| চিন্তাসূত্র
৫ কার্তিক, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ | ২০ অক্টোবর, ২০১৮ | দুপুর ১২:২৫

নদীর যেমন কয়েক ফুট পরপর বাঁক বদল হয় না, তেমনি কবিতারও। নদীর মতো কবিতায়ও উপযুক্ত সময়ে উপযুক্ত কবির হাতের ছোঁয়ায় নতুন বাঁকের সৃষ্টি হয়। হাজার বছরের বাংলা কবিতার ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যাবে, চর্যাপদের পর থেকে দীর্ঘকাল পর এসে মাইকেল মধুসূদন দত্ত একটি বড় বাঁক, এরপর রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, তার জীবদ্দশায়ই নজরুল-জসীম-জীবনানন্দরা আলাদা আলাদা বাঁক-উপবাঁক তৈরি করেছেন। কিন্তু কালের নিরিখে, শিল্পের বিচারে হয়তো তাদের প্রত্যেকের গুরুত্ব-তাৎপর্য সমান নয়, কিন্তু তারা প্রত্যেকেই যে স্বতন্ত্র স্বরের অধিকারী, সে বিষয়ে সন্দেহ নেই।
এখন প্রশ্ন হলো, যারা বাংলা কবিতার সমালোচনা করেন, তাদের প্রায় সবাই-ই প্রথাগত সমালোচনাই করেন। কোন কবি কোন বৈশিষ্ট্যের কারণে স্বতন্ত্র, কিভাবে স্বতন্ত্র, সে বিচার তেমন করেন না। কেবলই পূর্ববর্তী সমালোচক যা বলেছেন, তার সঙ্গে মিল রেখে নিজে একটি মন্তব্য করেই দায় সারেন। তাতে না থাকে নতুন তত্ত্ব, না থাকে নতুন তথ্য। নিজস্ব ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণও দীর্ঘ করেন না তারা। যেটুকু ব্যাখ্যা করেন, তার সিংহভাগ জুড়েই থাকে পূর্বসূরির ব্যাখ্যার অনুরণন। যেন নতুন কোনো তথ্য দিলে পাপ হবে, পতিত হতে হবে নরকে।

চিন্তাসূত্রে প্রকাশিত কোনও লেখা পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ।


কোন মন্তব্য নাই.

লেখাটি সম্পর্কে আপনার মন্তব্য লিখুন