নজরুল ও লোকায়ত চেতনা ॥ তপন বাগচী | চিন্তাসূত্র
৬ ফাল্গুন, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ | ১৮ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ | রাত ৪:১৫

নজরুল ও লোকায়ত চেতনা ॥ তপন বাগচী

আনুষ্ঠানিক ঘোষণার তোয়াক্কা না করে যে কবি জাতীয় কবির স্বীকৃতি অর্জন করেন, তাঁর সৃষ্টিতে লোকায়ত চেতনার স্বাভাবিক প্রবাহ বজায় থাকার কথা।  আমরা জানি যে, জাতীয় কবির স্বীকৃতি পেতে সরকারি ঘোষণা পেতে হয়। কিন্তু বিশ্বে কাজী নজরুল ইসলামই, বিরল ব্যতিক্রম, জাতীয় কবি হতে তাঁর কোনো সরকারি ঘোষণা পেতে হয়নি। দেশের মানুষই তাঁর এই পদের অধিষ্ঠান নিশ্চিত করেছে। নজরুলের সৃষ্টি যে বাঙালির আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতীক হয়ে উঠেছে, এই গণস্বীকৃতিই তাঁর প্রমাণ। নজরুল বাংলাদেশের জাতীয় কবি এবং বাংলা ভাষার বিদ্রোহী কবি। তিনি গণকবি, তবে লোককবি নন। লোককবি মাত্রই লোকায়ত চেতনার ধারক হন। নজরুল সেই গণকবি, যাঁর কবিতায় তথা সৃষ্টিতে লোকায়ত চেতনার ধারা কিংবা লোকজ উপাদান-উপকরণ আবিষ্কার করা যায়। কিন্তু কোনো অর্থেই নজরুল পুরোপুরি লোকায়ত হয়ে ওঠেননি।

নজরুলকে ‘লোকায়ত’ বিশেষণে ভূষিত করলে, তাঁকে খ-িত করা হয়ে বলে আমার আপাত বিবেচনা। বরং লোকায়ত চেতনার সঙ্গে নজরুলের আত্মীকরণ কিংবা নজরুল-সাহিত্যে লোকঐতিহ্যের প্রয়োগ-সাফল্য বিবেচনা করে তাঁর লোকসম্পৃক্তি অনুধাবন করাই হোক আপাত অন্বিষ্ট। কবি কাজী নজরুল ইসলামের জীবনকাল মোটামুটি দীর্ঘ হলেও সৃষ্টিকাল বেশি দীর্ঘ নয়। সুস্থাবস্থায় তাঁর মাত্র ৫০টি গ্রন্থ প্রকাশ পেয়েছে। এর মধ্যে কাব্য ১৭, অনুবাদকাব্য ২, সংগীতগ্রন্থ ১৫, প্রবন্ধগ্রন্থ ৪, উপন্যাস ৩, গল্পগ্রন্থ ৩, নাটক ৩, পাঠ্যপুস্তক ১, কিশোরগ্রন্থ ২টি। ১৯৪২ সালে অসুস্থ হওয়ার পর তাঁর ১১টি গ্রন্থ প্রকাশ পায়। এগুলো হলো, কাব্য ‘নতুন চাঁদ’ (১৯৪৫), ‘মরুভাস্কর’ (১৯৫০), ‘শেষ সওগাত’ (১৯৫৮), ‘ঝড়’ (১৯৬০), কাব্যানুবাদ ‘রুবাইয়াৎ-ই-ওমর খৈয়াম’ (১৯৫৯), সংগীতগ্রন্থ ‘রাঙাজবা’ (১৯৬৬), ‘বুলবুল’ ২য় খ- (১৯৫২), ‘দেবীস্তুতি’ (১৩৭৫), ‘গীতিমাল্য’ (১৯৬৯), প্রবন্ধগ্রন্থ ‘ধূমকেতু’ (১৯৬১) এবং কিশোরনাট্য ‘জাগো সুন্দর চিরকিশোর’ (১৯৯২)। এ ছাড়াও দৈনিক ‘নবযুগ’ (১৯২১), অর্ধ-সাপ্তাহিক ‘ধূমকেতু’ (১৯২২), সাপ্তাহিক ‘লাঙল’ (১৯২৫), সাপ্তাহিক ‘গণবাণী’ (১৯২৬) এবং ‘নবরূপে’ প্রকাশিত দৈনিক ‘নবযুগ’ (১৯৪১) পত্রিকা প্রকাশক ও সম্পাদক ছিলেন নজরুল। ১৯২০ সালের নবযুগে বিপবী সাংবাদিকতার সূচনা হয়।

আরও পড়ুন: পিয়ানো ও অন্যান্য ॥ তুষার কবির

‘ধূমকেতুতে’ মাতৃভূমির সর্বাত্মক স্বাধীনতার দাবি নিয়ে লেখা প্রকাশ করেন। এজন্য কবি জেলও খাটেন। ১৯২৫ সালে বঙ্গীয় কৃষক-শ্রমিক দলের মুখপত্র হিসেবে সাপ্তাহিক লাঙল পত্রিকা প্রকাশিত হয়। এর মাসিক সওগাত পত্রিকায় চাকরিতে যোগ দিলেন। কর্মজীবনের শেষ পর্যায়ে, ১৯৪১ সালে প্রকাশিত নবপর্যায়ের দৈনিক নবযুগ পত্রিকায় বাঙালির পুনর্জাগরণের বাণী প্রচার করেন। পেশা হিসেবে নজরুলের যেটুকু গ্রহণ, তা সাংবাদিকতা ও গ্রামোফোন কোম্পানি-কেন্দ্রিক। সাধারণ অর্থে বললে গণমাধ্যমকেই তিনি পেশার ক্ষেত্র হিসেবে বেছে নেন। এই সুযোগে বলে রাখি, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়কে সাংস্কৃতিক বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে পরিণত করার অভিপ্রায় থাকলেও অজ্হাত কোনো কারণে এখানে মিডিয়া স্টাডিজ বিভাগ খোলা হয়নি। আশা করি নজরুলচর্চার অংশ হিসেবে এই বিশ্ববিদ্যালয় মিডিয়া স্টাডিজ বিভাগ খোলা হবে। নজরুলের সাহিত্য ও সংস্কৃতিচর্চার হাতেখড়ি হয়েছিল যুগপৎ। লেটোগান রচনা ও পরিবেশনা ছিল তাঁর শুরুপর্বের সাহিত্য-সংস্কৃতির নিদর্শন। জন্ম-অঞ্চল বর্ধমান জেলার আঞ্চলিক এই লোকসংগীতধারা সঙ্গে তাঁর সম্পৃক্তি ঘটে কাঁচা বয়সেই। লোকসংস্কৃতির এই সতেজ ধারায় তাঁর সৃজনমানস গড়ে ওঠে বলে পরবর্তী পরিণত বয়সেও এর ছাপ ম্লান হয়ে যায়নি। লেটোগান রচনা করতে গিয়েই গ্রামীণ সরল সাধারণ মানুষের লোকজ চিন্তাধারাকে আয়ত্ত করেন। কলকাতা কিংবা ঢাকা-কুমিলায় বিচরণ করলেও জনজীবনের সঙ্গে তাঁর সম্পর্কের নড়চড় ঘটেনি একচুলও। স্বসম্পাদিত ‘দৈনিক নবযুগ’ পত্রিকায় (২ জুন ১৯৪২) ‘আমার সুন্দর’ নিবন্ধে তাই তাঁর আত্মমূল্যায়ন—

‘আট বছর দরে বাংলাদেশের প্রায় প্রতি জেলায়, প্রতি মহকুমায়, ছোট-বড় গ্রামে ভ্রমণ করে দেশের স্বাধীনতা জন্য গান গেয়ে, কখনো কখনো বক্তৃতা দিয়ে বেড়াতাম। এই প্রথম আমার মাতৃভূমি বাংলাদেশকে ভালবাসলাম। মনে হলো, এই আমার মা। তাঁর শ্যাম-স্নিগ্ধ মমতায়, তাঁর গভীর স্নেহরসে, আমার দেহ-মন-প্রাণ শ্রান্ত-উদার আনন্দ-ছন্দে ছন্দায়িত হয়ে উঠল। আমার অন্তরের সুন্দরের এই অপরূপ প্রকাশকে এই দেখলাম প্রকাশ-সুন্দররূপে।’

আরও পড়ুন: একটি হলুদ চিরকুটের গল্প॥ শারমিন রহমান

গ্রামীণ চিরায়ত রূপের প্রকাশ করতেই তাঁর যত শিল্পের বন্দনা। এই চেতনা লোকজ, তবে লোকায়ত নয়। লোকায়ত চেতনার সঙ্গে লোকজ চেতনার যেমন সম্পর্ক আছে, তেমনি ফারাকও আছে, তা মানতে বোধহয় দ্বিধা ধাকার কথা নয়। লোকায়ত চেতনার সঙ্গে আধ্যাত্মিকতার একটা যোগ আছে। ধর্ম-সম্প্রদায় নির্বিশেষে একটি উদার মানবতাবাদী দর্শনের নাম লোকায়ত দর্শন। এই জাতি আবহমানকাল ধরে এই দর্শন লালন করে থাকে। একসময় এটি আধুনিক জীবনদর্শন থেকে স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য অর্জন করে। এই লোকায়ত দর্শনের আধুনিক প্রকাশ ঘটেছে নজরুলের সাহিত্যে। তবে এ নিয়ে তিনি স্বভাবসুলভ ভঙ্গিতে শেষ ঝাড়তেও ভুল করেননি। ‘যুগবাণী’তে তিনি বলেছেন, ‘বোঝার ওপর শাকের আঁটির মতো আমরা নাকি আবার জন্ম হইতেই দার্শনিক!’। লোকায়ত চেতনার ধারায় সংগীতের মাধ্যমেই চলে আধ্যাত্ম সাধনা। বাউলধর্মে বিশ্বাসীরা সংগীতের মাধ্যমেই সাধন-ভজন করে। ২ তাঁদের সংগীতে ফুটে ওঠে লোকায়ত সুর। নজরুলকেও দেখা যায় বাউল আঙ্গিক ছাড়াও জারি-সারি-ভাটিয়ালী তথা লোকজ সুরের গান রচনা করতে। ভাটিয়ালী সুরে তাঁর বিখ্যাত গান—

পদ্মার ঢেউ রে
ও মোর শূন্য হৃদয়পদ্ম নিয়ে যা রে’
এই পদ্মে ছিল রে যার রাঙ্গা পা
আমি হারায়েছি তারে
মোর পরানবধূ নাই
পদ্মে তাই মধু নাই নাইরে॥

কিংবা

এ কূল ভাঙে, ও কূল গড়ে-
এই তো নদীর খেলা’
সকাল বেলার আমির, রে ভাই
(ও ভাই) ফকির, সন্ধ্যাবেলা।

এ রকম আরও অনেক গানের কথা আমরা জানি। আমরা দেখেছি ভারতীয় পুরাণের ব্যবহারেও নজরুলের গান সমৃদ্ধ হয়েছে। তাঁর রচিত শ্যামাসংগীত বাঙালির সাধনসংগীতের ধারায় উলেখযোগ্য সংযোজন। মুসলিম পরিবারে জন্ম নিয়ে সনাতন ধর্মীয় দেবীর উদ্দেশ্যে সাধনসংগীত রচনার মাধ্যমে নজরুল যে কতটা অসাম্প্রদায়িক ছিলেন, তার প্রমাণ পাওয়া যায়। অসাম্প্রদায়িক চেতনার এই তুঙ্গীয় প্রকাশের পেছনে লোকায়ত চেতনাই কার্যকর ছিল বলে আমাদের বিশ্বাস। নজরুল আধুনিক গানের চর্চা করলেও শাস্ত্রীয় সংগীত এবং লোকসংগীতের মিশেলে স্বকীয় সংগীত ধারার জন্ম হয়েছে, যা আমাদের গৌরবের সম্পদ নজরুলসংগীত। তাঁর লোকসুরে সংগীত রচনার ঘটনা আমরা জানি ভাওয়াইয়া গানের সম্রাট আব্বাসউদ্দীন আহমেদের স্মৃতিকথায়। আব্বাসউদ্দীনের গাওয়া একটি ভাওয়াইয়া গানের কথা এখানে উল্লেখ করা যায়—

নদীর নাম সই কচুয়া
মাছ মারে মাছুয়া
মুই নারী দিচোং ছেকাপোড়া।

আব্বাসউদ্দীনের এই গান শুনে শুনে তিনি লিখে ফেলেন তাঁর বিখ্যাত গান—

নদীর নাম সই অঞ্জনা
নাচে তীরে খঞ্জনা
পাখী সে নয়, নাচে কালো আঁখি
আমি যাব না আর অঞ্জনাতে
জল নিতে সখি লো
ঐ আঁখি কিচু রাখিবে না বাকী।

লোকসুরকে আত্মীকৃত করে এভাবে রচিত হয়েছে নজরুলসংগীত। নজরুলের ‘কুচবরণ কন্যা রে তার মেঘবরণ কেশ’ কিংবা ‘পদ্মাদিঘির ধারে ধারে’ আব্বাসউদ্দীন তাঁর কণ্ঠে জনপ্রিয় করেছেন। উত্তরবঙ্গের জনপ্রিয় লোকসংগীত ভাওয়াইয়া রচনা ছাড়াও নজরুল ঝুমুর আঙ্গিকেও গান রচনা করেছেন। তাঁর রচিত কয়েকটি ঝুমুর গানের তালিকা দেয়া যায়—

১. এই রাঙ্গামাটির পথে লো মাদল বাজে
২. ঝুমুর নাচে ডুমুর গাছে ঘুঙুর বেঁধে পায়ে লো।
৩. ও ঝুমরো তীর ধনুক নিয়ে বল না কোথায় যাস?
৪. কে দিলে খোঁপাতে ধুতুরা ফুল গো
৫. ও তুই যাস নে রাই কিশোরী কদমতলাতে
৬. চোখ গেল চোখ গেল কেন ডাকিস রে চোখ গেল পাখী
৭. কালো পাহাড় কালো করে কে ও কে কালো শশী
৮. তেপান্তরের মাঠে বঁধু হে একা বসে তাকি
৯. হলুদ গাঁদার ফুল রাঙা পলাশ ফুল

সকলেই জানে যে, ঝুমুর গানের প্রসারণ ঘটেছে রাঢ অঞ্চলে। এই অঞ্চলের জনজীবন বিশেষত সাঁওতালদের জীবনযাত্রা ও নৃত্যগীতের সঙ্গে নজরুলের পরিচিতিই এই গান লিখতে প্রেরণা যুগিয়েছে। কেবল সাঁওতালদের গান নয়, বেদেনিদের ‘ঝাপান গান’ও তিনি রচনা করেছেন। মূলত চলচ্চিত্রের জন্য রচিত হলেও লোকসুরের এই ঝাপান গান নজরুলসংগীতের বিশিষ্টতা অর্জন করেছে। ‘কলার মন্দাস বানিয়ে দাও গো শ্বশুর সওদাগর, ওই মান্দাসে চড়ে যাবে বেউলা লখিন্দর’ কিংবা ‘চিকন কালো বেদের কুমার কোন পাহাড়ে যাও’ প্রভৃতি গান নজরুলের লোকসুরের গানকে সমৃদ্ধ করেছে। আমরা যদি নজরুলের সাহিত্যে লোকজ উপাদান খুঁজতে যাই, তাহলে দেখতে পাই, প্রবাদ-প্রবচন, লৌকিক বিশ্বাস-সংস্কার লোকসুরের ব্যাপক প্রয়োগ। নজরুলের সাহিত্যে প্রবাদ প্রবচনের ব্যবহারের তালিকা রয়েছে ড. সেলিম জাহাঙ্গীরের গ্রন্থে এবং ড. ওয়াকিল আহমেদের প্রবন্ধে। প্রবাদকে তিনি সরাসরি ব্যবহার করেছেন আবার কোথাও ঈষৎ পরিবর্তন করে প্রাসঙ্গিক করে তুলেছেন। যেমন ‘মৃত্যুক্ষুধা’য় বলেছেন, ‘লতিফা হেসে বলে, আমিই ত খাল কেটে বেনোজল আর কুমির দু-ই আনছি।’ ‘খাল কেটে কুমির আনা’ প্রবাদের সঙ্গে বোনোজল আনার প্রসঙ্গ যুক্ত করে নজরুল প্রবাদটির ভিন্ন মাত্রা আরোপ করলেন। কেবল প্রবাদচ্ছলে প্রবাদ নয়, প্রবাদের নতুন মাত্রা যোগ করার কৃতিত্ব নজরুলের মতো লোকসম্পৃক্ত কবির পক্ষেই সম্ভবপর। নজরুলের ছড়ায় আমরা দেখব লোকছড়ার আঙ্গিককে পুরোপুরি অঙ্গীকার করেছেন।

ঠ্যাং চ্যাগাইয়া প্যাঁচা যায়
যাইতে যাইতে খ্যাঁচ খ্যাঁচায়
কাওয়ারা সব লইল পাছ,
প্যাঁচা যাইয়া উঠল গাছ।
প্যাঁচার ভাইশতা কোলা ব্যাং
কইল চাচা দাও মোর ঠ্যাং।
প্যাঁচা কয়, বাপ বারিত যাও,
পাছ লইছে সব হাপের ছাও।
ইঁদুর জবাই কইরা খায়
বোঁচা নাকে ফ্যাচ-ফ্যাচায়।

এইছড়ায় আমরা আঞ্চলিক উচ্চারণ শুনি। নজরুল কি আধুনিক মান শব্দে এটি লিখতে পারতেন না? অবশ্যই পারতেন। কিন্তু তিনি সেটি সঙ্গত মনে করেননি। তাঁর মধ্যে ছিল লোকজ চেতনা। তিনি চেয়েছিলেন মুখে মুখে ছড়াকাটার ভঙ্গিটি অক্ষুণ্ন রাখতে। এবং তাতে তিনি সফল হয়েছেন। ‘জিনের বাদশা’ গল্পে চান ভানু যে ছড়াটি উচ্চারণ করে—

এস কুডুম বইয়ো খাটে,
পা ধোও গ্যা নদীর ঘাটে,
পিঠ ভাঙবাম্ চেলা কাঠে।

এগুলো পড়লে মনে হবে বুঝি লোকছড়াই নজরুল তাঁর গল্পের পাত্রপাত্রীর মুখে জুড়ে দিয়েছেন। কিন্তু প্রকৃত বিচারে তা ঠিক নয়। লোকজ সংস্কৃতিকে নজরুল এমনভাবেই আত্মস্থ করেছেন যে, আধুনিক মানসতা দিয়েও তিনি যা সৃষ্টি করেছেন, তা লোকআঙ্গিকের সকল বৈশিষ্ট্যকেই ধারণ করেছে। আঙ্গিকটি গ্রহণ করেছেন লোকজ সংস্কৃতির বিশাল প্রান্তর থেকে, কিন্তু তিনি রচনা করেছেন নিজেরই অভিজ্ঞতা থেকে আহরিক লোকজীবনের আখ্যান। লোকসংস্কৃতির আত্তীকরণে নজরুলেল রচনা হয়ে উঠেছে সাধারণ মানুষের নিজস্ব সম্পদ। বিশ্বসাহিত্যের পারে অভিজ্ঞতা থাকলেও নজরুল নিজের রচনায় প্রয়োগ করেছেন বাঙালির নিজস্ব সংস্কৃতির নির্যাসকে। এখানেও নজরুলেল বিশেষত্ব এবং মহত্ত।

আরও পড়ুন: ওয়াজিব আলী মাস্টার ও একটি সুপারি গাছ ॥ ফরিদুর রেজা খান

নজরুল নিজে লেটোদলে গান গাইতেন। নিজের লেখা গান নিজেই সুর করে গাইতেন বলে ধারণা করা যায়। বাঙালির লোকগান পরিবেশনে নজরুলের এই ভূমিকা লোকগানকে সমৃদ্ধ করেছে, নজরুল নিজেও সমৃদ্ধ হয়েছেন লোকগানের ভেতরে নিজেকে যুক্ত রেখে, সেখান থেকে বাস্তব অভিজ্ঞতার রশদ সংগ্রহ করে।

মন্তব্য

চিন্তাসূত্রে প্রকাশিত কোনও লেখা পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ।


কোন মন্তব্য নাই.

লেখাটি সম্পর্কে আপনার মন্তব্য লিখুন