পরবর্তী সময়ে আরেক সংখ্যায় ওই প্রবন্ধটি পুনর্মুদ্রন করতে হয়েছিল বলে শুনেছি।
‘ধানের রচনা দিলে পত্রে’ শিবলী’র প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ। এর পরম্পরায় আজ অবধি তাঁর আরও ৫টি গ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছে। ‘ছন্দের নান্দনিক পাঠ’ (প্রবন্ধগ্রন্থ), নিষিদ্ধ পুষ্টির কোলাহল (কাব্যগ্রন্থ), ‘সোনার কার্তুজ’ (কাব্যগ্রন্থ), ‘রৌদ্রবঞ্চিত লোক’ (মুক্তগদ্য), ও ‘ব্যবহারিক বিস্ময়’ (কাব্যগ্রন্থ)। সব মিলে কবির এ যাবৎ প্রকাশিত গ্রন্থের সংখ্যা মোট ৬টি। তাঁর কবিতার প্রধান বিষয় মানুষের যাপিত জীবন ও প্রকৃতি। প্রচলিত রীতিতে কবিতা লিখতে চাননি বলেই তাঁর কবিতার উপলব্ধিতে অভিনিবেশ ও মগ্নতার প্রয়োজন পড়ে। কখনো ব্যঙ্গ, বিদ্রূপ ও শ্লেষের প্রতিতুলনা তিনি তাঁর কবিতায় আভাসিত করেন।
খতিয়ানখণ্ড বগলে চেপে চলেছো কোথায়—হে বিদ্রূপ,
হে অন্ধকুমার; তৎপর এখনই
আমি তো জানি, যত হস্তের প্রসারিত অভিমান
কী করে যুক্ত করেছো সেথা; ফন্দী ও ফাত্নার রসায়নে।চারপাশে কোনো বস্তুর বর্ণনা ও বিশ্লেষণে তাঁর স্যাটায়ার লক্ষণীয়।
দুরন্ত বাটুলের ভঙ্গিতে দাঁড়িয়ে আছে লোকটি—একা, আরোপিত অঞ্চলে।
বা,
এই যা, আবারও স্পর্শের প্রণোদনায় হাতের হাহাকার ফুটিয়ে তুলি
…
এতটাই চুম্বকবিষ্ট এ-প্রান্তর, আর তুমি—জলা ও জায়গার অধিবাসী
শ্লেষের ভনিতা হাস্যরসের ধারায় মূর্ত হয়ে ওঠে।
গগন, তোমাকে গণনার প্রত্যয়ে আজ আমি খণ্ডিত রূপ ধরে
শুদ্ধ শরতের গ্রন্থিত কাশবনে দাঁড়িয়েছি—
অলীক এক নিবারণচণ্ডীর প্রহসনে।
গদ্যরীতির কাব্যবন্ধে বা মহাপয়ারের বৃত্তে শিবলী কবিতা রচনা করতে পছন্দ করেন। এসব কবিতায় কবির নিজস্ব স্মৃতির বয়ান থাকে। কখনো কখনো এতে ফ্যান্টাসি লক্ষ করা যায়। মনে হয় এভাবে কবি তাঁর বিশ্লেষণের ব্যালান্স তৈরি করেন। বা এটা হতে পারে তাঁর ডিফেন্সের শৈলী।
অথচ প্রচুর খনি ও খননের কারিগরিক রেখায় ডুবে থাকা এইসব পাপীয়-অঞ্চলে
তুমি খুব সামান্য এক জল ও জালের মধ্যে গেঁথে রাখা বউ
ক্রোশ আর ক্লান্তির উপযোগে ছুটে যাও চন্দ্রাহত বিস্তৃত মাঠের অন্ধকারে;
জেগে থাকা ঠুনকো-ঠমকীত ত্রিভুজ-পল্লীর আশেপাশে।
পরাবাস্তবতার এক ধরনের আস্তরণে ঢেকে যায় এই বর্ণনা। এ ধরনের দীর্ঘ কবিতায় সর্বোচ্চ ৮৭টি বাক্যও ব্যবহৃত হতে দেখেছি।
কী পেতে এ-সব কাহিনী যা-বলে তুমি ফের স্ফীত হয়ে যেতে?
দূরের অতিথি—অচেনা আমার, তার যুগে বৃষ্টিহীনা যুক্ত সংগীতে।
কিংবদন্তি বা প্রবাদের বিষয় নিয়ে কবির স্যাটায়ার যেন বিপরীতার্থক কোনো কোনো দৃশ্যের অবতারণা লক্ষ করা যায়। উদ্ভট রস উঠে আসে।
ঈশান কোণে তখন জাগে ঝড়ের পরে ঝড়
প্রবাদ-প্রথা বেষ্টিত সব আমরা পরস্পর
জামের ডালে আম দেখেছি, কদম গাছে কেয়া
নদীর জলে উট যদি হয় মরুতে পাই খেয়া
মুক্তগদ্যের ঢংয়ে রচনা করেছেন বেশকিছু রচনা। রচনার কতকতা বাস্তব, অতিবাস্তব ও পরাবাস্তবধর্মী। গদ্যগুলো বহমান জীবন সম্পর্কিত হলেও অতিমাত্রায় ফ্যান্টাসিগ্রস্ত। কোনোটির কাহিনি রূপকথার আদলে নির্মিত। এর মধ্যে যেটি সবচেয়ে রম্য তার নাম ‘প্রাণে বেঁচে যাওয়া কতিপয় বরযাত্রীর মুখ থেকে শোনা অতিশয় এক করুণ কাহিনী’ এক ধরনের অ্যাবসার্ড কাহিনিরূপেও চিহ্নিত করা যায় একে।
বলাইবাহুল্য, সময়ের এমন রহস্যজনক লুকোচুরি, আমাদের, মানে বরযাত্রীদের নিয়ে তার এমন-ই ছেলেখেলা, গেরোবিহীন এই সব আগামাথা, ঋতুর ঘনঘন এইসব পাল্টীখাওয়া হেয়ালিপনা, ওয়েদারের এমন চ্যাংরামো—বিশ্বাস করুন, এ জীবনে কে বা কারা, কোথায় আর দেখেছেন বলুন!
আর ঐ যে কনে এলাকা, বাহারি সব রাস্তা, বিভিন্ন উচ্চতায় ঝুলে থাকা পথের দু’ধারে অভিনব তাদের ঘরগেরস্থালি। প্রাচীন মোটা মোটা সব ভাষা, সকলের-ই ব্যক্তিগত চাঁদ আছে সেই অঞ্চলে। যেরূপ আমাদের বান্ধবী থেকে থাকে। সামান্য কয়েক বর্গ কিলোমিটার এলাকা, অথচ এরই মধ্যে লক্ষ লক্ষ নাপিতের বাস। তাদের আহার, তাদের রুচি, ধর্মজ্ঞান আহা! কী বলবো ভাই! এতদিন পর এসব কি আর ডিটেলস্ মনে আছে আমার!
কবি শিবলী মোকতাদিরের ছোট-ছোট কবিতাগুলোই সবচেয়ে রম্য ও সহজপাঠ্য। অক্ষর, শব্দ ও বাক্যের মধ্যে পরিমিতিবোধসহ এক প্রতীকী, স্বাতন্ত্র্য লক্ষ করা যায়। তাৎপর্য, অন্তর্গত ভাবের দ্বন্দ্ব, ধাঁধা, লোকগাথা ও মিথ ইত্যাদির ব্যঞ্জনায় ভিন্ন এক অনুভূতির সৃষ্টি করে। কল্পনা ও বাস্তবতার মিশ্র প্রভাব কবিতাগুলোতে মহিমা ছড়ায়।
টানা গদ্যগুলোতে বাক্য উপস্থাপনার চাতুর্য, উপমা ও উপমানের রিভার্স উপস্থাপনা বা প্রতিতুলনা যা পাঠকের উপলব্ধির জন্য অনেক সময় সহজতর হয় না। তখন মনে হয় এ ধরনের অর্থালঙ্কার দ্বারা তিনি বিষয়ের রহস্যকে ঘনীভূত করে তোলার ক্ষেত্রে ক্যথারসিস হিসেবে বেছে নিয়েছেন। বরং ছোট কবিতাগুলো বাস্তব জীবনের নানা অভিজ্ঞতার পিকারেক্স তৈরি করেছেন। কোনো কোনোটি ধাঁধার মতো লাগলেও রস গ্রহণে কাঁটার মতো বিঘ্ন সৃষ্টি করে না। ফ্যান্টাসির ঘোরে বিষয়কে অবলীলায় চালিয়ে দেওয়ার এই উদ্ভট টেকনিক মুক্তগদ্যগুলোকে মরুভূমির মতো উষ্ণতায় আবিষ্ট করেছে।
ক.
বাজারে যায় মানুষফাঁকা এবং ঝুলন্ত ব্যাগ হাতে
পরাপাঠ্যে এদের বলে মাত্রাবৃত্তে ফানুস!
খ.
নৌকা থাকে নদীর ঘাটে বাঁধাবর্ষা আসে, বসন্ত যায়
মাঝির পায়ে কাদা!
গ.
মানুষ হলেই মতের প্রশ্ন আসেধর্মে-মোড়া কুৎসা এবং কিচ্ছা নদীর ঘাটে
মদের পরে মাতাল যেমন তর্ক বাধায় তাসে!
ঘ.
নানান ডালে বহন করে বৃক্ষ নানান ফাঁসহঠাৎ যদি ইচ্ছা তোমার প্রবল হয়ে ওঠে
বেকুব সারা গ্রামটি জুড়ে একটি খেজুর গাছ!
ঙ.
তালাশ করো, তালাশ করোচোরকে বেঁধে চৌর্য শব্দে এসে
তৎসমভাব মর্মে রেখে তদ্ভবে ভাব গড়ো!
চ.
হেতু অর্থ লজিকসেতুর প্রশ্নে এসে,
যুক্তি থাকে গৌণবাদী কল্পনাটাই অধিক!
এ ধরনের ত্রিপদী পয়ারের বেশ কিছু সংখ্যক ছোট কবিতা লিখেছেন কবি। নানা ধরনের ভাবনাকে একটি সংহত কাঠামোতে রজ্জুবদ্ধ করেছেন। চাবি শব্দের সম্মোহন সৃষ্টির মাধ্যমে তিনি পৌঁছে যান তাঁর কাম্য সিদ্ধান্তের অন্তর্লোকে। এ কবিতাগুলোর ভাষা, ভঙ্গি, বিন্যাস, বর্ণনা, উপমা বিভাবিত সারৎসার খুলে দেয় উপলব্ধির এক নতুন ক্ষেত্র। বহুকাল আগে কবি শঙ্খ ঘোষের ‘পাজরে দাঁড়ের শব্দ’ নামক এ ধরনের এক কাব্য সংকলন আমাদের মুগ্ধ করেছিল। শিবলীর এই ছোট কবিতাগুলো নিঃসন্দেহে বিস্ময়কর। কবিতাগুলোতে ঠিকরে পড়েছে তাঁর নতুন প্রত্যবেক্ষণের রীতি। কিছুটা প্রবচনধর্মীও বটে।
শিবলী মোকতাদির এভাবেই ভাব ও বিভাব ছড়িয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে স্বকীয়তার ছাপ ও ছায়া মেলে ধরার চরিত্র নিয়ে সৃষ্টিশীল রয়েছেন। শব্দ ও বাক্যের রেখায় জরিপ করে চলেছেন সমসাময়িক কালের বৈশিষ্ট্য। কাব্যচর্চাই তাঁর আরাধ্য জগৎ। এই মানচিত্রে তাঁর এই অনিশ্চিত অভিযান এখন অবধি জায়মান রয়েছে। একজন প্রকৃত কবি হয়ে ওঠার ক্ষেত্রে এই অভিযাত্রা যতটা রোমাঞ্চকর, সাফল্য লাভ ততটাই দুরূহ। তবে সৃজনশীল প্রতিটি মানুষই উত্তীর্ণ হতে পারে তার স্বাতন্ত্র্যে, যে স্বাতন্ত্র্য অর্জনের আর কোনো বিকল্প নেই। ১১জুন প্রতিভাবান এই কবি পা রাখছেন ৪৭তম জন্মদিনে। জন্মের এই শুভ লগ্নে তাঁকে জানাই একরাশ শুভেচ্ছা। শতায়ু হোক জীবন আর কবিতায়।

