ঝিঁঝিলাগা দিনগুলো-১৬॥ শিল্পী নাজনীন | চিন্তাসূত্র
৮ বৈশাখ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ | ২১ এপ্রিল, ২০১৯ | সকাল ৯:২১

ঝিঁঝিলাগা দিনগুলো-১৬॥ শিল্পী নাজনীন

[পর্ব-১৬]
রুমকীকে জড়িয়ে ঘুমিয়েছিল দীপন। ভোরের দিকে রুমকীর বিছানায় এসে তাকে বুকের মধ্যে না নিলে সারাটাদিন কেমন খালি লাগে তার। বুকটা ফাঁকা লাগে খুব। তুলি মাঝে মাঝেই এ নিয়ে তাকে ক্ষেপায়। বলে, রুমকীকে পেয়ে নাকি দীপন তাকে আর পাত্তাই দেয় না আজকাল। শুনে দীপন হাসে। বলে, দূরে থাকো একশ হাত! মা-ছেলের মধ্যে বাগড়া দিতে এসো না!

কপট রাগ দেখায় তুলি, অভিমান। ভেতরে ভেতরে ভালো লাগে তারও। প্রবল আনন্দ ঢেউ তুলে নেমে যায় বুক থেকে মেরুদণ্ড বেয়ে। তার নিজের শৈশব ছিল নিরানন্দ। তুলিকে পৃথিবীর আলো দেখাতে গিয়ে মা চলে গিয়েছিলেন অতল অন্ধকারে। বাবা নতুন করে সংসার পেতেছিলেন। পুরনো ন্যাকড়া জড়ানো একদিনের তুলির ঠাঁই হয়েছিল মামাদের সংসারে, অনাহুত অতিথি হিসেবে। উচ্ছিষ্ট কুড়িয়ে বড় হওয়া জীবনে অনাদর আর অবহেলা ছাড়া তেমন কিছু জুটত না তার ভাগে। তবু দিন চলে গেছে। আটকে থাকেনি কিছুই। বাবা কোনোদিন খোঁজ রাখেননি আর। মাঝে মাঝে তার খুব ইচ্ছে হতো বাবা নামক মানুষটা দেখতে কেমন, সেটা জানতে। তবু ইচ্ছেটা ইচ্ছেই থেকে গেছিল অনেকদিন। তুলির বিয়েতে এসেছিলেন ভদ্রলোক। সেই প্রথম। শেষও সম্ভবত। তবু মামারা যে দয়া করে পড়াশোনার সুযোগটা দিয়েছিলেন, সেই বা কম কী! সেজন্যই সে কৃতজ্ঞ তাদের কাছে। জন্মাবধি অবহেলা আর অনাদরে বড় হওয়া তুলি যখন নিজের মেয়েটাকে বাবা-কাকার চোখের মণি হতে দেখে, আনন্দে তার চোখেও জল এসে যায় তখন। গোপনে সে চোখের জল মোছে। দীপন সেটা বোঝে। তুলিকে তাই সে পারতপক্ষে কষ্ট দিতে চায় না কখনো। দেয়ও না। সে জানে তুলির কাছে সে-ই পৃথিবী। তাকে ঘিরেই তুলির যত প্রার্থনা ও পরিত্রাণ।

এলার্ম বেজে ওঠে। ঘুম চোখে বন্ধ করে দীপন। রুমকীকে জড়িয়ে রাখে আরও কিছুক্ষণ। তারপর আস্তে ক’রে ডাকে। রুমকীটা অলস। সকালে একদম উঠতে চায় না। তাকে সকালে ঘুম থেকে তোলাটা বিশাল এক যুদ্ধ। ততক্ষণে তুলিও উঠে তাড়া লাগাতে শুরু করে। ময়না সাত-সকালে উঠে নাশতা তৈরিতে লেগে যায়। তুলিও উঠে পড়ে খুব ভোরে। সকালের নামায কখনও কাযা হয় না তার। শিশুবেলা থেকে নামাজ-রোজা অভ্যাস তার। সকালে উঠে নামাজ পড়ে কিছুক্ষণ বাড়ির সামনের বাগানটায় হাঁটাহাঁটি করে। তারপর রুমকীকে ঘুম থেকে তুলে দিয়ে ময়নার কাজের তদারকি, সারাদিনের কাজের নির্দেশ দেওয়া। মেয়েকে স্কুলের জন্য তৈরি করা বিশাল এক ঝক্কি। সকালে উঠে মেয়ে নড়ে তো নড়ে না। নাশতা মুখে নিয়েই পারলে ঘুমিয়ে পড়ে আবার।

রুমকীকে ডেকে তোলে দীপন। ব্রাশ হাতে দিয়ে নিয়ে যায় বেসিনের সামনে। রুমকী ঘুমে ঢুলতে ঢুলতে ব্রাশ সারে। ইশ। বাচ্চাদের স্কুলটা কেন যে এত সকালে শুরু হয়। মেয়ের কষ্ট দেখে দীপনের কান্না পেয়ে যায় প্রায়ই। তাদের সময় স্কুলটা ছিল সেই সকাল দশটায়। নেয়ে, খেয়ে, ফূর্তিতে বগল বাজাতে বাজাতে স্কুলে যেত তারা দু ভাই। হাতেগোনা কয়েকটা বই ছিল তাদের। পড়াটাকে পড়াই মনে হয়নি কোনোদিন। তার নিজের কাছে স্কুল ছিল খেলার অন্যতম একটা জায়গা। সে স্কুলে যেত খেলার লোভে, বন্ধুদের সঙ্গে মনের সুখে দুষ্টুমি করার লোভে। এরই ফাঁকে কখন যে পড়াটাও হয়ে যেতো, সেটা খেয়ালই থাকত না প্রায়। পড়া যেন ছিল জীবনের গৌণ একটা ব্যাপার। মুখ্য ছিল খেলা, মজা। আহা! মেয়েটা সে-সব শৈশবের কোনো ছোঁয়াই পেলো না বলতে গেলে। যান্ত্রিক একটা শৈশব তার। স্কুল আর বাড়ি, বাড়ি আর স্কুল। সারাদিন মানুষ বলতে শুধু ময়না আর রতন। তার মধ্যে রতন আবার বেশিরভাগ সময়ই থাকে অসুস্থ। মেয়েটার দিন কাটে গাদাগাদা হোমওয়ার্ক আর পড়া মুখস্থ করে। কতগুলো যে সাবজেক্ট মেয়ের, কত যে বই, ভাবতেও হাঁফ ধ’রে যায় দীপনের।

রুমকীকে স্কুলে নামিয়ে দেওয়ার সময়টাতে মেয়েটা খুব জ্বালায়। সে বাবাকে শক্ত হাতে জড়িয়ে রাখে, ছাড়তে চায় না কিছুতেই। মেয়েটা বড় হচ্ছে কিন্তু বাবাকে ছাড়া তার চলে না একদম। পাশেই তুলিও থাকে। তুলির দিকে মেয়ে ফিরেও তাকায় না প্রায়। দায়সারা গোছের একটা চুমু দিয়েই বাবাকে আঁকড়ে ধরে জোঁকের মতো। প্রতিদিনের রুটিন। মেয়েকে বুঝিয়ে, আদর করে, বকে, ধমকে, শেষে চুমু দিয়ে তবে ছুটি। স্কুলের গেটে ঢুকেও বারবার ফিরে ফিরে তাকায় মেয়ে, হাত নেড়ে টা টা দেয় যতক্ষণ চোখের সীমানায় থাকে। ফেরার সময় কেমন চিনচিনে একটা কষ্ট গেঁথে থাকে বুকের কাছে, শিরশিরে একটা সুখ। আহ্। জীবনটা বড় সুন্দর। তুলি গাড়ির জানালার কাঁচ সরিয়ে হাসিমুখে উপভোগ করে বাবা-মেয়ের এই ভালোবাসা-বাসি। মাঝে মাঝে মেয়েকে মৃদু ধমকও দেয়। কেমন একটু ঈর্ষাও হয় তার। মেয়ে যেন তার চেয়ে দীপনকেই বেশি ভালবাসে! দীপনের সঙ্গেই বেশি মান-অভিমান মেয়ের, অধিকারবোধ চর্চা!

দীপন পাশে এসে বসতেই গাড়ি সামনে এগোয়। তুলিকে অফিসে নামিয়ে দিয়ে অফিসে যাবে দীপন। বরাবরই তেমন করে। যদি না হঠাৎ অন্যকোনো শিডিউল পড়ে যায়। দীপন পাশে এসে বসতেই একটু নড়ে চড়ে বসে তুলি। একটু ভাবে। দীপনকে আজকাল প্রায় পাওয়াই যাচ্ছে না। ফিরছে রাত করে। অত রাতে আর কথা বলার ইচ্ছে থাকে না। খেয়েই ঘুমিয়ে পড়ে দীপন। ক্লান্ত। সকালে উঠেই আবার প্রতিদিনের যুদ্ধ। কেমন অচেনা হয়ে উঠছে দীপন। অসুখী। আয়নায় মুখটা দেখে তুলি। শেভ করেনি দীপন। খোঁচা খোঁচা দাড়ি। কেমন ম্লান দেখায় মুখটা। বিষণ্ন। তুলির বুকের ভেতরটা কেমন করে ওঠে। দীপনের জন্য কেমন একটু কষ্ট হয়। কী হয়েছে দীপনের? কী নিয়ে অত চিন্তিত সে?

দ্বিধা সরিয়ে দেয় তুলি। দীপনের দিকে ফিরে মৃদুকণ্ঠে বলে, একটা সত্যি কথা বলবে দীপন?

দীপন অন্যমনস্ক ছিল। রাস্তার দিকে চোখ রেখে কিছু একটা ভাবছিল। তুলির কথায় চমকে ফিরে তাকায়। বলে, কিছু বললে না কি?

হ্যাঁ, বললাম।—চোখে চোখ রেখে বলে তুলি।

কী?

তোমার কী হয়েছে?

নিজের ভেতর কেমন একটু কাঁপন টের পায় দীপন। কেমন এক অস্বস্তির কাঁটা খোঁচা দেয়। মনের মধ্যে অন্য একটা মুখ ভেসে উঠেই ডুবে যায় আবার। তিতলি! নিজেই চমকে ওঠে। কী বলবে দীপন? কী হয়েছে আসলে তার? বিষয়টা কী তুলিকে বলার মতো? বললে কি সহজভাবে নিতে পারবে তুলি? না, পারবে না। অথচ বিষয়টা তেমন গুরুতর কিছুও তো নয় আসলে। তিতলি তাকে ভালোবাসে! তিতলি বিবাহিত, তার বর আছে, সন্তান আছে, কিন্তু তবু সে ভালোবাসে দীপনকে। দীপনও বাসে না কি? বাসে। নিজের কাছে লুকানোর তো পথ নেই দীপনের। সে জানে সে-ও ভালোবাসে তিতলিকে। কিন্তু এই ভালোবাসা অন্যরকম। তাদের কারও কাছেই বিশেষ কিছু প্রত্যাশা নেই কারও। না তিতলির না দীপনের। তিতলি জানে দীপন তার সংসারে সব মিলিয়ে দারুণ সুখী, পূর্ণ। সে কখনোই চায় না দীপনের এই সুখী, পরিপূর্ণ পৃথিবীতে তার জন্য কোনো ঝড় উঠুক। সে শুধু চায় দীপন তার মনের মধ্যে জ্বেলে রাখুক একটু ভালোবাসার দীপ। যার আলোয় সে পাড়ি দেবে জীবনের অন্ধকারতম পথ। সে শুধু চায় দীপন তার অবসর মতো সময়ে একটু কথা বলুক তার সঙ্গে। দেখা যে করতে চায় না মাঝে মাঝে তেমন নয়। চায়, খুব করেই চায়। দীপনের সবটুকু উজাড় করেই সে পেতে চায়। তবু দীপনের গোছানো জীবনকে এলোমেলো করে দিয়ে সে চায় না কিছুই। যদি এমন হয়, দেখা করলে কোনো ঝড় উঠছে দীপনের জীবনে, তবে  দেখা না করেও একটি জীবন কাটিয়ে দিতে সে প্রস্তুত। কারণ সে জানে, এই সম্পর্কের কোনো পরিণতি নেই। না তার দিক থেকে, না দীপনের দিক থেকে। দীপন অনেক ভেবেছে। তিতলি তাকে ভাবতে বাধ্য করেছে। সম্পর্কটা তুলি সহজভাবে নেবে না কখনোই। যতই সে বলুক এই সম্পর্কটাতে তুলি বা তার সংসারে ক্ষতি হবে তেমন কোনো আশঙ্কাই নেই, তবু তুলি মানবে না, সে জানে। তুলকালাম করে ফেলবে তুলি। কে-ই বা মানে? বরের মনের মধ্যে অন্য কারও জন্য ভালোবাসা টলটল করছে, শুনলে কে-ই বা মেনে নেয়! যতই তাতে সংসার ভাঙার ভয় না থাক! সে নিজেই কি মানতো, যদি একই ব্যাপার তুলির ক্ষেত্রেও ঘটত? না, কখনোই না। কাজেই তুলিকে বলা যাবে না কিছুতেই। কিন্তু মন তো তেমন কিছু নয়, যাতে বাঁধ দেওয়া যাবে! তার মনে ছায়া পড়ে গেছে তিতলির, কী করে সে ছায়া সরাবে! কদিন থেকে অনেক ভেবেছে, অনেক যুদ্ধ করছে নিজের সঙ্গেই। এমন তো নয় যে তিতলির ছায়া পড়েছে বলে তুলি ম্লান হয়ে গেছে তার কাছে! না, একদম নয়। তুলি তার কাছে ততটাই গুরুত্বপূর্ণ, অম্লান, যেমনটা ছিল এতদিনও। মানুষের মন মূলত এক বিশাল আকাশ। একজনকে ভালোবাসলে তাতে অন্যের ভালোবাসায় কমতি পড়ে না একফোঁটাও! বিষয়টা কদিন থেকে মর্মে মর্মে উপলব্ধি করছে সে। রবীন্দ্রনাথের শেষের কবিতার সেই বিখ্যাত উক্তির মর্মও বুঝেছে অবশেষে। তুলি তার গন্তব্য। তিতলি খোলা আকাশ। তিতলির কাছে সে-ও তাই-ই। এই ভালোবাসায় জাগতিক কোনো হিসাব-নিকাশ নেই। দেনা-পাওনাও নেই। শরীর? এখন পর্যন্ত নেই। শরীরী বোধ আছে। কারণ তারা কেউই অতিমানব নয়। এবং বোধ যেহেতু আছে, ভালোবাসাও, যদি সেটা ঘটেই কখনো তাতে অন্যায় কিছু নেই, তিতলি বা দীপন কারও কাছেই। যদিও তারা দুজনেই ব্যাপারটাকে এড়িয়ে গেছে বরাবরই। কিন্তু তুলিকে এসব বলা যায় না। তুলির মুখের দিকে তাকিয়ে তাই ফ্যাকাসে, ম্লান একটু হাসে দীপন। তারপর উড়িয়ে দেওয়ার মতো গলায় বলে, কী হবে আবার? অদ্ভুত তো!

কিছু একটা হয়েছে। আমি জানি। লুকিও না, প্লিজ বলো!

আরে! মুশকিল তো! কিছুই হয়নি! কী হবে!

তাহলে কী নিয়ে এত চিন্তিত তুমি? কেন এত দেরি করে ফিরছ আজকাল?

আমি কি তোমার মতো সরকারি চাকরি করি খুকি? প্রাইভেট জব বোঝো? আছ তো আরামে, টের পাও না! প্রাইভেট জব করি! বিশ্রী রকম কাজের চাপ যাচ্ছে অফিসে। ইচ্ছে করে কি আর দেরি করে ফিরছি! এই বালের কাজের চাপে রুমকীটার সঙ্গে আজকাল ঠিকমতো দেখা হচ্ছে না, তোমাকে আদর করা হচ্ছে না!—বলেই ড্রাইভারের চোখ বাঁচিয়ে তুলিকে জড়িয়ে ধরে চকাস করে একটা চুমু খায় দীপন।

তুলি সরে বসে। ড্রাইভারের দিকে চোখ রেখে ভ্রূ কুঁচকে বলে, অসভ্য!

দীপন হাসে। তারপর দুঃখিত মুখে তুলির দিকে তাকিয়ে বলে, এই শোনো তো! অসভ্যটাকে সভ্য করার জন্য একটু সাজেশান দাও দেখি!

কিসের সাজেশান?

দেখো তো, কাজের এত চাপ পড়েছে কদিন থেকে, আমার কোনো প্রেমিকার সঙ্গেই তো যোগাযোগের সময় পাচ্ছি না! কী করা যায় বলো তো? তুমি একটু দেখবে ব্যাপারটা? নাম্বারগুলো দেই? তুমি ফোন করে একটু বলে দাও যেন রাগ টাগ না করে, আমি কাজগুলো একটু গুছিয়ে নিয়েই ফোন দেব সবাইকে! কী, বলবে?

এ আর এমন কী! তুমি শুধু নাম্বারগুলো দাও! বাকিটা আমি সামলে নেব!

বলছ? দেব? নাহ্! থাক! তোমাকে বাপু বিশ্বাস নেই! শেষে কী বলতে কী বলবে! মাঝখান থেকে আমার প্রেমগুলো সব কেচে যাবে! থাক বাপু! ঝামেলা বাড়িয়ে কাজ নেই!

ফাজলামি ছাড়া থাকতেই পারো না, না?

হো হো হাসে দীপন। মেঘ সরে যায় তুলির মন থেকে। দীপনেরও হালকা লাগে খুব। কদিন থেকে আসলেই খুব চাপ যাচ্ছে কাজের। পরিবারকে ঠিকমতো সময় দিতে পারছে না। নিজের কথা ভাবার তো সময়ই নেই একদম। রতনের ঘরে পর্যন্ত যাওয়া হচ্ছে না কতদিন হলো। সে যখন বের হয় রতন ঘুমোয়, যখন বাসায় ঢোকে তখনো ঘুমোয়। ব্যাটে-বলে মিলছে না একদম। তখনই মনে পড়ল, তিতলিটার সঙ্গেও কথা বলা হয় না অনেকদিন। সেই যে বেচারার নাম্বারটা ব্লক করে রেখেছিল, আনব্লক করা হয়নি আর। ফোনও দেওয়া হয়ে ওঠেনি। বেচারা কী করছে এতদিন কে জানে! ভাবতেই তিতলির মুখটা আবার ভেসে ওঠে চোখে। বুকের ভেতরটা কেমন টলটল করে ওঠে। ভালোবাসা। তিতলির আকণ্ঠ তৃষ্ণার আরাধ্য জল। বেচারা তিতলি খবরটা জানে না। তার ধারণা দীপনের কাছে একবিন্দু মূল্য নেই তার, দীপন তাকে ভালোবাসে না মোটেই। ম্লান একটু হাসে দীপন। থাক। কিছু কথা গোপনই থাক। কিছু রহস্য থাকে বলেই জীবন সুন্দর। কিছু আড়াল থাকে বলেই জীবন উপভোগ্য। তুলির অফিসের সামনে গাড়ি দাঁড়াতেই নেমে পড়ে তুলি। দীপনকে বিদায় জানিয়ে সে এগিয়ে যায় অফিসের দিকে। চোখ বুঁজে সিটে গা এলিয়ে দেয় দীপন। গাড়িতে মৃদুস্বরে নজরুলের গান বাজছে। আমার আপনার চেয়ে আপন যে জন…।

মার মুখটা মনে পড়ে। মার প্রিয় ছিল গানটা। প্রায়ই গুনগুন করতেন নিজের মনে। গলাটা ভারি মিষ্টি ছিল খুশবুর। মাকে ভেবে একটু মন খারাপ লাগে হঠাৎ। তারপর ভাবে, তিতলিকে সময় করে ফোন দিতে হবে আজ একবার। বেচারাকে অনেকদিন কষ্টে রাখা হয়েছে। পাগলিটা কী করছে, কী ভাবছে কে জানে! তিতলির মুখটা চোখের সামনে দোলে। অভিমানে টইটুম্বুর।

চলবে…

ঝিঁঝিলাগা দিনগুলো-১৫॥ শিল্পী নাজনীন

মন্তব্য

চিন্তাসূত্রে প্রকাশিত কোনও লেখা পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ।


কোন মন্তব্য নাই.

লেখাটি সম্পর্কে আপনার মন্তব্য লিখুন


webcams Etudiantes Live Jasmin Forester Theme