চন্দনকৃষ্ণ পালের একগুচ্ছ ছড়া | চিন্তাসূত্র
৪ মাঘ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ | ১৭ জানুয়ারি, ২০১৯ | দুপুর ২:৫২

চন্দনকৃষ্ণ পালের একগুচ্ছ ছড়া

Chandan-chintasutra
ভোট

১.
ভোট এলে কার
কপাল থেকে
হাত নামেনা,
সকাল দুপুর
সন্ধ্যে বিকেল
পা থামেনা।
২.
মুখটা কেবল
হাসতে থাকে
ইচ্ছে মতো,
চাচা-মামা
গ্রামের লোক
আছেন যতো।
৩.
ভোট এলে কার
পিছু ছোটে
ছেলে পেলে,
সাদা কালো
টাকা ছড়ান
দুহাত মেলে।
৪.
ভালো মানুষ
সাজেন সাদা
পাঞ্জাবিতে,
মুখে তুলেন
ফেনা, ভাষণ
দিতে দিতে।

তিনি-৩

তিলকে তিনি তাল করতেই
ভালোবাসেন বেশি,
বাঁকা কথা বললে তো কেউ
দেখান হাতের পেশি।

গপ্পো গাঁথায় জমান ভালো
আড্ডা বাজের আসর,
কাব্যে ভালো জ্ঞান না হলেও
বসান কাব্য বাসর।

ভাষণ ছাড়েন নরম গরম
রসও ছড়ান সঙ্গে
কথা বলেন উঁচু গলায়
যাত্রা পালার ঢঙ্গে।

গোঁফ রেখেছেন ইয়া মোটা
লম্বা মাথার চুল,
কাজের কথা বললে চোখে
দেখেন সর্ষে ফুল।

স্বপ্ন ছিল

সবুজ ধানে মাঠ ভরেছে
মনের ভেতর গান
পুরান বাড়ির গাছে গাছে
লতায় ভরা পান।

ধান উঠবে পান উঠবে
স্বপ্ন ছিলো এই
অঘ্রানে আজ তাকিয়ে দেখি
ওসব কিছুই নেই।

মহাজনের ঋণের টাকা
হয়নি তবু শোধ
অন্ধকারে ডুবে আছি
কোথায় সোনারোদ।

নুন-পান্তা

নুন-আনতে পান্তা ফুরোয়
পান্তা আনতে নুন
মহাজনের সুদের টাকা
হলোরে তিনগুণ।

জমি গেল বাড়ি গেল
কিছুই এখন নাই
নাইতো এখন এই চাষীটির
মাথা গোঁজার ঠাঁই।

মহাজনে দৈ দেখিয়ে
খাওয়ায় জেনো চুন
নুন আনতে পান্তা ফুরোয়
পান্তা আনতে নুন।

চাষি

রক্তে ঘামে মাটি ভেজায়
বাংলাদেশের চাষি
ফুল ফসলে মাঠ ভরে তাও
চাষীই উপবাসী।

রক্ত ঘামের ফসলে তার
নাইতো কোনো দাবি,
মহাজনের হাতে থাকে
চাষীর বাঁচার চাবি।

সর্ষে ফুলের ভেতর নাকি
থাকে ভূতের ছাও,
সে ভূতেরাই বেয়ে চলে
উন্নয়নের নাও।

মন্তব্য

চিন্তাসূত্রে প্রকাশিত কোনও লেখা পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ।


কোন মন্তব্য নাই.

লেখাটি সম্পর্কে আপনার মন্তব্য লিখুন