আজ ৫ সেপ্টেম্বর, আজ আব্দুল আলীমের মৃতুবার্ষিকী | চিন্তাসূত্র
৯ চৈত্র, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ | ২৩ মার্চ, ২০১৯ | সকাল ৬:৪১

আজ ৫ সেপ্টেম্বর, আজ আব্দুল আলীমের মৃতুবার্ষিকী

মুগ্ধ শ্রোতা
আব্দুল আলীম, জন্ম, জুলাই ২৭, ১৯৩১; মৃত্যু- সেপ্টেম্বর ৫, ১৯৭৪

আব্দুল আলীম ( জুলাই ২৭, ১৯৩১-সেপ্টেম্বর ৫, ১৯৭৪)

আজ ৫ সেপ্টেম্বর। আজ মরমি শিল্পী আব্দুল আলীমের মৃত্যুবার্ষিকী। ১৯৭৪ সালের আজকের এই দিনে এই কিংবদন্তি শিল্পী মৃত্যু বরণ করেন। তাঁর জন্ম ১৯৩১ সালের ২৭ জুলাই পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদের তালিবপুর গ্রামে।

শৈশব থেকেই ছিলেন সঙ্গীতের প্রতি প্রবল অনুরাগী। প্রাইমারি স্কুলে পড়বার সময় গ্রামোফোন রেকর্ডে গান শুনেই গান গাওয়ার জন্য আগ্রহী হয়ে ওঠেন তিনি। ছোটবেলায় তাঁর সঙ্গীত গুরু ছিলেন সৈয়দ গোলাম আলী। ওই অল্প বয়সেই বাংলার লোক সঙ্গীতের এই অমর শিল্পী গান গেয়ে নাম করেছিলেন। মাত্র তেরো বছর বয়সে ১৯৪৩ সালে তাঁর গানের প্রথম রেকর্ড হয়। রেকর্ড করা গান দুটি হলো ‌‌‌‌‌‌‘তোর মোস্তফাকে দে না মাগো’ ও ‘আফতাব আলী বসলো পথে’।

পরবর্তীকালে কলকাতায় আব্বাসউদ্দিন ও কাজী নজরুল ইসলামের সঙ্গে সাক্ষাৎ ঘটে তার। সেখানে এই দুজনের সঙ্গে কাজও করেছেন। লোক-শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের ওপর দীক্ষা নিয়েছেন বেদার উদ্দিন আহমেদ, ওস্তাদ মোহাম্মদ খসরু, মমতাজ আলী খান, আব্দুল লতিফ, কানাই লাল শীল, আব্দুল হালিম চৌধুরীর কাছে।

১৯৪৭-এর দেশ বিভাগের পরে আব্দুল আলীম ঢাকায় চলে আসেন। ঢাকায় রেডিওর স্টাফ আর্টিস্ট হিসেবে যোগ দেন। এরপর টেলিভিশন সেন্টার চালু হলে সেখানেও সঙ্গীত পরিবেশন শুরু করেন।

বাংলাদেশের প্রথম চলচ্চিত্র ‘মুখ ও মুখোশ’সহ বিভিন্ন বাংলা চলচ্চিত্রে আব্দুল আলীম গান করেছেন। সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্রটি হলো ‘লালন ফকির’। সব মিলিয়ে প্রায় ৫০০টির মতো গান রেকর্ড হয়েছিল তাঁর। আব্দুল আলীম তাঁর আধ্যাত্মিক ও মরমি গানের জন্য অমর হয়ে থাকবেন। তাঁর অবিস্মরণীয় কিছু গান—‘নাইয়া রে নায়ের বাদাম তুইলা; ‘সর্বনাশা পদ্মা নদী; ‘হলুদিয়া পাখী’; ‘মেঘনার কূলে ঘর বাঁধিলাম’; ‘এই যে দুনিয়া’; ‘দোল দোল দুলনি’; ‘দুয়ারে আইসাছে পালকি’; ‘কেন বা তারে সঁপে দিলাম দেহ মন প্রাণ’; ‘মনে বড় আশা ছিল যাবো মদীনায়’ ইত্যাদি।

এখানে উল্লেখযোগ্য কয়েকটি গানের লিঙ্ক দেওয়া হলো: https://www.youtube.com/watch?v=keO32zdtbZY

এই মরমি শিল্পী সম্পর্কে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মূল্যায়ন করেছেন কবি ও গবেষক আসাদ চৌধুরী। তাঁরমতে, ‘সমাজটকে যাঁরা জাগিয়েছেন, আব্দুল আলীম তাঁদের একজন’। পেশাগত জীবনে আবদুল আলীম ছিলেন ঢাকা সঙ্গীত কলেজের লোকগীতি বিভাগের অধ্যাপক।

সঙ্গীতে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ পেয়েছেন একুশে পদক, পূর্বাণী চলচ্চিত্র পুরস্কার এবং বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সাংবাদিক সমিতি পুরস্কার।

মন্তব্য

চিন্তাসূত্রে প্রকাশিত কোনও লেখা পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ।


কোন মন্তব্য নাই.

লেখাটি সম্পর্কে আপনার মন্তব্য লিখুন