তিস্তা: পর্ব-৪ ॥ হারুন পাশা | চিন্তাসূত্র
১ পৌষ, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ | ১৫ ডিসেম্বর, ২০১৭ | রাত ১২:৪৪

তিস্তা: পর্ব-৪ ॥ হারুন পাশা

॥পর্ব-৪॥
১৩
তমিজের বাপ আবার কুটে বাইর হইনেন?
আইসং অ্যাকনা।
এই আইসং কত বছর থাকি চইলবার নাগছে, হিসাব আছে?
শোনেক বউ, একবার আলু পাইলে কয়েক কোটি ট্যাকা। পায়ের উইপরা পা তুলি খাবার পাবু। তোর এই দোন কষ্ট আর থাইকপার নয়।

এই কথাও কত বছর থাকি চালাবার নাগছেন, হিসাব আছে? ইয়ার চায়া হামার সাইঞ্চাখানত যদি মাটি আলু গারি থুইনেন হয় এতোদিনে ঘরের টুই সমান হইল হয় ওই আলু। ওইটা বেচিয়ায় সোগ য়িন শোধ কইরবার পাইনেন হয়।

তুই টিটকারি মাইরবার নাগছিস। দে নাইটখান, সাথে ব্লেডটাও দে।

আন্দারত নাইটজালি আলু খুজমেন বুঝনু, কিন্তু ব্লেড দিয়া করমেন কি?

তুই পণ্ডিত হবার চাইস আলু বিষয়ত।

ঢং বাদদি সোজা উত্তর করো।

আলু পাওয়া গেইলে কাটি অটে ব্লেড থুমো। ব্লেড না পড়ি আটকি থাকলে বোঝা যাইবে ওইটা দেশি আলু নোয়ার, আসল আলু। যেইটা হামরা খুইজবার নাগছি। পরে এইটা চালান দিমো বিদেশত।

কায় যে কইছে, সেই কথা হইছে। এই যে তোমরা আলুর পিছনত ছোটেন, লাভটা কি হইল? সংসারত যদি মন দিনেন হয় তাইলে আইজক্যা জমিন বন্দক হয় না। ঘরের ভাত খাওয়া গেলো হয়। পুলিশ ধরি গোয়াত ডাং নাগাবার পায় না।

কিছু কলু?

কি কইম, তোমরা এমন কি পুরুস্কার আননেন যে কওয়া নাগবে।

শোনেক, বউ হইল ঘরের মানুষ, আর তুই যদি শত্রুর নাখান কথা কইস তাইলে কি কাম করি শান্তি পাইম? আন্দারত আলো জ্বলবে?

কি মোর কাম। যাও তো, তোমরা সফরত যাও। নেকি কামাই করি আইসো।

জঙ্গলত কায়? কি করেন?

হামরায় বাহে।

হামরা কায়?

মুই মোখলেস।

তুই এতো আইতত কি করিস?

এদি যাবার ধরচং, প্যাটটা মোচড় দেইল, এটে ঢুকনু।

যা, কাম শ্যাষ করি তাড়াতাড়ি বাড়ি যা। আড়াখান ভালো নোয়ায়, জ্বিন-ভূতের আছড় আছে।

হয় বাহে, যাবার নাগছং।

কাদির, ওই ব্যাটা গেইল নাকি, দেখেক তো ভাল করি।

গেইছে।

শোনেক, বাল খুইজবার আসি মাইনষের ডাকাডাকি। বউয়ের ক্যাচর-ম্যাচর ভাল নাগে না। পামো তো?

পামো। সময় দেওয়া নাগবে। তোর গাটের ট্যাকার নাখান ভাইববার নাগছিস, যে মন চাইলেই ঝাড়ি দিলু। এইট্যা হইল মাটির তলার কারবার। খোজা নাগবে। টেস্ট করা নাগবে। ফেলে দেওয়া নাগবে। আবার খোজা নাগবে। পুলিশে ধরবে। টিকাত য়ুলের বাড়ি পড়বে। জেলত যাবু। কত কিছুর কানেকশান আছে। হাফসি গেইলে চলবে?

হাফসিনু কুটে? আচং এ তো দশ বছর থাকি। যেদিন থাকি ক্যানেলত পানি নাই। আবাদ কইরবার পাং না। মাইনষক পাইসা দিবার পাং না। জমিন বন্দক থুইয়া ধার-করজ শোধ করা নাগে। এইটা তো খুবে কম সময়, নোয়ায়?

মাস্টারের মতো নেকচার পিটে দিলু। ধরেক, অ্যালা বিড়ি টান দে।

শালা, মোর বাপ মাস্টার আছিল। মাস্টারের ব্যাটা তো মাস্টারের মতোয়ে হইবে।

তাই বলি আন্দারত, আড়াবাড়িত তুই নেকচার পিটাবু? তোর বাপ নেকচার দিছে দিনত, আর তুই দেইস আইতত।

খোজেক কিচ্ছা ছাড়ি।

১৪
ক্যা বাহে তোমরা ব্যারেজ হবার দিনেন কিসের জন্যে? ক্যা ব্যারেজত কাজ করনেন?

দর্শক-১
বাহে আহসান, জিয়াউর অহমানের মনের আশা ব্যারেজ করবে। ওমার আশা পূরণ কইরবার জন্যে নাখ নাখ মানুষ কাম করিল। কাম করিল ব্যারেজ হইলে বেশি আবাদ হইবে। আবাদ বেশি হওয়া তো পরের কথা অ্যালা পানিয়ে পাই না। পানি পাবার জন্যে এইবছর-সেইবছর মানববন্দন হবারে নাগছে। সারা দেশ থাকি নোক আইসে। আন্দোলন হয়। কয়, পানি চাই পানি চাই। পানির জন্যে হাহাকার।

দর্শক-২
আশা আছিল ব্যারেজ হইলে ক্যানেলের পানি দিয়া নাখ নাখ মানুষের ফসল আবাদ হইবে। ব্যারেজ গড়াবার আশা পূরণ হইছে, ক্যানেলও হইছে, কয়েকটা মাস পানির ছ্যাক থাকে। ভারতের সাথত নাইন।
আশা কি নষ্ট হয়া গেইছে?

দর্শক-৩
পানি না পাওয়া গেইলে তো আশা নষ্ট হইবে।
নষ্ট আশা কয় বছর থাকি?

দর্শক-৪
ম্যালা কয় বছর থাকি।

দর্শক-৫
পরথম পরথম তো ঠিকে পানি পাছনো। পরে শুননো ভারতও বাধ বসাইছে। ওমরা পানি আটকায়। আস্তে আস্তে পানির ছ্যাক পাওয়া শুরু হইল। ওমরা পানি না ছাড়লে হামরা পানি পাইয়ে না।

দর্শক-৬
ক্যানেলের পানি হইল হামার ভরসা। ক্যানেলত পানি না পায়া বাধ্য হয়া হামাক বডিং করা নাগে।

দর্শক-৭
ভুইট্টা আবাদত পানি হইল প্রাণ। যে মাটিত অস বেশি ওই মাটিত কম সেচ দেওয়া নাগে। পনেরো দিন, এক মাস পর সেচ দিলেও চলে। বালু মাটিত সেচ দশ দিন পর পর দেওয়া নাগে। নদীর বাইরে যে যে ভুইয়ত ভুইট্টা আবাদ হয় অটে বডিং থাকিয়ায় পানি দেওয়া নাগে। অটে ক্যানেলের পানি যায়য়ে না। ডালিয়া থাকি ভাটির অংশত পানি বেশি থাকে। যখন কপাট বন্দ করে তখন উজানত অ্যাকনা পানি আইসে। কপাট খুলি দিলে মুতি যে পানি নিবে ওইকনায় পাওয়া কষ্টের হয়।

দর্শক-৭
পানির অভাবে আশপাশের নোক কর্মহারা হয়া গেইছে। জালিয়া মাছ ধইরবার পায় না। মানুষ হাঁটি নদী পার হয়। বষ্যা বেরাইলে নদী হয় বালুর গুদাইমঘর।

দর্শক-৮
ব্যারেজখান তো হামারে সম্পত্তি। অ্যালা পানি নাই, ওইজন্যে হামরা বুইঝবার নাগছি না ইয়ার সুবিধা। শুনছোং এইটা নাকি দেশের সবচায়া বড় সেচ প্রকল্প। কিন্তু এইটা কি হামরা সংরক্ষণ কইরবার পাবার নাগছি? এইটা দ্যাখার জন্যে নাকি ৭৮ জন নোক নিয়োগ দেওয়া আছে। মুই তো একজনকও দেইখপার পাং না। ওমরা ডিউটি করে না। তাইলে ওমাক চাকরি দিয়া লাভ কি হইল?
পানি উন্নয়ন বোডত এই কথা জানাইছেন?

দর্শক-৯
কয়া নাভ হয় নাই। আরো নছ দেইখপার নাগছোং। আগত দুই-একজন আছিল। অ্যালা ওমরাও নাই।
ও। অবস্থা তাইলে এইদোন।

১৫

শাহরিয়ার ফ্রি আছো?

আছি, কেন মিলি?

তোমাকে ভিডিও কল দিতে চাচ্ছি।

ঠিক আছে। দাও।

দেখা যাচ্ছে আমায়?

যাচ্ছে।

বলো, পরে আর কি কি পেলে গবেষণার জন্য?

মিলি, তুমি তো সেদিন ব্যারেজ দেখে গেছো?

হুম।

জানো, উৎপত্তি অংশ থেকে নদীটা আসছে বড় হয়ে। ওই নদী ব্যারেজে এসে চেপে যাচ্ছে। এতে ব্যারেজের চারপাশে বসবাস করা মানুষদের অত্যাচারিত হতে হয়। পানি উন্নয়ন বোর্ডে গিয়ে জানতে চাও বন্যায় ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ কত? বলবে, অমুক-তমুক বাঁধ ভেঙে যাওয়ার কারণে এমন হয়েছে।

মানুষগুলোর যে ক্ষতি হলো?

না, আমরা তো এটা হিসাবে ধরবো না। আমরা তো এটা ‘নো-ম্যান্সল্যাল্ড’ ঘোষণা করেছি। ওইটা মানুষের বসবাসের জন্যে না।

তারা হিসাব না করলেও আমরা তো করবো, তারাও তো মানুষ। তিস্তা ব্যারেজের সুফল যারা পাচ্ছে। তারা তিস্তা দেখে নাই। ব্যারেজ কি বলতেও পারে না। বন্যার সময় মায়েরা পানির কাছাকাছি শিশুকে শোয়ায়ে রেখে কাপড় কাচতেছে। মনে হবে এই বুঝি শিশুটাক নিয়ে গেলো। তাদের জীবনটাই এরকম। বেশ কিছুদিন আগে আমি চারপাশ ঘোরাঘুরি করে দেখলাম পানি নাই নদীতে। মানুষজনও বলছে পানি নাই। বোর্ডের একজনকে বললাম, সে খুব স্বাভাবিকভাবেই কথাবার্তা বললো। তার কথা শুনে মনে হলো পানিতে ভরপুর তিস্তা।

শোনো শাহরিয়ার, প্রশাসন তাদের ক্লিন ইমেজের জন্য সব ঠিকঠাক আছে, এমন বলে। আসলেই কি সব ঠিকঠাক থাকে? থাকে না। তুমি নিজের চোখেই দেখছো পানি নাই কিংবা আরো পানি দরকার, এলাকাবাসী তোমাকে সেরকমই বলতেছে।

তোমার কথাতেও যুক্তি আছে।

মোখলেস কিংবা আইনুদ্দিন চাচার পরের গল্প বললে না তো?

শোনো…

১৬
শালির বেটি, বদের হাড্ডি, নিজের সংসারত নইনাঙ্গা দশা, আর মোর ব্যাটাক কইস, বাড়িত নাই কোনো টিকাত মাখায় ¯েœা। তোক হামরা চিনি না রে মুক্তার মাও? শউরিক জ্বালে জ্বালে অ্যালা তুই বুড়ি হছিস। তাগরা সময়ত নাইরলের বরা, ত্যালের পিঠা ভাজি খাছিস, শউরিক দেইস নাই। শউরি শুতি শুতি খালি দেখছে। চোখের পাতাখান ফেলাইতে আর খুলতে দ্যাখে আন্দনঘর ফাকা, কায়ো নাই। পিঠাও নাই। সোগে ঢুকাইছিস নিজেরঘরত। শউরিক না দিয়া স্বামী, বেটা-বেটি নিয়া খাছিস। শউরির ঘর দিছে মাঝত। একপাকে অয়। আরেকপাকে উইয়ার মাইজলা ছাওয়া। বেটির দরোজা আছিল দক্ষিণ পাশত। দরোজা ক্যানে উইয়ার এপাকে নাই, জ্বলি মরি যায়। কয়, মোক পিছ বাড়িত ফেলাইছে। বউয়ের কাছ থাকি বেটির কাছত গেইছে। এইগল্যা শুনতে শুনতে শউরি ত্যাক্ত-বিরক্ত হয়া দরোজা কাটি দিছে উত্তর দিকত। দরোজা কাটি দিছে আর শউরির ব্যারামও শুরু হইছে। আন্দি-বাড়ি পুবের ঘরত সোগে নিয়া যাইবে, বুড়ি এইটা দেইখপার নয়, ক্যামন করি হয়! ওইজন্যে কওয়া-বায়া করি কাটি নেইল দরোজা। বুড়ি বাবুই পাখির নাখান বসি থাকি দেখে। তুই কছিস, খালি দেখপুয়ে, খাবার পাবু না। তোর বইন বেড়াবার আসলে ওমাক দিছিল খাবার। যেইগল্যা আনছে-বাড়ছে ওইগল্যা দিছে। নুকিনুকি দিছে। গোসল কইরবার গেইলেও গলাখান বাড়ির দিকতয়ে থুছিস। ছাওয়াক কছিস, যাইস না বাড়িত, সোগে দিয়া দিবার নাগছে। যা, বাড়িত যা ক্যানে। প্যাটত ত্যালমাখি অইদত শুতি থাকিস। কান্দিস। কইস, মোর প্যাটখান ব্যথায় ছিড়ি যাবার নাগছে। ডাক্তারের কাছত নিয়া গেনু। মুই নিজে হাসপাতালত আছনু কতদিন। ইদের দিনত মুই বউ-বাচ্চা ছাড়ি হাসপাতালত থাকি ওমার সেবা করোং। অমজান মাসত না খায়া ওযা আখং। ভালো হয়া আসি কইস, মোর প্যাট কাটা নাগিল না হয়। জোর করি প্যাট কাটি কতগুইলা ট্যাকা খরচা করিল। মোর ট্যাকা দিয়া অয় সইস্যা আবাদ করে। মোর ট্যাকাগুইলা উইয়ারঘরত। তোর বেটা-বেটি নাঠি নিয়া বাইর হইছে মোক মাইরবার। প্যাট না কাটলে ফুটি গেলু হয় কবে। অ্যালাও দুনিয়াত বাঁচি আছিস হামার সেবা আর আল্লার অহমতে। অ্যালা মোর ব্যাটাক এইগল্যা কইস।

কি হইল তমিজের বাপ, তোমরা কাক কি কন?

কিছু না। ভাত হইছেরে বউ?

হইছে। খাইমেন কিদি? কাইলকা তরকারি আইনবার কনু বেশি করি। আনছেন অল্প চাইট্টা। আইতোতে শ্যাষ। সকালত কি খাই? আইলত থাকি কচু আইনবার গেনু যায়া দেখং কায় জানি তুলি নিছে।

যা আছে নিয়া আইসেক।

এইদোন করি খায়া যাইমেন কুটে?

আগত খাবার দেতো, কুটে যাইম জাইনবারে তো পাবু।

কইলে কি হয়?

না শুনি ছাইড়বার নইস, এই কথা তো ভুলি গেছনু। শোনেক, আইনুদ্দিন চাচার বাড়িত যাইম।

এইটা কি এমন গোপন আখার কথা যে, কইতে এতো ঢং কননেন।

ভুল হইছে বউ, মাপ করেক।

গাও জ্বালা কথা খুব কবার পান। অ্যাটে মাপ-টাপের কি হইল?

চাইট্টা খাং। পরে আবার কথা কইম অ্যালা।

ও বাহে আইনুদ্দিন চা, বাড়িত আছেন?

কায়, মুই মোখলেস।

ও। কি মনে করি এতো সকালত?

বাপ মরি যাবার পর তোমরায় তো হামার গারজিয়ানের মতো আছেন। বাপের কত বন্ধু আছিল। কই কাকো তো অ্যালা খুজি পাং না। খালি তোমাকে পাং। কাইলক্যা দোয়ানি বাজারত গেছনু। যায়া দেখোং মাইক হাতে কথা কওয়া নোকটা সবাকে খিচুড়ি আর মুড়ি খাওয়াবার নাগছে।

হয়, মওলাও এই কথা কয়া গেইল অল্পেকনা আগত। কাইলকা বিকালত হাবিবুরের বাড়িত হাওকাউ শুননু। কি হছিল কবার পাইস?

মুই কাইল বাজার থাকি আসি বাড়িওয়ালীরটে শুনং অয় ট্যাকার বদনা পাওয়া নিয়া কামলার সাথে ক্যাচাল করছে। পরে চেরমেন আসি বিচার করিল।

ট্যাকার বদনা কুটে পাইল?

উইয়ার ভিটাত পাইছে। প্যাচটা নাগে যখন অয় যায়া একটা পাইসা পায়, আর মাটিত বদনার দাগ পায়, তখনে। হাবিবুর চাইরদিন ভাড় দিয়া মাটি কাটছে। অয় হাফসি গেইলে কামলা নেয়। যেদিন কামলা নেইল ওইদিনে বদনাখান বাইর হয়। ওইটা উইয়ার য়িযিকত নাই। ওইজন্যে আল্লা মত ঘুরি কামলারঘরের দিকত নিছে। হাবিবুর অটে গেইলে, কামলারঘর কইছে, গাছত থাকি দুইটা সুপারি পারি আনেন ক্যানে। সুপারি আনার পর কয়, খালি সুপারি খোয়াইমেন, পান খোয়াবার নন? অয় বাড়িত আসছে পানের জন্যে, যায়া দেখে কায়ো নাই। কামলারঘর ট্যাকার বদনা নিয়া চলি গেইছে। নিবার সময় বদনা থাকি একটা পাইসা পড়ি গেইছে। ওইটা পায়া হাবিবুরের মাথা ঘুরি গেইল। অয়তো ঠাওর কইরবার পায়া ওমার চাইরপাকে ঘুরাফিরা কইরবারে নাগছিল আগত থাকিয়া। আসল সময়ত থাইকপার পাইল না। উইয়ার কিসমতত নাই। ফসকি গেইল বদনাখান।

এইজন্যে, হাবিবুরক দেখনু বানিয়ার দোকানত যাওয়া আইসা করতে। শোনেক, এইগল্যার নোভ করা ভালো নোয়ায়। ইয়ার চায়া কর্ম করি খাওয়া ভালো। ওইটা যার জন্যে থোয়া অয়ে পায়। পায় নিজের ম্যালা ক্ষতি করি। এইগল্যা জ্বিন-ভূতের আছড় হওয়া জিনিস। মাটির তলার জিনিসত যায় দিছে চোখ অয় হইবে জমের ভোগ।
চাচা, মুই যাং আইজক্যা।
যা, আবার আসিস।

চলবে…
তিস্তা: পর্ব-৩॥ হারুন পাশা

চিন্তাসূত্রে প্রকাশিত কোনও লেখা পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ।


কোন মন্তব্য নাই.

লেখাটি সম্পর্কে আপনার মন্তব্য লিখুন