বই কেনা না-কেনা: ব্যক্তিগত পর্যবেক্ষণ ॥ মোজাম্মেল হক নিয়োগী | চিন্তাসূত্র
৬ কার্তিক, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ | ২১ অক্টোবর, ২০১৮ | রাত ৩:২৪

বই কেনা না-কেনা: ব্যক্তিগত পর্যবেক্ষণ ॥ মোজাম্মেল হক নিয়োগী

ফেব্রুয়ারি মাসব্যাপী বাংলাদেশের বইমেলা পৃথিবীর ইতিহাসে একমাত্র বইমেলা। এত দীর্ঘ সময় ধরে বইমেলার ইতিহাস আর কোনো দেশে নেই। এটি বিশ্ব ঐতিহ্যের স্বীকৃতি পেতে পারে। সে দাবিও তোলা হয়েছে। মাসব্যাপী বইমেলাটি বাংলাদেশের সংস্কৃতির অংশ, একটি মহান উৎসব। পাশাপাশি মানুষের বিপুল উৎসাহ-আনন্দের অঙ্গন ও বাঙালির প্রাণের স্পন্দনও।

এই বইমেলাকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশে লেখক-প্রকাশকের লেখালেখি ও বই প্রকাশের যে কর্মব্যস্ততা লক্ষ করা যায়, তা পৃথিবীর অন্য কোনো দেশে আছে বলে আমাদের জানা নেই। লেখকরা যদিও সারা বছর লেখেন কিন্তু বই প্রকাশের হিড়িক শুরু হয় সাধারণত নভেম্বর থেকে। এই ব্যস্ততা চলে ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি পর্যন্ত।  একে একটি বড় ধরনের বই-উৎসব হিসেবেও অভিহিত করা যায়। এই সময় প্রকাশকদের দরজায় কড়া নাড়েন নবীন-প্রবীন লেখক, প্রকাশিত হয় হাজার হাজার নতুন বই। নতুন বইয়ের মলাটের গন্ধ বাংলাবাজার, কাঁটাবন, পল্টনের বাতাসে ভাসতে থাকে। আর সেই সময়ে প্রতি বছর গড়পড়তায় চার হাজার বই প্রকাশিত হয়, যেখানে নবীন লেখকের বইয়ের সংখ্যাই অনেক বেশি বলে প্রতীয়মান হয়।

এত এত বই প্রতি বছর প্রকাশিত হলেও বিক্রির ব্যাপারে রয়েছে নানা রকম অজুহাত, অনেক হতাশা, অনেক বিষাদ। বই বিক্রি না হওয়ার অজুহাতে অনেক প্রকাশক ও লেখক হতাশার কথা বেশি শোনান। পক্ষান্তরে, কোনো কোনো প্রকাশকের একমাসের মেলার বই বিক্রি দিয়ে সারা বছর পুষিয়ে নিতে পারেন। কেন এমন হয়, একটু খতিয়ে দেখা যেতে পারে।

বইয়ের পাঠক না থাকলে বই প্রকাশ করে প্রকাশকরা ক্ষতিগ্রস্ত হন, লেখক হন হতাশ। কার্যত পাঠকহীন বই এক সময় কেজি দরে বিক্রি করা ছাড়া আর উপায় থাকে না। বই বিক্রি কেন হয় না বা বইয়ের পাঠক কেন নেই, এর কারণ কী—বিষয়গুলো বিশ্লেষণ করা দরকার। যেমন, বইমেলাকে কেন্দ্র করে কী ধরনের বই প্রকাশিত হয় এবং পাঠক কারা।

বইমেলাকে কেন্দ্র করে অধিকাংশ কবিতার বইই প্রকাশিত হয়, তারপর উপন্যাস, গল্প, প্রবন্ধ, নাটক এবং গবেষণমূলক সামান্য বই। প্রথমেই দেখতে হবে, পাঠক কারা? কারণ পাঠকের পাঠের ধরন অনুযায়ী বই বিক্রির বিষয়টি নির্ভর করে। এ কথা অনস্বীকার্য যে, মানুষের বয়স অনুযায়ী বই পড়ার অভ্যাসের পরিবর্তন হতে থাকে তাদের অভিজ্ঞতা, পারসেপশন ও প্রয়োজনের তাগিদে। যেমন, শিশু বয়সে যা পড়তে ভালো লাগে, বয়স বেড়ে গেলে তা আর ভালো লাগে না। অর্থাৎ বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ও শিক্ষাজীবনের বিভিন্ন ধাপ অতিক্রম করার মাধ্যমে পাঠকের বই পড়ার রুচির পরিবর্তন হয়ে থাকে। বয়স  ত্রিশ হওয়ার আগে অধিকাংশ মানুষ উপন্যাস, গল্প এবং রহস্যবিষয়ক সাহিত্য পড়তে পছন্দ করে। কিন্তু বয়স ত্রিশ পার হলে কর্মজীবনে প্রবেশ করার পর তাদের পাঠের অভ্যাস পরিবর্তন হয়, তারা তখন পেশাগত বিষয় এবং প্রবন্ধবিষয়ক বইপত্র পড়তে পছন্দ করে। কবিতার প্রতি অনুরাগী মানুষের সংখ্যা বর্তমানে তেমন নেই; এবং সাধারণ পাঠকরা কবিতা বোঝেন না এই ব্যাখ্যায় কবিতা না পড়ে উপন্যাস এবং গল্প পড়ার দিকে ঝুঁকেছেন। মানুষের বয়স ত্রিশ বছর পার হলে পেশাগত বিষয়ে পড়তে আরম্ভ করে কেরিয়ারের জন্য বা প্রয়োজনের জন্য। সাহিত্য পড়া তাদের পোষায় না। সাহিত্য পড়ার বয়স হলো ত্রিশ বছরের আগে (সাহিত্যপ্রেমীদের কথা বাদ দিয়ে সাধারণ মানুষের বেলায়)। বর্তমানে এই বয়সের তরুণ-তরুণীরা ইন্টারনেট, ফেসবুক ইত্যাদিতে ঝুঁকে পড়েছে। এই বিষয়গুলো মাথায় রেখে একটু হিসেব করে দেখা যেতে পারে কতজন মানুষ গল্প-উপন্যাস-কবিতার পাঠক আছেন যারা মেলা থেকে বই কিনবেন।

এবার আসা যাক আমাদের প্রকাশনা জগতে কী ধরনের বই আছে বা প্রতি বছর প্রকাশিত হয় যা মানুষ কিনবে বা পড়বে? বর্তমানে প্রায় পাঁচ শত প্রকাশক আছেন যারা সাহিত্যের বিভিন্ন শাখার বই প্রকাশ করে থাকেন। এখন প্রশ্ন আসতে পারে, বাংলাদেশে কয়জন লেখক আছেন, যাদের পাঠক চেনেন বা লেখালেখির জগতে কিছুটা জায়গা করতে পেরেছেন? পঞ্চাশ, ষাট, সত্তর, একশ—কতজন? তাদের মধ্যে কতজন পাঠকপ্রিয় লেখক আছেন? যারা বইমেলা থেকে বই কিনতে আসেন তারা স্বভাবতই চান প্রতিষ্ঠিত, পরিচিত এবং পাঠকপ্রিয় লেখকের বই কিনে পড়ার জন্য। একইসঙ্গে প্রশ্ন আসতে পারে, একজন প্রতিষ্ঠিত লেখক বছরে কয়টি বই লিখেন বা সারা জীবনে কয়টি লিখেছেন? তাদের লেখা বইগুলো ভাগ করলে পাঁচশ’ প্রকাশের মধ্যে কয়জনের ভাগে পড়বে? তাই দেখা যায় যেহেতু পরিচিত লেখকের সংখ্যা কম এবং তাদের লেখাও খুব বেশি নয়, ফলে এসব বই বিভিন্ন নামে ও আকারে কয়েকজন প্রকাশক বিভিন্ন মলাটে প্রকাশ করেন। উদাহরণস্বরূপ বলা যেতে পারে, জমির শেখ ত্রিশটি উপন্যাস লিখেছেন। এই ত্রিশটি উপন্যাস কিন্তু অনেক আগেই কোনো না কোনোভাবে অনেক পাঠকের পড়া হয়ে গেছে। এখন যদি বিশ জন প্রকাশক এই ত্রিশটি উপন্যাস বিভিন্ন মলাটে প্রকাশিত হয় (হতে পারে, নির্বাচিত উপন্যাস, শ্রেষ্ঠ উপন্যাস, মুক্তিযুদ্ধের উপন্যাস, বাছাইকরা উপন্যাস, উপন্যাস সমগ্র ইত্যাদি) তাহলে পাঠক কেন সেইসব বই কিনবেন? তাদের তো আগেই এসব বই পড়া হয়ে গেছে। এখন যারা এসব বই প্রকাশ করেছেন, সেগুলো যদি বিক্রি না হয়, তাহলে পাঠককে দোষ দিয়ে কী লাভ? পক্ষান্তরে, অনেক প্রকাশক চিরায়ত বই প্রকাশ করছেন প্রকাশনার ব্যবসাকে টিকিয়ে রাখার জন্য। বলাবাহুল্য—অনেক চিরায়ত বই নিত্যদিনের পাঠের বিষয় নয়, এগুলো মানুষ যুগ যুগ ধরে পড়ে আসছে এবং কোনো না কোনোভাবে পাঠকের পড়া হয়ে গেছে। যেমন, আমার ব্যক্তিগত লাইব্রেরিতে অনেক চিরায়ত বই আছে যেগুলো আমাদের সন্তানরা আর কিনবে না। যাদের চিরায়ত বইয়ের কোনোটি কারও পড়ার বাকি থাকলে হয়তো তাঁরা কিনে পড়েন। কিন্তু যদি দশটি প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান একই ধরনের সেইসব বই প্রকাশ করেন তাহলে দশ জায়গা থেকে কয়টি কপি বিক্রি হবে একবার ভেবে দেখা যেতে পারে। একই বই পাঠক কয়টি প্রকাশনা থেকে কিনবে অবশ্যই বিশ্লেষণ করতে হবে?

নতুন লেখকদের বই নিয়ে কথা বলা যাক। পাঠককে আকৃষ্ট করার জন্য যে ধরনের বই হওয়া দরকার, তা কি লেখা হচ্ছে? একটি সমালোচনা পড়েছিলাম কলকাতার একটি সাহিত্যসাময়িকীতে, ভারতের জনৈক লেখকের লেখা কেন আন্তর্জাতিক বাজারে সাড়া মেলেনি? সমালোচক একটি বইয়ের উদাহরণ দিয়ে স্পষ্টভাষায় বলেছেন, যে বইটি আন্তর্জাতিক বাজারে ছাড়া হয়েছিল, সেটির জন্য লেখক কোনো হোম ওয়ার্ক করেননি, যা বোঝা যায় বইটির কয়েকটি পাতা পড়লেই। এই বক্তব্য থেকে বোঝা যায়, বইয়ের নামে ও প্রচ্ছদের চমকে পাঠককে বোকা বানিয়ে আকৃষ্ট করা যায় না। পাঠকরা দেখতে চান, লেখকের কতটুকু মেধা খরচ হয়েছে, কতটুকু পরিশ্রম করেছেন? অনেক লেখক আছেন, ‘ধর তক্তা মার পেরেক’ মারার অবস্থায় বই লিখে আর প্রকাশ করার জন্য ব্যস্ত হন। প্রকাশও করেন। ফলে প্রতি বছর চার হাজারের বেশি বই ছাপা হলেও আশানুরূপ বিক্রি হয় না এবং অপবাদ দেওয়া হয় মানুষ বই কেনে না। বইমেলার বিক্রির পরিসংখ্যানে এবং আমাদের ধারণা মতে, অনেক বই বিক্রি হয়, অনেক পাঠক বই কিনেন। হয়তো ষোলো কোটি মানুষের তুলনায় তা কম। তবু বলব, এই বিক্রি একেবারে নগন্য নয়; বরং হিসাবে আসার মতো। লেখক-পাঠককে মনে রাখতে হবে যে বইটি প্রকাশিত হয়েছে সেটি অডিয়্যান্সের উপযোগী কি না, পাঠকের সে বইয়ের বার্তা পৌঁছেছে কি না। যদি বইটি বিক্রি না হয়, তাহলে বুঝতে হবে অডিয়্যান্সের উপযোগী নয় এবং পাঠকের কাছে এই বইয়ের বার্তাও পৌঁছেনি। এ দায় প্রথমে লেখকের, পরে প্রকাশকের। এক্ষেত্রে পাঠকের কোনো দায় নেই।

আমাদের এই বক্তব্যের প্রতি অনেকেই উষ্মা প্রকাশ করতে পারেন যে, যারা মেধা খরচ করে লেখেন, তাদের বই কয়টি চলে? আমরা বলব, নিজের কথা নিজে বলে বরং যাচাই করে দেখুন এবং অন্যদিকে মনে রাখতে হবে যে, দুয়েকজন পাঠকপ্রিয় লেখকের আয়নায় সবাইকে দেখার কোনো সুযোগ নেই। জন্মগতভাবেই কেউ কেউ ক্যারেশমেটিক, এটি অনিবার্য সত্য। তারা বিভিন্নভাবেই প্রমাণ করেছেন যে, তাদের লেখায় ক্যারিশমা আছে, অন্যদের মন জয় করার ক্ষমতা আছে। তাদের মেধার জন্য বিভিন্নভাবে সাফল্যের ছাপ রেখেছেন এবং তাদের আয়নায় নিজেকে দেখা বোকামি ছাড়া কিছু নয়। তারা অডিয়্যান্স বুঝেই লেখেন এবং বই সেভাবেই বিক্রি হয়। কেউ বিশটি কাব্যগ্রন্থ লিখেও একজন কবির দুটি কাব্যগ্রন্থের সমতুল্য মর্যাদা পান না, তা কেন হয়? আমরা মনে করি, লেখককে প্রমাণ করতে হবে, তিনি পরিশ্রমী, তিনি মেধাবী, তিনি একটি লেখা তৈরি করতে মেধা খরচ করেন এবং চকচকে মলাটের ভেতরে অসার কথামালা নেই। আছে প্রকৃত সাহিত্যের রস। আছে নতুনত্ব। আছে চমক। জুলেখার প্রেম আর সখিনার বিরহ ইত্যাদি লেখায় পাঠক আকৃষ্ট হবে কি না, তা গবেষণা করার প্রয়োজন আছে।

এখানে আরও একটি বিষয় প্রণিধানযোগ্য। প্রতি বছর প্রায় চার হাজার বই প্রকাশিত হওয়ার পর বড় বড় প্রকাশনাগুলোতে পাঠকপ্রিয়, খ্যাতিমান লেখকের বইসহ চার/পাঁচ শ’ শিরোনামের বই থাকে। সেখান থেকে নতুন লেখকের বইটি খুঁজে পাওয়া সত্যি কঠিন। তাই পাঠক সেইসব স্টলের সামনে গিয়ে বিভ্রান্ত হন এবং পরে পরিচিতি লেখকের বই কিনেন এবং নতুনদের বই পড়ে থাকে শত শত বইয়ের আড়ালে। আবার অনেকেই আছেন ওয়ান টাইম লেখক। তারা এক বইমেলায় বিপুল উৎসাহে বই প্রকাশ করে পরে যখন দেখেন যে, বই বিক্রি হয় না তখন আর দ্বিতীয় বই প্রকাশ করার সাহস পান না এবং প্রকাশ করেন না। মেলার আবেগে ওয়ান-টাইম লেখক না হয়ে নো-টাইম লেখক হওয়া অধিকতর শ্রেয় বলেই প্রতীয়মান হয়।

বিগত কয়েক বছরের পর্যবেক্ষণ থেকে দেখা গেছে, অনেক প্রকাশক নবীন লেখকের বই প্রকাশ করেন। দুয়েকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, নবীনরা বন্ধুবান্ধব নিয়ে আসে, বই কিনে অন্তত বিনিয়োগটা উঠে আসে। কিন্তু এটি সাহিত্যের যেমন বিকাশের উপযুক্ত পথ নয় ঠিক তেমনি প্রকশনা শিল্পেরও উপযুক্ত পথ নয়। সাময়িক ইজ্জত বাঁচানোর পথ হতে পারে মাত্র।

বাংলাদেশে পাঠকের সংখ্যা কম—এ কথাও অস্বীকার করার উপায় নেই। আমাদের পাশ্ববর্তী দেশ ভারতের তুলনায় পাঠকের সংখ্যা যেমন কম ঠিক তেমনি পাঠের সময়ও কম। ইউনেস্কোর একটি গবেষণা দেখা গেছে, ভারত পৃথিবীর সব দেশের তুলনায় সব চেয়ে বেশি সময় বই পড়ে। এই গবেষণায় বাংলাদেশের নামই নেই। তাই হতাশা কাটানোর জন্য সীমিত পাঠকের দেশে কী ধরনের বই মানুষ কিনবে, তা আগে থেকেই গবেষণা থাকা দরকার এবং হিসাব-নিকাশ করে বই প্রকাশ করা দরকার।

পণ্যের কাটতির জন্য আগে বাজার বিশ্লেষণ করা অপরিহার্য। প্রকাশক যদি ব্যবসায়ী হন, তাহলে বাজার বিশ্লেষণ করে বই প্রকাশ করবেন এটাই স্বাভাবিক। কারণ, তিনি নিজের অর্থ বিনিয়োগ করে শিল্পের সেবার চেয়ে মার্জিনের চিন্তাই করবেন।

শিল্পসাহিত্যের অনুরাগী মানুষের সংখ্যা পৃথিবীতে খুব বেশি নয়। মানোত্তীর্ণ শিল্পই যুগ যুগ ধরে মানুষের কদর পায়। শিল্পের জায়গাটিকে নিয়ে শিল্পসম্মতভাবেই বিশ্লেষণ করা দরকার। গতানুগতিক ধারায় চললে এই শিল্পকে টিকিয়ে রাখা হবে কষ্টসাধ্য।

চিন্তাসূত্রে প্রকাশিত কোনও লেখা পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ।


One Response to “বই কেনা না-কেনা: ব্যক্তিগত পর্যবেক্ষণ ॥ মোজাম্মেল হক নিয়োগী”

  1. Ali Hossain
    মার্চ ২১, ২০১৮ at ৮:৪৬ অপরাহ্ণ #

    অসাধারন বিশ্লেষণ। সম্মানিত লেখকের প্রতিটি শব্দের সাথে আমি একমত। অনেক প্রকাশক আছেন যারা লেখকের কাছ থেকে টাকা নিয়ে বই প্রকাশ করেন। সেখানে লেখার মান তারা যাচাই করেন না। লেখক! হয়তো তার নাম একটা বইয়ের মলাটে দেখতে চান এবং টাকা দিয়ে তা দেখেন। লেখক যে পরিমান টাকা দিলেন, সে টাকা দিয়ে বইয়ের যতগুলো কপি বের করা যায়, প্রকাশক তার চেয়ে ১০/২০ কপি বই কম প্রকাশ করেন। ঐ টাকাটা প্রকাশকের লাভ। আবার যে কয়টা কপি তিনি বের করলেন তার সিংহহভাগই বিক্রির দায় থেকে যায় ঐ লেখকের ( চুক্তি অনুযায়ী )। এতে ক্ষতি যা হওয়ার তা লেখক এবং পাঠকের। প্রকাশকের কোন ক্ষতি নেই। এ ধরনের মানসিকতা পরিহার করতে হবে প্রকাশক এবং লেখক উভয়কেই। মূলকথা একটি প্রকাশনা সৃজনশীল করার দায়বদ্ধতা সর্বাগ্রে প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানকেই নিতে হবে। এতে এ জগৎ আরও আকর্ষনীয় হয়ে উঠবে। প্রকাশের সংখ্যা নয়, পাঠকের চাহিদাকে গুরুত্ব দিতে হবে। পরিশেষে ধন্যবাদ, প্রিয় লেখককে ধন্যবাদ, বিশ্লেষনধর্মী এ লেখার জন্য। চিন্তাসূত্রকেও ধন্যবাদ তা প্রকাশের জন্য।

লেখাটি সম্পর্কে আপনার মন্তব্য লিখুন