কবিতার ডিসেকশন: নির্মাণ-৬ (খ)॥ শাপলা সপর্যিতা | চিন্তাসূত্র
৭ অগ্রহায়ণ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ | ২১ নভেম্বর, ২০১৮ | দুপুর ১:৫৯

কবিতার ডিসেকশন: নির্মাণ-৬ (খ)॥ শাপলা সপর্যিতা

॥ পর্ব-৬ (খ)॥
জতুগৃহে পঞ্চপাণ্ডবসহ কুন্তীকে পুড়িয়ে মারার চেষ্টা করেন ধৃতরাষ্ট্র আর তার পুত্র দুর্যোধন। তবে, এই ষড়যন্ত্র বিফলে গেলে পঞ্চপাণ্ডবসহ কুন্তীকে বনবাসে পাঠানো হয়। যেখানে ভিক্ষা করে তাদের অতিবাহিত হয় তের বছর। এদিকে কৌরবের সবচেয়ে বড় বীর কর্ণ। পাণ্ডবদের সঙ্গে যুদ্ধজয়ের জন্য ধৃতরাষ্ট্র, দু্র্যোধন, শনি—সবাই তারই ওপর আস্থা রাখেন। কর্ণ দানশীল। উপকারীর প্রতি কৃতজ্ঞচিত্ত। রাধাকে মাতৃরূপে পূজারি চিরকাল। রাধাকেই পূর্ণ সম্মানে তিনি মা হিসেবে শ্রদ্ধা করেন। তিনি রাধার প্রতি পৃথিবীর যেকোনো সন্তানের মতোই কৃতজ্ঞ। তিনি সূর্যের উপাসক। তিনি প্রার্থনার সময় কাউকে খালি হাতে ফেরান না।

অর্জুনের সঙ্গে হস্তিনায় যখন নিজস্ব যুদ্ধবিদ্যা আর অস্ত্রকৌশল দেখাতে কর্ণও দাঁড়িয়েছিলেন, তখনো তাকে অপমান করা হয়েছিল এই বলে যে, ছোট জাতের কেউ অর্জুনের সঙ্গে যুদ্ধে অংশ গ্রহণ করতে পারবে না। মাথা নিচু করে সমবেত জনতার সামনে দাঁড়িয়েছিলেন তিনি। তখন দুর্যোধন অভিষেকের মাধ্যমে কর্ণকে অভিষিক্ত করে নেন। সেই সম্মানের প্রতিদান দিতে কর্ণ দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। তবু কর্ণের ভেতরে জ্বালা প্রশমিত হয় না। পরবর্তী সময়ে পাঞ্চাল রাজার কন্যা কৃষ্ণাকেও অর্জুন অর্জন করে নেন। এটাও কর্ণের নিদারুণ জ্বালার কারণ। আর সবকিছুর পেছনে সবচেয়ে বেশি কাজ করে মাতা কুন্তীর প্রতি তার নিদারুণ অভিমান। সবকিছু মিলেমিশে একাকার হয়ে কৌরব-পাণ্ডব যুদ্ধকে অবশ্যম্ভাবী করে তোলে। বিদুর আর শ্রীকৃষ্ণ সবরকম চেষ্টা করেছেন যেকোনো উপায়ে কর্ণকে পাণ্ডবদের মাঝে ফিরিয়ে আনার। কুন্তীও কোনো অবস্থায়ই চাননি ভাইয়ে-ভাইয়ে রক্তপাত হোক। কিন্তু দুর্যোধনের প্রতি কর্ণের কৃতজ্ঞতা অপার। কোনো প্রলোভনই তাকে টলাতে পারেনি। তাই কর্ণ অনড়। দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। সত্যিকার অর্থে নিজের জীবন দিয়ে তিনি এই কৃতজ্ঞতার ঋণ স্বীকার করে গেছেন। রাধা অধিরথের প্রতিও কৃতজ্ঞ কর্ণ। ধৃতরাষ্ট্রের প্রতিও। কিন্তু কর্ণ শেষ মুহূর্তে মাতা কুন্তীকেও ফেরাতে পারেন না। কুন্তীর সব প্রলোভন জ্যেষ্ঠ পাণ্ডবের সম্মান, রাজমুকুট, পরম শান্তিপূর্ণ জীবন—সব পায়ে ঠেলে কৌরবেরই রয়ে যান তিনি। শুধু কুন্তীকে কথা দেন, অর্জুন ছাড়া তার আর কোনো সন্তানকে তিনি যুদ্ধক্ষেত্রে হত্যা করবেন না। তার এই প্রতিজ্ঞাও কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধে হেরে যেতে সাহা্য্য করেছিল। যাই হোক, যখন ভাইয়ে-ভাইয়ে যুদ্ধ অবশ্যম্ভাবী, তখন শুরু হয় দেবতা আর রাজমাতার কর্ণকে শক্তিহীন করার হীনচেষ্টা। দেবরাজ ইন্দ্র ব্রাহ্মণের বেশে এসে কর্ণের দুটি প্রধান শক্তি কবজ আর কুণ্ডল ভিক্ষা চেয়ে নেন—যখন তিনি প্রার্থনারত। প্রার্থনারত অবস্থায় কর্ণ ভিখারিকে ফিরিয়ে দেন না—এটা সবাই জানে। অন্যদিকে কৃষ্ণ তার সব রকমের ব্রহ্মাস্ত্র কর্ণের বিরুদ্ধে যুদ্ধে ব্যবহারে প্রস্তুত।

এক অর্থে বলা যায় মহাভারতও এটা স্বীকার করবে, যুদ্ধে পরাজিত কর্ণ আসলেই বীর। যিনি শেষ মুহূর্তেও যুদ্ধ ক্ষেত্রে পিছপা হননি। অকৃতজ্ঞ হননি। কুন্তীকে দেয়া কথা থেকে সরে দাঁড়াননি।অর্জুন যুদ্ধ জয় করেছেন কৃষ্ণের মায়া ছলনা ব্রহ্মাস্ত্র ও দিব্যাস্ত্রের সাহায্যে। কর্ণ আর অর্জুনের যখন ভীষণ রকম যুদ্ধ চলছে, তখন কর্ণের রথের চাকা মাটিতে দাবিয়ে দিলেন কৃষ্ণ। কর্ণের ব্রহ্মাস্ত্র আর কাজ করলো না। যদিও তিনি অর্জুনকে অনুরোধ করেছিলেন যেন অস্ত্রহীন অবস্থায় তাকে আঘাত না করে। এটা ধর্ম নয়, অধর্ম। কিন্তু কৃষ্ণ তাকে স্মরণ করান—এতদিন ধরে তাকে ভাইয়ে-ভাইয়ে যুদ্ধ না করে পাণ্ডবদের মাঝে ফিরে আসার সব চেষ্টাকেই কর্ণ প্রতিহত করেছেন, ধৃতরাষ্ট্র আর দুর্যোধনদের প্রতি কৃতজ্ঞতা বশে। এমনকি পিতা সূর্যদেবও কুন্তীর উপস্থিতিতেই ভাগীরথীর তীরে বলেছিলেন পাণ্ডবের পক্ষে চলে যেতে। কর্ণ পিতার কথাও শোনেননি। সেটা কি অধর্ম নয়? তবে আজ কেন অর্জুনকে ধর্মের দোহাই দিচ্ছেন কর্ণ? তখনই অর্জুন গাণ্ডীবের দিব্যাস্ত্র প্রয়োগ করে কর্ণের মাথা কেটে নেন।

এবার আসি ‘কর্ণকুন্তী সংবাদ’ কবিতায় কুন্তী আর কর্ণের চরিত্রকে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ঠিক কিভাবে বিন্যস্ত করেছেন। সামগ্রিক হিংসা অপমান অস্থির প্রতিশোধ পরায়ণ আর জন্মদাত্রী রাজমাতা কুন্তীর প্রতি অভিমানে ক্ষুব্ধ কর্ণকে তুলে এনেছেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর আসাধারণ মানবিক আর মাতৃভক্ত একজন নিদারুণ বীর হিসেবে। মহাভারতে দেখা যায় কুন্তীর সন্তান হিসেবে নিজেকে জানা হয়ে যায় কর্ণের আগেই। কিন্তু রবীন্দ্রনাথের কর্ণ প্রথম এখানেই জানতে পান, তার জন্মের অতীত—ভাগীরথীর তীরে কুরুপাণ্ডবের যুদ্ধের আগে আগে অর্থাৎ অর্জুন আর কর্ণের সরাসরি সম্মুখসমরের ঠিক আগের সন্ধ্যায়। পরদিন সকালে অর্জুন আর কর্ণের সম্মুখসমর। যুগ যুগ ধরে একই গর্ভের ছয় সন্তানের মাঝে যোজন যোজন দূরত্ব তৈরি করে রেখেছেন কুন্তী নিজেই। শেষ মুহূর্তের অপেক্ষা। পাণ্ডবেরা কোণঠাসা। কৌরবের যুদ্ধজয় কেবল সময়ের অপেক্ষা। আগামীকাল ভোরে সূর্য ওঠার সঙ্গে সঙ্গে শুরু হবে মহাযুদ্ধ। তারই প্রস্তুতি নিচ্ছেন বীর কর্ণ ভাগীরথী নদীর তীরে বসে। ঠিক এই সময়টিকেই বেছে নিয়েছেন রবীন্দ্রনাথ ‘কর্ণকুন্তী সংবাদ’ কবিতাটির প্রেক্ষাপট হিসেবে। কর্ণ জানেন না তার জন্মদাত্রী কুন্তীকে। জন্মমাত্র ভাসিয়ে দেওয়া হয়েছিল লোকলজ্জার ভয়ে। ভাসতে ভাসতে এসে পড়েছিলেন দরিদ্র সন্তানহীন রাধার কোলে। রাধারই আদরে আহ্লাদে বড় হয়েছেন, সূতপুত্রই তার পরিচয়। তবু কোথাও যেন এক দুর্বার হাহাকার। কে যেন কেবলই ডাকে অলক্ষ্যে অজানায় মহাবীর কর্ণকে। কে যেন ছায়ার মতো আড়ালে দেখে রাখে তারে। কপালে রাখে হাত নিবিড় অন্ধকারে অস্থির সময়ে। সেই ছায়া মানবীর সঙ্গে প্রথম দেখার ক্ষণ প্রথম দেখার স্থান নির্ধারণ করলেন কবি সূর্যডোবার বেলা ভাগীরথী নদীর তীরে। মাতা-পুত্রের প্রথম সাক্ষাৎ এখানেই।
আমি ভীষণভাবে নার্ভাস। কেমন হবে আমার প্রথম বাক্যের প্রক্ষেপণ। প্রাজ্ঞ, জীবনযুদ্ধে ভেঙে পড়া নয় বরং ক্ষত্রিয় রক্ত আর পাঁচপুত্রকে সঙ্গে ধারণ করে সব ধরনের প্রতিকূল অবস্থায় দাঁড়িয়ে থাকা রাজমাতা নামে এক মহীরূহের ভাষা ঠিক কেমন হওয়া উচিত, ২২ বছর বয়সের আমি, ভেবে ভেবে দিশেহারা। আদৌ আমার পক্ষে সম্ভব? মাহিদুল ইসলাম বললেন, তোমার হাস্কি ভয়েজ, ভয়েজের ওপর কন্ট্রোল, আর কবিতার গভীরতা বুঝতে পারা, তোমার বাংলা সাহিত্যে পড়াশোনা, শুদ্ধ আর স্পষ্ট শব্দ উচ্চারণ—সবই কুন্তীকে সম্ভব করে তুলবে।

বাংলাদেশ কুয়েত মৈত্রী হলের ৫০৯ নম্বরের রুমমেটশূন্য ঘরে আয়নার সামনে দাঁড়াই আমি। প্রথম শব্দ উচ্চারণ করি—‘বৎস…।’ নিচু স্কেলে, প্রজেকশন বাড়াই, কমাই। সেই গাম্ভীর্য খুঁজে পাই না নিজের কণ্ঠে। আবার ‍উচ্চারণ করি–‘বৎস…বৎস, তোর জীবনের প্রথম প্রভাতে/পরিচয় করায়েছি তোরে বিশ্ব-সাথে,/সেই আমি আসিয়াছি ছাড়ি সর্ব লাজ/তোরে দিতে আপনার পরিচয় আজ।’ নিজের কাছেই কেমন খেলো লাগে সব। মেলোড্রামা হয়ে পড়ছেনা তো?

এবার মধ্যম স্কেল। গলায় ভারীক্কি ভাব আনার শত চেষ্টা। প্রজেকশন বেশি। আরও একটু বেশি। যদিও মাতাপুত্রের একান্তের কথা। খুব কাছে দুজনে। খুব ভার আবহে, খুব ভার আবেগে, ভীষন কন্ট্রোল্ড হতে হবে থ্রোইং। ততক্ষণে কুন্তীর যাবতীয় ডায়লগ মুখস্ত হয়ে গেছে আমার। আমি ধীরোদাত্ত কণ্ঠে উচ্চারণ করি প্রথম সন্তানের সামনে দীর্ঘ দীর্ঘ কাল পর দাঁড়ানো মাতার প্রথম শব্দ। তারপর নিজের কাছে কিছুটা হলেও আরাম লাগতে থাকে। এবং পরদিন বিকেলে। কোনো কারণে সেদিন রুম পাওয়া যাচ্ছিল না দোতলায়। আমি আর মাহি ভাই বসি টিএসসিতে, মাঠের পাশের লনে। চারপাশে ছাত্রছাত্রীদের কোলাহলমুখর বিকেল গড়িয়ে তখন সন্ধ্যা লাগো লাগো। মাহি ভাই তখন কর্ণ। ‍টিএসসির সবুজ মাঠ ভাগীরথী নদী। টিএসসির লন নদীর তীর। কে জানে এই সব ইতিহাস! কত বেদনার কত পথ পার হলে পর একটি কবিতা আবৃত্তি করার যোগ্য হয়ে ওঠে। কে লিখেছে কবে কবিতাকে আবৃত্তির জন্য নির্মাণের পেছনের এই ব্যাপক পরিশ্রম সূক্ষ্ণ গভীরতা, ভালোবাসা অনুধ্যাণ? আমার জানা নেই। আজ যখন লিখতে বসি এই ধ্যানের কাহন, তখন কত কী যে মনে পড়ে যায়, কবিতার পেছন পেছন গভীরে গভীরে কত যে ঘুরে ঘুরে কতই না দিনের শেষ, রাত্রি শেষ, মধ্যরাত শেষ, ভোর হয় হয়। অথচ আজ যখন শুনি, নব্য কবিরা কেবল বলেই চলেন, আবৃত্তিকাররা নাকি কবিতাকে নষ্ট করেন, তখন আমার ভীষণ করুণা হয় দুঃখ হয়। গভীরে না ঢুকতে পারলে সে কবিতা নয়, প্রাণে প্রাণে যোগ না হলে সে কবিতা নয়, তার ব্যথা আমার বুকে রিনরিনিয়ে না বাজলে সে কবিতা নয়, তার ক্ষরণ আমাকে রক্তাক্ত না করতে পারলে সে কবিতা নয়। আর গভীরে বীজ বুনতে পারলে আবৃত্তিতে কবি নিজেও মুগ্ধ এবং বিস্মিত হন।

যাক সে কথা, ধ্যানস্থ কর্ণের চোখে পড়ে এক অজানা নারীর ছায়া। ধ্যানমগ্ন মৌনতা ছেড়ে
কর্ণ-মাহিদুল ইসলাম প্রথম উচ্চারণ করেন:

পূণ্য জাহ্নবীর তীরে সন্ধ্যাসবিতার
বন্দনায় আছি রত। কর্ণ নাম যার,
অধিরথসূতপুত্র, রাধাগর্ভজাত
সেই আমি-কহো মোরে তুমি কে গো মাতঃ!

মাহিদুল ইসলামের অমন গুরুগম্ভীর কণ্ঠে সেদিন সন্ধ্যায় সত্যি সত্যি কর্ণ উঠে এসেছিলেন ভাগীরথীর তীর থেকে মহাভারতের পৃষ্ঠা ছেড়ে টিএসসির লনে, সবুজ ঘাসে। আর তার মেঘমন্দ্র শব্দ উচ্চারণে গমগম করে উঠেছিল টিএসসির মাঠ, মাঠের ঘাস, দেয়াল। তার সামনে রাজমাতা কুন্তী একেবারেই নীরব-নিশ্চুপ। ভুলে গেলাম আমি সব। কোনোভাবেই ডায়লগ আসছিল না মুখে। তারপর যথারীতি বকা-ঝাড়ি, তার গুরুসুলভ যেসব আশীর্বাদ এ যাবতকাল বয়ে এসেছি মাথায় করে, তার একটিও বাদ পড়েনি সেদিন। তিনিই প্রথম উচ্চারণ করালেন আমার কণ্ঠে রাজমাতার কণ্ঠ:

বৎস, তোর জীবনের প্রথম প্রভাতে
পরিচয় করায়েছি তোরে বিশ্ব-সাথে,
সেই আমি আসিয়াছি ছাড়ি সর্ব লাজ
তোরে দিতে আপনার পরিচয় আজ।

নানা জায়গায় নানাভাবে বিধ্বস্ত শব্দ উচ্চারণ। কণ্ঠ এই ঠিক চালে চলছে, এই আবার খুব মিস্ করছে রাজমাতার ক্যারেক্টারের ভার। এইভাবে আবার

কর্ণ:
দেবী, তব নতনেত্রকিরণসম্পাতে
চিত্ত বিগলিত মোর সূর্যকরঘাতে
শৈলতুষারের মতো। তব কণ্ঠস্বর
যেন পূর্বজন্ম হতে পশি কর্ণ পর,
জাগাইছে অপূর্ব বেদনা।। কহো মোরে,
জন্ম মোর বাঁধা আছে কী রহস্য-ডোরে
তোমার সাথে হে অপরিচিতা!’
আবার কুন্তী কর্ণ

কুন্তী: ধৈর্য ধর্
ওরে বৎস ক্ষণকাল। দেব দিবাকর
আগে যাক অস্তাচলে। সন্ধ্যার তিমির
আসুক নিবিড় হয়ে-কহি তোর, বীর
কুন্তী আমি।

কর্ণ: তুমি কুন্তী! অর্জনু জননী!

কোনোমতে প্রথম দিনের রিহার্সেলে অন্তত বিশ্বাসটুকু গভীর হলো।
চলবে…
কবিতার ডিসেকশন: নির্মাণ-৬ (ক)॥ শাপলা সপর্যিতা

মন্তব্য

চিন্তাসূত্রে প্রকাশিত কোনও লেখা পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ।