মায়ার সুতো ॥ হোসনে আরা জাহান | চিন্তাসূত্র
১ শ্রাবণ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ | ১৬ জুলাই, ২০১৮ | রাত ১০:৪৫

মায়ার সুতো ॥ হোসনে আরা জাহান

রুম নম্বর নিউ বিল্ডিং-৪৫, রোকেয়া হল।  রুমের দক্ষিণের বিছানায় শুয়ে শুয়ে দরজা গলে আকাশ আর আকাশের হাজার হাজার তারার মিছিল দেখা যায় । দেখা যায় শুক্লপক্ষের চাঁদও।  মাঝে মাঝে দেবদারু গাছের ফাঁকে ঢুকে থাকে চাঁদের ফালি।  কখনো বা বিশাল রেইনট্রি গাছের ডালে ভরাট চাঁদ ঝুলে থাকে। তার নিচেই ঝিঁঝিঁপোকারা তারস্বরে ডেকে যায়। তখন বেশিক্ষণ সেদিকে তাকিয়ে থাকা যায় না। অস্থির লাগে চন্দনার।

সকালে ঘুম থেকে উঠে ওর জোৎস্নামাখা গতরাতের কথা মনে পড়তেই মনটা ভালো হয়ে গেছে। দিনটা মনে হচ্ছে ভালো যাবে। শরতের ঝকঝকে রোদেলা দিন আজ। কিন্তু দিনের আবহাওয়া যত ভালোই হোক না কেন, বাসে চড়লে চন্দনার বমি পায়।  সেই ছোটো বেলা থেকেই। বাসের গন্ধ তার সহ্য হয় না।  পাশ দিয়ে সাই করে বাস চলে গেলেই তার মাথা ঘুরতে থাকে।
বাসে চড়ে বমি করতে করতে প্রথমবার ঢাকায় এসেই মনে মনে বলেছিল,  আর বাড়ি যাব না।

বাড়িতে কত কী! বাসার পেছনে যে পুকুর, সেখানে চকচকে রূপালি আঁশের মাছ। খাবার ছিটিয়ে দিলে ওরা ভেসে ওঠে। ওদের জন্য মন কেমন করে! আর মায়ের জন্য। পুকুরপাড়ের যে লিচুগাছের ডালে পা ঝুলিয়ে বসে থাকত, সেই লিচুগাছের জন্য মন কেমন করে! আর ভাইদের জন্য!

চন্দনার মেজো ভাইয়ার বিয়ে আগামী ২৯ অক্টোবর। তাই বাড়ি যাচ্ছে সে। মহাখালী বাসস্ট্যান্ডে এসেই তার বমি বমি পাচ্ছে। চারদিকে সারি সারি বাস। ময়মনসিংহগামী এনা বাসের টিকিট নিয়ে চন্দনা বাসে উঠে বসেছে। দ্বিতীয় সারির বাম দিকের জানালার পাশের সিটে। জানালা দিয়ে তাকিয়ে আছে বাইরে। ব্যাগ থেকে পানির বোতল বের করে পানি খেলো এক ঢোক।একটু ভালো লাগছে এখন। তার দুই সিট পেছনেই একটা বাচ্চা চেঁচিয়ে কাঁদছে।

হঠাৎ সামনে থেকে চেঁচামেচি শোনা গেল। কন্ডাক্টরের সঙ্গে কোনো এক ভদ্রলোকের চেঁচামেচির আওয়াজ শুনতে পাচ্ছে চন্দনা।  আর একটা কথাও না—ধমকের স্বরে বললো লোকটা।
বাসের ড্রাইভার সিট থেকে নেমে এসে বললো, চাচা আফনে বইন ছে।
কন্ডাক্টরের দিকে তাকিয়ে ড্রাইভার ধমক দিয়ে বললো, চাচারে চিনস তুই বেডা?  খালি ফাল ফারস। যা, কাজ কর।
ড্রাইভার চাচাকে সিট দেখিয়ে দিলো। চাচা বিড়বিড় করতে করতে বসলো। চন্দনার পাশের সিটে।
চন্দনা ভাবে, এই চাচা তো অ্যাংগ্রি ওল্ডম্যান। আমার যদি বমি পায়!  ইনি তো রেগে যাবেন!

চন্দনা দেখলো লোকটার চেহারা রাগী রাগী। গায়ে স্যুট, পায়ে দামি জুতা। গালের চামড়া খানিকটা ঝুলে আছে। নাক উঁচু, চোখ কোটরগত, সারা শরীরে বয়সের ছাপ। সৌন্দর্য ও আভিজাত্যের ছাপও চোখে পড়ার মতো। চন্দনা নড়েচড়ে বসলো।
বাস ছেড়েছে। চন্দনা একটু একটু করে এগিয়ে যাচ্ছে মহাখালী বাসস্ট্যান্ড ছাড়িয়ে।
জানলা গলে বাতাস ঢুকছে। সে বাতাস চন্দনার মাথায়-মুখে লেগে চুল এলোমেলো হয়ে যাচ্ছে। হোক। ভালো লাগছে তার। অনেকদিন পর বাড়ি যাচ্ছে, বাড়ি যাওয়ার আনন্দই আলাদা।

পেছনের দিকে কেউ একজন চিবিয়ে চিবিয়ে ফোনে কথা বলছে, ঠিক আছে, ঠিক আছে। মোস্তাকরে কইস, বেসতি কথার কাম করলে মুঞ্জির মতন ভর্তা বানাইয়াম তাগরে। আমারে চিনছে না। কোনো তেলং তেলং সহ্য করতাম না। লোকটার গলার স্বরে রাগ উপচে-উপচে পড়ছে।

সামনের দিকে ডানপাশের সিটে একটা মেয়ে বসেছে। বেগুনি রঙের শাড়ি পরা আর চুল খোলা মেয়েটা পুতুলের মতো সুন্দর। মনে হচ্ছে একটা পুতুল মুখ বুঁজে বসে আছে। কোলের উপরে কালো রঙের হ্যান্ডব্যাগ। তার ডানপাশে বেশ সুদর্শন একটা ছেলে। মনে হচ্ছে স্বামী-স্ত্রী। ছেলেটা কী যেন বললো। মেয়েটা মিটিমিটি হাসছে। হাসিটা ভারি মিষ্টি।  ওদের দেখতে চন্দনার ভালো লাগছে। একজন প্রেমিকের অভিমানী প্রেমিকা হওয়ার গোপন ইচ্ছেটা খুব গোপনে চন্দনার ভেতরে আজ নতুন করে উস্কানি পেলো।

সামনের সিটদুটোতে পাশাপাশি দুটি ছেলে। জানালার কাচে চন্দনা ওদের দেখেছে। একজনের নাম সুদীপ। নামটা চন্দনার জানার কথা না। কিন্তু পাশের ছেলেটা সুদীপের নাম ধরে বলছিল, শোন সুদীপ, দুদিন ধরে ঘুমিয়ে সাধ মিটছে না। এখনো ঘুম পাচ্ছে।
সুদীপ বলছে, তুই মরে যা, চিরনিদ্রায়।  দুই জনেই হো হো করে হাসছে।
এমন সময় বাসের বেরসিক হেল্পার সবুজ রঙের পলিথিন নিয়ে বলছে, পলি লাগবো, পলি?

চন্দনা দুইটা পলিথিন নিলো। তার মাথা ঘুরছে আবার। গলায় যেন কী আটকে আছে, আটকে থাকা জিনিসটা বাইরে বেড়িয়ে আসতে চাইছে। গা গুলাচ্ছে। সে তার মাথাটা জানালার দিকে বাড়িয়ে দিলো। বাতাসের ঝাপটায় মাথার ঝিমঝিম ভাব কিছুটা কমেছে।

পেছনের সিটের সেই বাচ্চাটা আবার গলা ফাটিয়ে কাঁদছে। কান্নার আওয়াজে চন্দনার রাগ হচ্ছে। তার ইচ্ছে হচ্ছে এক্ষুনি পিছনে গিয়ে বাচ্চাটাকে কোলে নেয়, বাচ্চাটার কান্না থামায়।

হুড়মুড়িয়ে বমি হলো। হঠাৎ। ওর গা গুলিয়ে যখন মুখ ভর্তি বমি আসলো কে যেন সামনে পলিথিন ব্যাগ মেলে ধরেছে। চন্দনা কিছুই বুঝতে পারছিল না। নাড়িভুড়ি সব যেন বের হয়ে আসছে।

তার চোখ বন্ধ। কে যেন তার মাথায় হাত রেখেছে। ঠান্ডা হাত দিয়ে কপাল মুছে দিলো। চন্দনা চোখ মেলে দেখলো বুড়ো চাচার উদ্বিগ্ন মুখ। সে আবার চোখ বন্ধ করলো।

কিছুক্ষণ পর আবারও গলায় দলা পাকিয়ে বমি হলো। এইভাবে পরপর চার-পাঁচবার বমি হলে চন্দনা চোখে ঝাপসা দেখছে।

বুড়ো চাচা চন্দনার কপালে তার ভেজা হাত রেখেছে। একটু পানিসহ হাত রেখেছে মাথায়।  চন্দনা চোখ মেলে স্বাভাবিক হওয়ার চেষ্টা করলো। লজ্জিত ভঙ্গিতে বুড়ো চাচার দিকে তাকালো। বুড়ো চাচার চোখে উদ্বেগ। বললেন, মা তোমার কি এখন একটু ভালো লাগছে?
চন্দনা মাথা নাড়লো। তার ভীষণ লজ্জা লাগছে।
বুড়ো চাচা চন্দনার দিকে পানির বোতল বাড়িয়ে দিয়ে বললো, একটু পানি খাও মা।

চন্দনা এক ঢোক পানি খেয়ে জানলা দিয়ে বাইরে তাকালো। খটখটে রোদ। পরিষ্কার আকাশ । কোথায় এসেছে জানা দরকার। চন্দনা বাইরে দোকানের সাইনবোর্ড খুঁজছে। বাসটা ত্রিশাল পার হয়েছে। ময়মনসিংহে পৌঁছাতে আর বেশিক্ষণ না, সর্বোচ্চ ২৫ মিনিট লাগবে। চন্দনা স্বস্তির নিশ্বাস ফেললো।

অনেকক্ষণ ধরেই বাচ্চাটার কান্নার আওয়াজ পাওয়া যাচ্ছে। বাচ্চাটার এমন বিরামহীন কান্না—কেউ ওকে থামাচ্ছে না কেন!
তক্ষুনি বুড়ো চাচা ওর দিকে তাকিয়ে বললো, তোমাকে নিতে স্টেশনে তোমার বাবা আসবেন?
শুনে চন্দনার বুকটা ধক করে উঠলো।  শুকনো ঠোঁটে বললো, আমার বাবা বেঁচে নেই।
স্যরি মা। বুড়ো চাচা বললো।
বুড়ো চাচার লজ্জিত মুখ দেখে চন্দনার কেমন মায়া হলো। বললো, না না চাচা, আপনি তো কিছু জানতেন না।
একটু থেমে চন্দনা কাচুমাচু গলায় বললো, আমি আপনার জার্নি খারাপ করে দিলাম চাচা।
বুড়ো চাচা মুচকি হেসে বললো, না না মা, যে কেউই তো অসুস্থ হতে পারে। আমিও তো হতে পারতাম। এসব নিয়ে ভেবো না। আর শোনো, বাসায় গিয়ে ডাবের পানি খেয়ে নিও। উইকনেস কমে যাবে। আচ্ছা মা, তোমার নাম কী?
আমার নাম চন্দনা।
ও। তুমি যাচ্ছো কোথায়?
ময়নসিংহে আমার বাড়ি, বাড়ি যাচ্ছি। আমি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিজিক্স ডিপার্টমেন্টে পড়ি, বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলে থাকি।  চন্দনা জানালো।
বুড়ো চাচা আহ্লাদমাখা কণ্ঠে বললেন, খুব ভালো। আমি একজন রিটার্য়াড আর্মি অফিসার। মালিবাগে বাসা। আমার গ্রামের বাড়ি তারাকান্দা। ওখানেই যাচ্ছি। আমি আমার ফোন নাম্বার লিখে দিচ্ছি, বাসায় পৌঁছে ফোন দিও—বলেই নিজের পকেট হাতড়াতে লাগলেন তিনি।

বাস ততক্ষণে মাশকান্দা বাসস্ট্যান্ডে এসে থেমেছে। চন্দনার বাসা ময়মনসিংহ রাজবাড়ির পেছনে, কাচিঝুলিতে।  বুড়ো চাচা তাকে রিকশা করে দিলো। সে রিকশা চড়ে বাসায় চলে এলো।

বিয়ের কেনাকাটা এখনও শেষ হয়নি। বাড়ির সবাই নতুন কাপড় কিনেছে। গয়না কিনেছে। নানান জায়গা থেকে আত্মীয়-স্বজন এরইমধ্যে চলে এসেছে। চন্দনার আসার খবর পেয়ে সবাই ছুটে এসেছে গেটের বাইরে। সবার সঙ্গে কথা বলে, গোসল করে খাওয়া দাওয়া করতে করতে বিকেল হয়ে গেলো।

এত হইচই তার ভালো লাগছিল না। সে বরং শুয়ে শুয়ে মায়ের সঙ্গে গল্প করছে। বিয়ে নিয়ে বাসার সবারই অনেক পরিকল্পনা। চন্দনার জন্যও শাড়ি কেনা হয়েছে। লাল জমিন আর সোনালি রঙের পাড়। মা আলমারি খুলে শাড়ি দেখালো। যে-কোনো একদিন মার্কেটে গিয়ে শাড়ির সঙ্গে মিলিয়ে গয়না কিনতে হবে।
মা বললো, তুই আর ক’দিন আগে আসতে পারলি না!
চন্দনা মাকে জানালো, জার্নি করতে আমার একদম ভালো লাগে না মা।  আজ বাসে একজন চাচা আমাকে হেল্প করেছে। আমি খুব অসুস্থ হয়ে পড়েছিলাম।

মা চন্দনার মাথায় হাত বুলিয়ে দিচ্ছে। তার মেয়েটার বাসে চড়তে খুব কষ্ট হয়। পড়াশুনার জন্য ওরই কিনা এত দূর যেতে হলো! মেয়েটার মুখটা শুকিয়ে ছোটো হয়ে গেছে।

চাচাকে একটা ফোন দেই। বাসায় এসেই একবার ফোন দিয়েছিলাম, ধরেননি—বলেই চন্দনা বুড়ো চাচার লিখে দেওয়া ফোন নাম্বারটা ডায়াল করলো। রিং বাজলো। কিন্তু এবারও কেউ ফোন না ধরায় কথা হলো না।

পরদিন সকালেই চন্দনা তার মা আর ভাবিকে নিয়ে কেনাকাটা করতে মার্কেটে গেলো। বিকেলে ওরা গেলো শ্যামা জুয়েলার্সে। বৌয়ের জন্য তৈরি করা গয়না নিয়ে আসতে। সন্ধ্যায় গেলো পার্লারে। সারাদিনের ব্যস্ততার পর রাতে বুড়ো চাচাকে ফোন দিলো চন্দনা। কেউ ফোন ধরলো না। কী হলো বুড়ো চাচার ফোনের! নাকি চাচার কোনো বিপদ হলো!

বিয়ের তারিখ ঘনিয়ে আসছে। ঘর-দোর ঝারমোছ করা হচ্ছে। পিঠা বানানোয় মেতে আছে বাড়ির মেয়েরা। আজ সকাল থেকে চন্দনার নির্দেশনায় আলপনা আঁকছে ওর চাচাতো বোন পাপড়ি আর পাউলি। গত দুইটা দিন কীভাবে কেটে গেছে টেরই পায়নি চন্দনা।

হঠাৎ মনে হতেই নিজের রুমের বারান্দায় দাড়িয়ে আজ আবার বুড়ো চাচাকে ফোন দিলো। দ্বিতীয়বার রিং বাজতেই একজন ভদ্রমহিলা ফোন ধরলেন।
হ্যালো…
ওপাশে ধরা গলায় একজন ভদ্রমহিলা—কে বলছেন?
আমি চন্দনা। চাচার সাথে বাসে আলাপ হয়েছিল, উনি আছেন?
মা, তুমিই চন্দনা? সেদিন বাসায় এসে শুধু তোমার কথাই বলছিলেন। বিকাল থেকেই ওর ফোনটা কাজ করছিল না। শুধু বলছিল, খুব লক্ষ্মী মেয়ে, বাসে অসুস্থ হয়ে গেলো। পৌঁছে আমাকে ফোন দেবার কথা, কিন্তু আমার ফোনটাই যে নষ্ট হয়ে গেলো। মেয়েটা বাসায় পৌঁছলো কিনা!
চাচা এখন কোথায়? তিনি কেমন আছেন?
তোমার চাচা চলে গেছে মা। আমাকে একা করে দিয়ে চলে গেছে। সেদিন রাতে দিব্যি ঘুমালো কিন্তু সকালে আর জাগলো না। রাতেই হার্ট অ্যাটাক হয়ে গেছে। একটুও টের পেলাম না আমি।

এমন সময়ে কী বলতে হয় চন্দনা জানে না। নিজের অজান্তেই শুধু তার ঠোঁট গলে অস্ফুটে বেরিয়ে এলো—আচ্ছা।

টেলিফোনে ভদ্রমহিলার কান্না আর হাহাকারে তার চারদিকের বাতাস ভারী হয়ে উঠছে। অল্প কিছু সময়ের জন্য সে যার মাঝে তার বাবার স্নেহটুকু দেখেছিল, তিনি এ পৃথিবী ছেড়ে চলে গেছেন! ব্রহ্মপুত্রের জল শুকালে যেমন নদের দুপাশে চর জাগে তেমনই ঢেউ ঢেউ জলের অভাবে আজ তার মনের দুকূল জুড়ে হাহাকার জমেছে। চোখের কোনে জমছে কিছুটা জল।

পাউলি দৌড়ে এসে তক্ষুণি ওর হাত ধরে টেনে নিয়ে গেলো বাইরের ঘরের বারান্দায়, জানতে চায় মেঝের উপর কী আঁকবে সে, গোলাপ নাকি জবা? টকটকে লাল জবা আঁকলে মেঝের দাগগুলো সব আড়াল হয়ে যাবে, তবে তাই হোক।
চন্দনা অস্ফুটে বলে, হুম।

পরদিন বিয়ের অনুষ্ঠানে ওর ব্যস্ততা শেষই হতে চায় না। নতুন ভাবী বাসায় আসে। তার সঙ্গে গল্পে গল্পে চন্দনার দিন কাটছিলো। এভাবে এক সপ্তাহ গড়িয়ে গেলো। সেদিন বিকালেও অন্যদিনের মতো ছাদে ওরা দুজন বসেছিল। এমন সময় বুড়ো চাচার দেওয়া ফোন নম্বর থেকে ফোন আসে। চমকে ওঠে চন্দনা। ফোন ধরতেই ওপাশ থেকে মিহি গলার আওয়াজ—চন্দনা মা…
আসসালামুআলাইকুম চাচি

মা চন্দনা, তোমার চাচা সেদিন বাসায় এসে কি বলেছিলো জানো? বলছিল, আমাদের শোভা বেঁচে থাকলে তোমার মতোই হতো। ফোনের ওপাশ থেকে ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কান্নার আওয়াজ শুনতে পায় চন্দনা।

একটু থেমে, হয়তো একটু দম নিয়ে কাঁপা কাঁপা গলায় তিনি আরও বললেন—মা, তুমি একদিন এসো আমার কাছে…
চন্দনা কিছু বলতে পারে না। তার কথাগুলো তার গলায় দলা পাকিয়ে অদ্ভুতভাবে জমে থাকে।

চিন্তাসূত্রে প্রকাশিত কোনও লেখা পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ।


কোন মন্তব্য নাই.

লেখাটি সম্পর্কে আপনার মন্তব্য লিখুন