অশ্রুর ক্লান্তি
কেঁদো না—
অশ্রুরও একদিন ক্লান্তি আসে,
যেমন বর্ষার শেষে ভিজে মাটির গন্ধ
নিঃশব্দে শুকিয়ে যায় রৌদ্রের চুম্বনে।
ভালোবাসা গভীর হলে
হৃদয়কে বহন করতে হয় এক গোপন পাহাড়;
তার গায়ে জমে থাকে
অপ্রকাশিত শব্দের বরফ।
মায়ার আলো
মানুষ মায়ার আঠায় আটকে থাকে—
মুখ, স্মৃতি, স্পর্শ, প্রতীক্ষা—
সব যেন জলের ওপর আঁকা প্রদীপের রেখা;
তবু সেই ক্ষণিক আলোর জন্যই
রাত্রিকে এত অনন্ত মনে হয়।
আনন্দের মুক্তো
যে সত্য অনুভব করতে জানে,
সে দুঃখের নদীতে ডুবে গিয়ে
অন্ধকারের তলদেশ থেকে
মুক্তোর মতো তুলে আনে আনন্দের আলো।
তারপর সেই আনন্দকে গেঁথে নেয়
বুকের গভীর অন্তর্দেশে।
দূতপাখি
তখন দুঃখ আর প্রেমকে স্পর্শ করতে পারে না।
মোহ ঝরে পড়ে শুকনো পাতার মতো;
রয়ে যায় কেবল এক অদৃশ্য টান—
যা শত মাইল দূর থেকেও
মেঘের কাঁধে ভর দিয়ে
প্রিয় মানুষের কাছে পৌঁছে যায়।
কালিদাস তখন নিছক কবি নন;
তিনি বিরহের আকাশে উড়তে থাকা
প্রথম দূতপাখি।
ক্ষতের জন্ম
কবি কেন সৃষ্টি করে, জানো?
কারণ তার ভেতরেই
একটি ক্ষত সারাক্ষণ জেগে থাকে।
যে হৃদয় কখনো ভাঙেনি,
সে তো কেবল শব্দ সাজাতে পারে;
কবিতা নয়।
বেদনার দীপ
তোমার কান্নাকে
অকারণে জলে ভাসিয়ে দিও না—
তাকে শব্দের শ্বাস দাও,
অক্ষরের শরীরে জাগিয়ে তোলো।
দেখবে, তোমার অনুভবেরা
একদিন কবিতার রূপ নিয়ে
নিজেই তোমার হৃদয়জুড়ে বসবে।
তুমি আর তখন—নিঃসঙ্গ থাকবে না;
তোমার প্রতিটি বেদনা
এক একজন কবির মতো
তোমার পাশে দীপ জ্বেলে বসে থাকবে।

