স্বসম্পাদিত | চিন্তাসূত্র
৪ অগ্রহায়ণ, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ | ১৮ নভেম্বর, ২০১৭ | সকাল ১০:২৯

স্বসম্পাদিত Subscribe to স্বসম্পাদিত

অভিলাষ ॥ সুতপা সরকার মৌ

আমাকে তোমরা অবলা বলো- কখনো ভালোবেসে, কখনো রেগে, কখনো বা তাচ্ছিল্যে! কিন্তুু আমি, আমি কি বলি! কোনটা নেব আমি, ভালোবাসা, রাগ না তাচ্ছিল্য? যেন আজন্মকাল থেকে বয়ে চলেছে এই স্রোতধারা! দুদিন আগে এ পথের ধারে একটা ঘটনা ঘটে গেল, দুর্ঘটনাও বলা যেতে পারে! মধ্যদুপুরে টিউশন থেকে ফিরছিল গঙ্গা, কাঁধে ঝোলানো ব্যাগ, হাতে অ্যাকাউন্টিংয়ের...

প্রকৃতির কোলেই যত শান্তি, যত নির্বাণ ॥ ফারুক সুমন

(প্রকৃতি প্রেমী প্রয়াত অধ্যাপক দ্বিজেন শর্মাকে) টাকা ফুরিয়ে এলে ফাঁকা পড়ে রয় মদিরার গ্লাস। মায়া ফুরিয়ে গেলে ছায়া হয়ে রয় যত হাহুতাশ। মনোবাঞ্ছা পূর্ণ হলে শূন্য মনে হয় উপাসনালয়। ক্ষয়, ক্ষয়, ক্ষয়। কেবলই ক্ষয়ে যাওয়ার ভয়। এ এক আজব সিঁড়ি! একপাশে অভিজাত গোলাপবাগান- অন্যপাশে মানুষের নাড়িভুঁড়ি। ঝুলন্ত তারের শরীর...

প্রিয় আয়নায় মুখ, মানচিত্র ॥ সুবন্ত যায়েদ

একবিংশ শতাব্দীর খসে পড়া চাকা তবু গড়াচ্ছে, যেনো হাওয়ার চাপে, কারো কারো দৃষ্টি তবু রায় দেয় গড়াচ্ছে কোথায়, মুখ থুবড়ে পড়েছে পুরাধুনিক ভাগাড়ে। সুদূর য়ূরোপ থেকে উড়ে এসে মিস্টার এ্যাসেল হ্যারিস তার অবসর যাপনকালের দীর্ঘ সময় বাংলাদেশের উত্তরে গ্রামীণ জনপদগুলোতে দুটি চোখ আর একটি দৃষ্টি নিয়ে ঘোরে। বাংলার দক্ষিণের...

একটা মানুষ ॥ শাহানারা ঝরনা

একটা মানুষ, একলা উঠোন শূন্য বাড়িঘর শোক বেদনায় একলা পোড়ে বানভাসা অন্তর মন বাড়িটা আরোগ্য চায় রোগ সারাবে কে? রোগ সারাবে সেই মহাজন, মনকে পোষে যে ! অস্থিরতায় উর্বরা হয় পুতুল- বাসর রাত মশাল জ্বেলে কেউ ধরেনা পাথর ভাঙা হাত স্থবির এই সভ্যতা হায় খেলছে পাশা রোজ খুপরি ঘরে স্বপ্ন নিলাম, কেউ করেনা খোঁজ মুক্তবেণির গন্ধে মাতাল...

তিনটি কবিতা ॥ রেবেকা ইসলাম

গলিত বিশ্বাস কোন এক ঝুলন্ত সন্ধ্যায় তোমার যাযাবর বুকের পাজরে আমার নাম লিখেছিলাম ধীরে ধীরে নদীর উত্তাল স্রোত দিয়ে সূর্য আগুন অহংকারে তারপর ভয়ংকর দরপতনে নির্বাক হয়ে গেল পাহাড়ের চূড়ো অসহায় হয়ে গেল কালজয়ী সুখ আমি শুধু লুকিয়ে রেখেছিলাম এক টুকরো বৈসাবি অনুভূতি জোৎস্নার আলোয় ধুইয়ে আঁচলের উম উম গিঁটে মাঝে মাঝে...

তিনটি কবিতা ॥ জাহাঙ্গীর হোসেন বাদশাহ

নখ মাঘের দুপুর এলে কমে আসে হাহাকারী অশ্লীলতা; কারো নাভির গন্ধ পাই চোখে— দুপুরের নষ্টামীটুকু রেখে দেই পকেটে; ফাল্গুনে তার খামচি পড়ে থাকে আমার পিঠে। ফানুসপাঠ তোমার বাজিকর চোখ রাতের ছাই; অনুগত ঘোড়ার মত বুকের একপাশে বাধিয়ে রাখো পালাবার ঘড়ি; পালিয়ে যাবে কোথায়? মরুর বনে ? বনের দেশে? চেয়েছ, একটা সমুদ্র কাধে নিয়ে হয়ে...

দুটি কবিতা ॥ ফরিদা ইয়াসমিন সুমি

পারি না ভুলে যেতে সেই যে কবে কখন ঝড়ে ভেঙে যাওয়া ডানায় ভর করে উড়ে গিয়েছিল পাখিটা, আকাশের বুক চিরে খসে পড়ে নিরেট অতলান্তে হারিয়েছিল কবে কোন ধ্রুবতারা, কে-ই বা তা মনে রাখে? মুছে যাওয়া দিনের মতো অবধারিতভাবে কার জীবন থেকে কে কখন হারিয়ে যায়, হিসেবের যাঁতাকলে পিষ্ট হয়ে মরে যায় কত জেগে থাকা রাতের গভীরতম চুম্বন, কে কবে...

আগুনপুত্র ॥ রিপনচন্দ্র মল্লিক

ইয়াসিন শেখ আরো কিছুদিন অন্তত শান্তিতে বাঁচতে চায়। আকাশের দিকে তাকিয়ে সে পাখিদের উড়ে যাওয়া দেখতে চায়। পাখা মেলে শঙ্খচিলের প্লেনের মতো রাজকীয় ভঙ্গিমায় উড়তে থাকা কিংবা বাড়ির আঙিনার পাশে অথবা উঠোনের কোনে ঝোপের মতো দাঁড়িয়ে থাকা ফুলের বাগানে, রোদ-হাওয়া শরীরে মাখিয়ে ফুলে ফুলে দাপাদাপি করে উড়ে বেড়ানো কিংবা ফুলের...

দুটি কবিতা ॥ নাজনীন খলিল

আগুনের অবশেষ ড্যান্সহলে অগ্নিহোত্রী। তবলচী বৈশ্বানর। কী করে ছড়ালো পাখির চোখঝলসানো এতোটা দাহক? পুড়ল প্রজাপতিডানা। পেখমের ভাঁজ খুলে দূরান্তে পালালে ময়ূর। দাবানল থেমে যাবে ঠিক।তার আগে পাতা পুড়বে। বুনোফলফুল। বৃক্ষপল্লবাদি কাঠকয়লা হবে। আরো বহুক্ষণ কড়কড়াৎ ধ্বনিতে বনপোড়ানো রণভেরীর হুহুংকার শোনা যাবে। ধীরে...

সোনালি ভোরের অধ্যায় ॥ আযাহা সুলতান

হৃদ্য! অ হৃদ্য! কোথায় লুকিয়ে আছিস রে হারামি? শুনতে কি পাস না? হারামজাদাটার কাণ্ড দেখো ত-শুনেও শুনে না! হে আল্লাহ্‌, এমন অপদার্থ সন্তান যেন কারও কপালে না জুটে। রাগে আগুনজ্বলা জ্বলছে আর গজগজ করে পালাক্রমে কথাগুলো বলে যাচ্ছে গৃহিণী নিনা জোয়াদ্দার। এমুহূর্তে হৃদ্যকে পেলে বোধহয় সিদ্ধ ছাড়া আলুভর্তা বানিয়ে তবেই...