রোহিঙ্গাগিরি ॥ মুহাম্মদ নুরুল করীম খান | চিন্তাসূত্র
৮ বৈশাখ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ | ২১ এপ্রিল, ২০১৯ | দুপুর ২:৪৬

রোহিঙ্গাগিরি ॥ মুহাম্মদ নুরুল করীম খান

সেতু
কোথায়ও কুয়াশা মেলেনি আজিকে তার অলোক ডানা
এমন নীরবতা খুলে পাঠিয়েছ তোমার নীল অফিস খানা
অন্ধ চোখের বুলবুলি চাই এবার আমার একা
দাস কবিরাজ লিখে দাও হে মহান পুকুর সেঁকা
ঘর পুড়েছে তা দেখে কেউ বানিয়ে যায় হাওয়াই শার্ট
অকথ্য ফুল আমরা তুলব কার্পাসে নিজের হারিয়ে পার্ট
আগুনে-বুড়ি গাও মন্দা বাজার বসো সুখি টেবিলের পাশে
আমাকে দিয়েছে বিশুদ্ধ নাস্তা-রুটি ডিম ভাজি আর হাসে
এয়ারপোর্টের মাজেজা দেখাও রিজাইন সুন্দরী কাঁদো
এই বিকেলে চুরি করো প্রেম আর আমাদের ভাত রাঁধো

রোহিঙ্গাগিরি
০১.
পাপড়ি, এ সকল পরিস্থিতিতে আপনি কী করেন? যখন নিরাপদ আর স্বাস্থ্যকর পিপাসারা দাঁড় বেয়ে বেয়ে শহরে প্রবেশ করেন! আপনি কি তাদের জন্য শৌচাগারের ফটোকফি বিতরণ করবেন! উদার বারান্দা থেকে রাতের সিগারেট মর্যদাহানি করতে চাইলে পাপড়ি আপনি আশ্রয় শিবিরে কিভাবে শান্তি স্থাপন করবেন; প্লিজ জানাবেন। সুবিশাল অগ্নিকাণ্ডের দিনে যত আমোদের ক্ষতি হয়েছে-পুষিয়ে দিতে বুঝি বৃক্ষরোপণ করা হয়েছে। দ্রুততম সময়ে গ্রামের সুরতে বসেছে মেঘের টিউবওয়েল। পাপড়ি, নিম্ন আদালতে আজ কি আমাকে জামিন লঙ্ঘন করে খাওয়াবে কেউ শিশুবান্ধব নুরানি ইস্কুল। আপনাদের বাবা-মাকে মনে পড়ার দায়িত্ব কাউকে দিতে হলে আমাকে নিয়োগ দেবেন প্লিজ!

০২.
আমরা নৌকার ডানায় করে এপথ ওপথ হয়ে শেষে বাজিকরখানায় এসেছি। আজ কিছু বিশ্রামের তোয়ালে বোনা যাক। আগুনের উল্লাসে সূর্য তাড়াতাড়ি ডুবে যাবে সন্ধ্যায়। আমরা তবু ক্ষান্ত হতে চাই না। শুনতে পারা যাচ্ছে ওহে আমাদের উড্ডয়নবিলাসি প্রভূ। ককপিটের যে ধারাপাত আল্লাহর মজলিস থেকে জানিয়ে দেওয়া হয়েছিল- আমরা সে সবক গ্রহণ করি। কসুর করিনি। আমাদের উজ্জল বেদনায় এসো হজরত মুহাম্মদের (সা.) তরিকায় কিছু উপশম ঢালো। আমরা দিতে পারব না হয়ত বাবা-মায়ের গহিন যত্নের ঋণ। আমরা অতটা পারব না হয়ত। অতো জ্ঞান-গম্যি আমরা সাথে করে আনিনি। আকাশের খতিয়ান রিনিউ করার দরকার। বাড়ি যাব কবে ভাবি না এখন আর। উড্ডয়ন আমাদের দিয়েছে বিস্তর আশা-আকাঙ্ক্ষার দাবি।

০৩.
আমাদের গানগুলো কে আছেন গেয়ে দেবেন। আমাদের অনুভূতির রূপকল্প এঁকে দিন হে বনানী-সবুজ শিল্পীগণ। যে কাব্য একদিন আরাকানের রাজ সভায় পঠিত হতো সে কাব্যের নয়া সিলসিলা রচনা করো ওগো গুরু-গোঁসাই। আমরা এ নাফ নদীর প্রেরণাসঞ্চিত স্রোতধারাকে রক্তের ভেতর বহন করব। আপনাদের নিকট কৃতজ্ঞতা-কী আশ্চর্য নজিরবিহীন সাড়া দিয়ে ফুটিয়েছেন পরাবাস্তব অগ্নিগোলাপ। জন্ম লাভ করেছে আস্থার এক বিপুল বনভূমি। আজ সেথায় শিশুদের সাথে লুকোচুরি খেলা যাক-ওগো প্রিয়াংকা চোপড়া। ভৌগোলিক প্রভূদের সব কয়টি রাঙাচোখ উপেক্ষাকারিনী, অ্যাঞ্জেলিনা জোলি, প্রাচ্যের কর্মপত্র তোমার জন্য তুলে রাখলাম।

মন্তব্য

চিন্তাসূত্রে প্রকাশিত কোনও লেখা পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ।


কোন মন্তব্য নাই.

লেখাটি সম্পর্কে আপনার মন্তব্য লিখুন


webcams Etudiantes Live Jasmin Forester Theme