তিস্তা: পর্ব-১০॥ হারুন পাশা | চিন্তাসূত্র
৫ ভাদ্র, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ | ২০ আগস্ট, ২০১৮ | সকাল ১০:৪২

তিস্তা: পর্ব-১০॥ হারুন পাশা

॥ পর্ব-১০॥
৩২
টেনিং নেওয়ার পর সাইতুন বাসত উঠিল, জিনিস বেইচপার ধরিল। যাত্রিমহোদয়, আসসালামু আলাইকুম, চলন্ত পথে চলছেন, আল্লার নাম স্মরণে রাখবেন। আপনাদের যাওয়া আসার মাঝে আমার কাছে পাচ্ছেন একটা ঔষধ। আপনাদের দাঁতে যত ব্যথা আছে, দাঁতের গোড়ায় যত ব্যথা আছে এই ঔষধটা লাগাবেন এক মিনিটের মধ্যে আপনার দাঁতের ব্যথাকে কারেন্টের মতো দূর করিয়া দিবে। দাঁতে যত রকমের দাগ, লাল-কালো-হলুদ, পান খাইতে খাইতে ময়লা ধরাইয়া ফেলাইছেন, মাজন দিয়া সকাল বিকাল দাঁত মাজিবেন, আর ঔষধটা ব্যবহার করবেন। দাঁত নষ্ট হয়ে গেছে, কেউ বলেন ক্যালসিয়ামের অভাব। ঠা-া পানি মুখে দিতে পারেন না, কোনো কিছু খেতে পারেন না, আবার মিষ্টি জাতীয় কোনো খাবার খেলে আপনার দাঁতের গোড়ায় শিরশির করে, আবার দাঁত ঘড়ির কাটার মতো টিকটিক করে, দাঁতের গোড়া থেকে রক্ত পড়ে, পুঁজ পড়ে, মুখ থেকে দুর্গন্ধ বের হয়। দোকান, ফার্মেসিতে এই ঔষধটা আপনি পাবেন মাত্র চব্বিশ টাকায়, আমাকে চব্বিশ টাকা দিতে হবে না, মাত্র বিশ টাকায় ঔষধগুলো পাচ্ছেন। এটি আপনি ব্যবহার করেন, পাশাপাশি আপনার ছেলেমেয়ে, বাবা, মা ব্যবহার করতে পাবেন। বাসায় নিয়া রাইখা দিয়েন দুই বছরে নষ্ট হবে না। হাতে নিয়া দেখতে চাইলে আপনারা দেখতে পারেন, কোনো সমস্যা নাই। যাদের দাঁতে স্পট আছে, পাথর আছে, যাদের দাঁতের গোড়ায় ব্যথা আছে, দুর্গন্ধ হয় জন্ম থেকে, তারা চার-পাঁচ ফোঁটা দাঁতের গোড়ায় দিবেন। যারা সারাদিন পান খান, অতিরিক্ত পান খান, তারা রাতে ঘুমানোর আগে একবার ব্রাশ করবেন দাঁতে কোনো স্পট থাকবে না। দেইখা যান, পরে প্রয়োজন অনুযায়ী ফার্মেসি থাইকা কিইনা নিয়েন। বাংলাদেশের ফার্মেসিগুলোতে এই ঔষধ পাওয়া যায়। ধন্যবাদ।
আমার সঙ্গে আরেকটা জিনিস পাচ্ছেন, ছোট্ট একটা ম্যাজিক বল। যাদের কাছে টাকা নাই, তাদের কোনো চিন্তা নাই। সরকার করেছে ডিজিটাল বাংলাদেশ, আমার করতে কি? দুইটা বাকি নিবেন তিনদিন পর টাকা দিবেন। পানিতে ভিজালেই বড় হবে। বাকি পাচ্ছেন বলেই বেশি করে নিবেন সেটা হবার নয়, সর্বোচ্চ দশ টাকা পাবেন। বাকি নিবেন জোড়া দশ, আর নগদ নিবেন তিনটা দশ, পানি দিলেই বড় হবে। অন্য কোথাও কিনবেন একশ’ পঞ্চাশ টাকা নিবে। এখানে পাচ্ছেন মাত্র দশ টাকায়, অনেকেই ভাবছেন বাকি নিবেন, টাকা ক্যামনে দিবেন? না পাবেন আমারে খুঁইজা, না পাইবো আপনারে খুঁইজা। আপনে খুঁজতে গেলে লাগবো চারশ’ থেকে পাঁচশ’ টাকা, আমি খুঁজতে গেলে লাগবো সাড়ে তিনশ’ টাকা। এতো ঝামেলার দরকার নাই। আমার মোবাইল নাম্বার নিবেন, ফ্রেক্সি করে পাঠিয়ে দিবেন। আমার সুবিধা, আপনারো সুবিধা। আজকে নিচ্ছেন তিনদিন পর টাকা দিবেন। বাকি নিবেন এমন কেউ আছেন? বাচ্চাদের খেলনা, পানি দিলেই বড় হয়। আরো কেউ নিবেন?
এদিকে আসো?
আসতেছি, দুইটা মিনিট সময় দেন।
এদিকে আরো কেউ নিবেন? হাতে নিয়া দেখতে পারেন। দেখলে দোষ নাই, টাকা পয়সাও লাগবে না।
কত দিতে হইবো?
দশ টাকা।
কম নাও।
না। আসল দামেই ছাড়ছি। নিলে ন্যান, নাইলে থাক, সামনে যাওয়া লাগবো।
ন্যাও।
ভাইজান, হাতটা ছাড়েন।
টাকা নিচ্ছিলাম তো।
আরো কেউ লইবেন? ধন্যবাদ।
ওইদিন জিনিস বেচার পর শিল্পী নামের অ্যাক বান্ধবীর সাথত উইয়ার দেখা হয়। মোবাইল করি জানাইল। উইয়ার অটে নাকি যতদিন থাকা যায় ততদিন থাকবে। অটে কি হইছে ওইটা মুই জাইনবার পাং নাই। উইয়ার মোবাইল বন্ধ আছিল।

৩৩
শাহরিয়ার, শিল্পীর খোঁজ পেয়েছিলে?
হুম, পেয়েছিলাম।
কীভাবে?
মিলি, সমীরণ শিল্পীর বাসার ঠিকানা কিংবা মোবাইল নম্বার কোনোটাই দিতে পারেনি। তখন ‘শিল্পী’ নাম লিখে ফেসবুকে সার্চ দিলাম। অনেক নাম আসলো। প্রত্যেকটা আইডি ওপেন করে দেখতে থাকলাম। পরে একটায় তাকে পাই।
ওইটাই যে সেই শিল্পী, যাকে তুমি খুঁজছো, নিশ্চিত হলে কেমন করে?
ওই আইডিতে একটা পোস্টের ক্যাপসনে লেখা ছিল, অনেকদিন পর স্কুলজীবনের বান্ধবীকে খুঁজে পেলাম। তার নাম সাইতুন। তাদের হাসিজড়ানো মুখের একটি সেলফি ছিল। এখান থেকেই নিশ্চিত হই এটি শিল্পীর আইডি। ইনবক্সে তার সঙ্গে আলাপ হয়। আমার পরিচয় দেই। পরে সে আমার সঙ্গে আলাপে রাজি হয়। সাইতুনের পরের জীবন সম্পর্কে সে ডিটেলস জানায়।
কী কী জানলে?
শিল্পী বললো, সেদিন সাইতুন ওয়েলকাম বাসে ব্রাশ আর ম্যাজিক বল বিক্রি করছিলো। বাস কল্যাণপুর স্ট্যানে এলে আমি উঠি। তাকে অনেকক্ষণ থেকেই অনুসরণ করছিলাম। দেখলাম সাইতুন স্বর বদল করে কথা বলছে। আবার পোশাকেও কিছুটা বদল এনেছে। তাই আমাকে সময় নিয়েই চিনতে হয়। বাসভর্তি লোকের সামনে বিব্রত বোধ করতে পারে, তাই চেনার পরেও ডাকিনি। অপেক্ষা করছিলাম কখন সাইতুন নামবে। সে শুক্রাবাদে নামলে আমিও নামি। পেছন থেকে সাইতুন নামে ডাক দিলে চমক খায়। সে আমাকে চিনছিলো না। পরিচয় দিলে তার চমক ভাঙে। আমরা একসঙ্গে প্রাইমারি স্কুলে পড়েছি, এখানে সেখানে ঘুরতে গেছি, বউচি, কানামাছি খেলেছি। দীর্ঘ সময় পর তাকে কাছে পেয়ে আবেগী হয়ে যাই। জোর করে নিয়ে আসি আমাদের বাড়িতে। তার হকারি জীবন আমার ভালো লাগেনি। পরে রুট বদল করে আমরা ধানমন্ডি সাতাইশের দিকে এগুতে থাকি। যেখানে আমাদের বাড়ি।
চলবে…

তিস্তা: পর্ব-৯॥ হারুন পাশা

চিন্তাসূত্রে প্রকাশিত কোনও লেখা পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ।


কোন মন্তব্য নাই.

লেখাটি সম্পর্কে আপনার মন্তব্য লিখুন


webcams Etudiantes Live Jasmin Forester Theme